RSS

ডিলেট “স্বদেশ বাংলার” ব্লগ

আসসালামুআলাইকুম,

                 সবাইকে নববর্ষের শুভেচ্ছা। স্বদেশ বাংলা ব্লগে যারা যারা সাবস্ক্রাইব হয়েছেন সাবাইর কাছে অনুরোধ আপনারা যদি “স্বদেশ বাংলার” মত ইমেইলের মাধ্যমে নিয়মিত পোষ্ট গুলি পেতে চান অনুগ্রহ করে “মামুন মল্লিক এই ব্লগে পুনরায় আবার সাবস্ক্রাইব করবেন। কারণ কিছু দিনের মধ্যে স্বদেশ বাংলা ডিলেট করে হয়ে যাবে। স্বদেশ বাংলা ব্লগের সব ডাটা “মামুন মল্লিক” ব্লগে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। আপনাদের সাময়িক এই সমস্যার জন্য আমি আন্তরিক ভাবে দুখি:ত।

 

ধন্যবাদন্তে

মামুন মল্লিক

 

Advertisements
 

ফতোয়ার প্রাতিষ্ঠানিক মর্যাদা

ফতোয়া ইসলামের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। উম্মাহ ও এর সদস্যদের নানামুখী সমস্যা ও বিভিন্ন সময়ে উত্থাপিত প্রশ্নগুলোর সঠিক ও সময়োচিত সমাধানে এটি একটি চলমান ব্যবস্থা। এ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জাতির বিশেষজ্ঞ পণ্ডিতরা (আলেমরা) তাদের মেধা, প্রজ্ঞা ও গবেষণার মাধ্যমে জীবন চলার পথে নানা সমস্যা ও প্রতিবন্ধকতা প্রতিকারের মাধ্যমে জাতির স্বাভাবিক চলার পথকে করে তোলেন স্বাচ্ছন্দ্য ও সাবলীল।

ফতোয়া শব্দের অর্থ জিজ্ঞাসার জবাব দেয়া, কোনো বিষয়ে অভিমত দেয়া, সসম্যার সমাধান দেয়া, উপদেশ দেয়া, পরামর্শ দেয়া, Formal legal opinion বা বিধিবদ্ধ আইনি অভিমত ইত্যাদি। যিনি এসব জিজ্ঞাসার জবাব দেন বা কোনো বিষয়ে আইনসঙ্গত অভিমত দেন বা দেয়ার যোগ্যতা রাখেন, তাকে মুফতি বলা হয়। মুফতির সংজ্ঞা দিতে গিয়ে প্রসিদ্ধ আরবি অভিধান আল মুনজিদে বলা হয়েছে­ ‘মুফতি হলেন সেই ফকিহ বা বিশেষজ্ঞ ব্যক্তি, যিনি ফতোয়া দিয়ে থাকেন এবং শরিয়ত সংশ্লিষ্ট যেসব মাসয়ালা­মাসায়েল তার ওপর আরোপিত হয়, তার জবাব দেন।’ john Milton Cowan মুফতি অর্থ করেছেন Deliverer of formal legel opinions, official expounder of Islamic law  ‘বিধিবদ্ধ আইনি অভিমত প্রদানকারী,’ ইসলামী আইনের অফিসিয়াল বা দায়িত্বশীল ব্যাখ্যা দানকারী।

ফতোয়ার প্রয়োজনীয়তাঃ ফতোয়া ইসলামী বিধানের অপরিহার্য অঙ্গ। ইসলাম থেকে ফতোয়াকে আলাদা করার কোনো সুযোগ নেই। মুসলমানদের ব্যক্তি, সমাজ ও সামাজিক জীবনের সর্বত্রই ফতোয়ার প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। কারণ ইসলাম এমন এক জীবনবিধান, যেখানে জীবন যাপন করতে হয় আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রদত্ত বিধান অনুযায়ী। এ জন্য প্রতিটি ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বিষয়ের বিধান কী তা জানা আবশ্যক। প্রতিটি বিষয়ে বিধান জ্ঞান যেহেতু সবার থাকে না, সেহেতু তা জানার জন্য সংশ্লিষ্ট বিষয়ে যিনি বিশেষজ্ঞ তাকে জিজ্ঞেস করে জেনে নিয়ে তা আমল করতে হয় বা বাস্তবায়ন করতে হয়। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন, ‘যদি কোনো বিষয়ে তোমরা অবগত না থাকো, তাহলে জ্ঞানীদের জিজ্ঞেস করে জেনে নাও।’ (আন নাহলঃ ৪৩)।

রাসূল সাঃ ইরশাদ করেন, ‘আমার কাছ থেকে একটি আয়াত হলেও তা অন্যের কাছে পৌঁছে দাও।’ কুরআন নাজিলের সময় কোনো বিষয়ে ফতোয়া জিজ্ঞেস করা হলে ক্ষেত্রবিশেষে আল্লাহ নিজেই ফতোয়া দিয়েছেন। কুরআন কারিমে বলা হয়েছে, ‘লোকেরা আপনার কাছে ফতোয়া চায়, আপনি বলে দিন, আল্লাহ তোমাদের কালালা (পিতা-মাতাহীন ও নিঃসন্তান উত্তরাধিকার) সম্পর্কে ফতোয়া দিচ্ছেন।’ (নিসাঃ ১৭৬)।

‘লোকেরা আপনাকে নারীদের ব্যাপারে ফতোয়া জিজ্ঞেস করে, আপনি বলে দিন, আল্লাহই তাদের ব্যাপারে ফতোয়া দিচ্ছেন।’ (নিসাঃ ১২৭)।

ফতোয়াদান একটি চলমান প্রক্রিয়া। মানবসমাজ যত দিন থাকবে এর প্রয়োজনীয়তাও তত দিন থাকবে। কোনো সমস্যা সৃষ্টি হলে বা কোনো বিষয়ে অস্পষ্টতা ও দ্বিধাদ্বন্দ্ব দেখা দিলে তার সমাধান ও সংশয় নিরসনের জন্য অন্যকে জিজ্ঞেস করা মানুষের স্বাভাবিক প্রবৃত্তি। সাধারণ মানুষ তো বটেই, এমনকি আদালতও কোনো বিষয়ে স্পষ্ট হওয়ার জন্য ‘এমিকাস কিউরি’ নিয়োগ করে তাদের কাছ থেকে ফতোয়া নিয়ে থাকেন।

সুতরাং ফতোয়ার প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য এবং এর বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়া আল্লাহর রাসূল, সাহাবায়ে কেরাম, তাবেঈন, তাবে তাবেঈন, আয়িম্মায়ে মুজতাহিদীন এক কথায় ইসলামের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়ার শামিল এবং মানব প্রকৃতি ও আইনের স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়ারও শামিল।

ফতোয়ার হুকুমঃ ফতোয়া ফরজে কিফায়া। একদল বিশেষজ্ঞ আলেমকে এ কাজে নিয়োজিত থাকা বা রাখা জরুরি। কারণ মুসলমানদের সামনে প্রতিনিয়ত দ্বীনি বিধিবিধানের ব্যাপারে বিভিন্ন প্রশ্ন ও সমস্যার অবতারণা হয়ে থাকে, যার জবাব দেয়ার জন্য ফতোয়া দানে পারদর্শী একদল আলিমের নিয়োজিত থাকা প্রয়োজন। আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন, আর স্মরণ করো সে সময়ের কথা, যখন আল্লাহ আহলে কিতাবদের কাছ থেকে অঙ্গীকার গ্রহণ করলেন যে, তোমরা তা (আল্লাহর বাণী) মানুষের কাছে বর্ণনা করবে এবং কখনোই তা গোপন করবে না। (আলে ইমরানঃ ১৮৭)।

রাসূলুল্লাহ সাঃ ইরশাদ করেন, ‘যে ব্যক্তিকে কোনো জ্ঞান সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হয়, তারপর সে যদি তা গোপন করে, তাহলে কিয়ামতের দিন তাকে জাহান্নামের একটি লাগাম পরিয়ে দেয়া হবে।’ (তিরমিজি)।

যে ব্যক্তি অজ্ঞ, কোনো বিষয়ের হুকুম সম্পর্কে অবগত নয়, তার ওপর ওয়াজিব হলো জিজ্ঞেস করে জেনে নেয়া। কারণ শরিয়তের হুকুম পালন করা তার জন্য আবশ্যক।

যারা কুরআন ও হাদিস থেকে দলিল-প্রমাণ উপস্থাপনে পারদর্শী, সমস্যা সমাধানে দক্ষ, ইজতিহাদ তথা চিন্তা-গবেষণা করে মাসয়ালা-মাসায়েল চয়নে সক্ষম তাদের ফতোয়াদানের কাজে নিয়োজিত করতে হবে। প্রতিটি রাষ্ট্রেই একদল মুফতি নিয়োগ করা আবশ্যক, যারা জনগণকে বিভিন্ন মাসয়ালার সমাধান দেবেন এবং যাদের কাছে জনগণ প্রশ্নাদি তুলে ধরবেন। এ ক্ষেত্রে শাফেয়ি মাজহাবের ইমামরা একটি নির্দিষ্ট দূরত্বে মুফতি নিয়োগের পক্ষে মত দিয়েছেন।

এ আলোচনা থেকে প্রতীয়মান হয়, ফতোয়াকে অস্বীকার করা বা নিষিদ্ধ করা ফরজকে অস্বীকার বা নিষিদ্ধ করার শামিল। আর যারা ফরজকে অস্বীকার বা অমান্য করে, ইসলামের দৃষ্টিতে তাদের হুকুম কী, তা সবারই জানা। নিষিদ্ধ করা তো দূরের কথা, কোনো মুসলমান ফতোয়াকে অস্বীকার বা অমান্যও করতে পারে না। সুতরাং জনগণ যাতে সহজেই ফতোয়া পেতে পারে তার ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। এ জন্য প্রতি জেলা-উপজেলায় প্রয়োজনীয় সংখ্যক মুফতি নিয়োগ করা জরুরি। আর এ কাজটি মুসলিম দেশের সরকারের দায়িত্ব বিধায় সরকারকে এর পদক্ষেপ নেয়া উচিত। প্রয়োজনীয় সংখ্যক দক্ষ ও যোগ্য মুফতি নিয়োগের পর অযোগ্য ও অদক্ষ লোকেরা যাতে ফতোয়া না দিতে পারে, তার ব্যবস্থা করা যেতে পারে। এতে ভুল ফতোয়া এবং ফতোয়ার অপপ্রয়োগ থেকে জনগণকে নিরাপদ রাখা সম্ভব হবে। তা না করে সাধারণভাবে ফতোয়াকে নিষিদ্ধ করা হলে সমস্যা আরো বৃদ্ধি পাবে।

হাতুড়ে ডাক্তারের কাছে রোগী নিরাপদ নয়, এমনকি তার কাছে রোগীর মৃতুøর আশঙ্কাও রয়েছে। কিন্তু এ জন্য চিকিৎসাকে নিষিদ্ধ করা যুক্তিযুক্ত নয়, বরং এ জন্য প্রয়োজন দক্ষ ডাক্তারের ব্যবস্থা করা। দক্ষ ডাক্তারের ব্যবস্থা না করে চিকিৎসাকে নিষিদ্ধ করা বা হাতুড়ে ডাক্তারের কাছে চিকিৎসা নিষিদ্ধ করা হলেও কোনো লাভ হবে না। কারণ একজন গুরুতর অসুস্থ রোগী যখন ভালো ডাক্তার না পায় তখন বিপদের সময় সে হাতুড়ে ডাক্তারের শরণাপন্ন হতেই বাধ্য হবে। ঠিক তেমনি যোগ্য মুফতির ব্যবস্থা না করে ফতোয়াকে নিষিদ্ধ করলে বা অযোগ্য লোকের কাছ থেকে ফতোয়া নেয়াকে নিষিদ্ধ করলেও কোনো লাভ হবে না। কারণ গুরুতর প্রয়োজনের সময় ভুক্তভোগী ব্যক্তি তার সমস্যা সমাধানের জন্য কারো না কারো কাছে যাবেই। সুতরাং ফতোয়াকে নিষিদ্ধ না করে বিধিবদ্ধ করা প্রয়োজন। এ জন্য আদালত এবং সরকারের কাছে আমাদের আবেদন নিকাহ রেজিস্ট্রার বা কাজী নিয়োগের অনুরূপ ইসলামী জনতার নিত্যপ্রয়োজনীয় সমস্যাবলির সঠিক সমাধানকল্পে প্রয়োজনীয় সংখ্যক দক্ষ মুফতি নিয়োগ করা হোক।

এখানে আরো একটি বিষয় লক্ষণীয় যে, ফতোয়া এবং বিচারকাজ এক জিনিস নয়। ফতোয়া হলো আইনের ব্যাখ্যা করা বা আইনি মতামত ও পরামর্শ দেয়া, যা বর্তমানে অ্যাডভোকেট বা আইনজীবীরা দিয়ে থাকেন। অর্থাৎ কোনো বিষয়ের হুকুম জানতে চাইলে মুফতির দায়িত্ব হলো তা জানিয়ে দেয়া। তার আলোকে দণ্ড দেয়া বা বিচার করা হলো আদালতের কাজ।

অনেকেই ফতোয়াকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করে থাকেন এবং ‘ফতোয়াবাজ’ প্রভৃতি শব্দ প্রয়োগ করে মুফতি ও আলেমদের তুচ্ছজ্ঞান ও উপহাস করে থাকেন। তাদের জানা উচিত, ফতোয়া, মুফতি প্রভৃতি ইসলামের পবিত্র ভাবধারাসমৃদ্ধ পরিভাষা। ফতোয়া দান কোনো তুচ্ছ কাজ নয়, বরং এটি অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ কাজ। এ কারণে মুফতিও অত্যন্ত মর্যাদার অধিকারী। কারণ এ কাজ স্বয়ং আল্লাহ করেছেন (আগে এসংক্রান্ত কুরআনের আয়াত উল্লেখ করা হয়েছে) এবং তাঁর রাসূলকে এ কাজের নির্দেশ দিয়েছেন। আল কুরআনে বলা হয়েছে, আমি আপনার প্রতি স্মারক (কুরআন) অবতীর্ণ করেছি, যাতে আপনি লোকদের সেসব বিষয়ে সুস্পষ্ট বর্ণনা দেন, যা তাদের প্রতি নাজিল করা হয়েছে, আর যাতে তারা চিন্তাভাবনা করতে পারে।’ (আলে ইমরানঃ ১৭৬)। মূলত ফতোয়ার মাধ্যমে মুফতিরা মহান আল্লাহর বিধানকেই মানুষের কাছে বর্ণনা করেন। ইমাম আল কারাফি রহঃ মুফতিকে আল্লাহর মুখপাত্রের সাথে তুলনা করেছেন। আল্লামা ইবনুল কায়িম মুফতিকে মন্ত্রীর মর্যাদায় স্থান দিয়ে তিনি রাষ্ট্রপ্রধানের পক্ষ থেকে স্বাক্ষর করেন বলে মত দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘যদি রাষ্ট্রপ্রধানের পক্ষ থেকে স্বাক্ষর করা সম্মান ও মর্যাদার বিষয় হয়, তাহলে মহান আল্লাহর পক্ষে স্বাক্ষর করা কতই না সম্মান ও মর্যাদার।’ সুতরাং এসব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য বা উপহাস করা সম্পূর্ণ ঈমানপরিপন্থী কাজ।

 
মন্তব্য দিন

Posted by চালু করুন এপ্রিল 14, 2011 in ইসলাম

 

অন্ধত্ব প্রতিরোধে ভিটামিন

কয়েকটি ভিটামিনের মিশ্রণ বা ভিটামিন ককটেল বয়স্কজনিত চোখের অন্ধত্ব প্রতিরোধে সহায়তা করে বলে জানিয়েছেন আমেরিকার এক দল বিশেষজ্ঞ। গবেষকরা বলেছেন, ভিটামিনের এই ককটেল আগামী পাঁচ বছরে অন্তত তিন লাখ বয়স্ক লোককে অন্ধত্বের কবল থেকে মুক্ত করবে। আমেরিকায় প্রতি পাঁচ বছরে প্রায় ১৩ লাখ লোক নতুন করে বয়স্কজনিত চোখের অন্ধত্ব বা এজ রিলেটেড মেকুলার ডিজেনারেশন বা এএমডিতে আক্রান্ত হন। তাদের মধ্যে ৫৫ বছর বয়স্ক প্রায় আট লাখ রোগী খুবই ঝঁুকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছেন, যাদের এই ককটেল ভিটামিন গ্রহণ করা উচিত বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এএমডিজনিত অন্ধত্ব সাধারণত ৬৫ বছর বয়সেই বেশি দেখা দিয়ে থাকে। এই সমস্যায় আক্রান্ত রোগীদের রক্ষার জন্য প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবে বিশেষজ্ঞরা ককটেল ভিটামিন ব্যবহার করে প্রায় অর্ধেকের ক্ষেত্রেই সফলতা পেয়েছেন। দ্য আকাইভস অব অফথালমোলজি জার্নালে প্রকাশিত তথ্যানুযায়ী বিশেষজ্ঞরা এই সমস্যার জন্য ককটেল ভিটামিন হিসেবে ভিটামিন সি, ই, বিটা ক্যারোটিনসহ জিংক এবং জিংক অক্সাইড ব্যবহার অনুমোদন করেছেন। মেরিল্যান্ডের বাল্টিমোরে জন হপকিন্স মেডিক্যাল ইনস্টিটিউটে পরিচালিত এই গবেষণায় নেতৃত্ব দিয়েছেন নেইল ব্রেসলার।

 
মন্তব্য দিন

Posted by চালু করুন এপ্রিল 14, 2011 in সাস্থ্য

 

গান-বাদ্য ও এর সামাজিক কুপ্রভাব

গত কয়েক বছরে নাচ-গানের চর্চা অকল্পনীয় মাত্রায় বেড়েছে। দেশে যেখানে শিক্ষা-গবেষণা ও সুনাগরিক তৈরিতে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি নেই, পর্যাপ্ত বিনিয়োগ নেই, সেখানে চরিত্রবিধ্বংসী নাচ-গানের পেছনে অনুদান বা বিনিয়োগ তথা আগ্রহের অন্ত নেই। যেখানে রোজই চিকিৎসার অর্থ না পেয়ে মৃত্যুর জন্য প্রহরগোনা অসহায় মানুষের করুণ মুখ পত্রিকায় ছাপা হয় সেখানেই বহুজাতিক কোম্পানি ও বড় বড় ব্যবসায়িক ইন্ডাস্ট্রিগুলো তাদের উপার্জিত অর্থের অনেকটাই ঢালে নৃত্য ও সঙ্গীতের পেছনে! এখনো যেখানে  বিরাটসংখ্যক মানুষের বাস দারিদ্রসীমার নিচে, আজো যারা পেটের আগুন নেভাতে গিয়ে নিজের ঈমান পর্যন্ত বিকিয়ে দিতে বাধ্য হয়, সেখানকারই একশ্রেণীর নাগরিক নির্দ্বিধায় পঞ্চাশ হাজার টাকায় কেনে এক সন্ধ্যার কনসার্টের টিকেট! যেখানে ধর্মীয় শিক্ষা বাধ্যতামূলক নয়, সেখানে আবার অনেক কিন্ডারগার্টেনে নিষ্পাপ শিশুদের নৃত্য ও সঙ্গীত শেখা বাধ্যতামূলক! আমরা যে আজ নাচ-গানে কতটা মেতেছে তা প্রমাণে বোধ হয় আর কিছু বলার দরকার নাই। তারপরও খানেকটা ইঙ্গিত দেয়া যাক।

আসলে বাঙের ছাতার মতো যত্রতত্র গজিয়ে ওঠা টিভি চ্যালেনগুলোই নিজেদের জনপ্রিয়তা বাড়াতে নীতি-নৈতিকতা বিসর্জন দিয়ে নেমেছে মুসলিম সমাজকে গানে মাতাল বানাতে। তাদের সঙ্গে যোগ দিয়েছে নীতি ও  আদর্শ বিবর্জিত মুনাফাগৃধ্নু ব্যবসায়ী কোম্পানিগুলো। ‘ক্লোজ আপ নাম্বার ওয়ান’, ‘গাও বাংলাদেশ গাও’, ‘ক্ষুদে গানরাজ’, ‘নির্মাণশিল্পীদের গান’, গার্মেন্ট শ্রমিকদের গান’, ‘শাহরুখ খান লাইভ ইন কনসার্ট’, ‘ডেসটিনি ট্রাইনেশন বিগ শো’ ইত্যাদি চটকদার সব শিরোনামের আড়ালেই রয়েছে এ দুই শ্রেণীর বস্তুগত উদ্দেশ্য।

মিডিয়ার অকল্পনীয় উন্নতির সুবাদে দেশের বৃহত্তর জনগোষ্ঠীই মাতাল আজ এসব আয়োজনকে ঘিরে। দুঃখজনক সত্য হলো এসবে শুধু তরুণ প্রজন্মই মেতে নেই, মেতে আছেন একশ্রেণীর অপরিণামদর্শী অভিভাবক মহলও। নাচ-গান শেখানোর পেছনে নিজেদের কষ্টার্জিত অর্থ যদি তারা না ঢালেন, তবে তো নৃত্য-সঙ্গীতের স্কুলগুলো এত রমরমা ব্যবসা করতে পারে না। ইদানীং বিশ্বে অনেক কিছু নিয়েই জরিপ চালানো হয়। নাচ-গানে বিনিয়োগ-আত্মনিয়োগ নিয়ে যদি কোনো জরিপ পরিচালিত হয় তবে বাংলাদেশের মতো একটি গরিব দেশের নাম যে ওই তালিকার অন্যতম শীর্ষস্থানে থাকবে তাতে  সন্দেহের কিছু নেই।

এতসব আয়োজন ও আয়োজকদের বদান্যতায় এ জাতি এতটাই মেতেছে, দারিদ্রের কষাঘাতে জর্জর এ জাতি এতটা মাতাল হয়েছে যে ধনী-গরিব, শিক্ষিত-অশিক্ষিত নির্বিশেষ কোনো শ্রেণীর মানুষই গানের জোয়ারে গা না ভাসিয়ে বসে থাকছে না। আর সে জোয়ারেই ভেসে যাচ্ছে তরুণ প্রজন্মের নীতি-আদর্শ ও কাম্য সচ্চরিত্র। যে ইভটিজিং ও যৌন অপরাধের ব্যাপক বৃদ্ধিতে এ দেশের চিরসবুজ শান্তির নিবাসগুলোতে জ্বলছে অশান্তির কালো আগুন তার অনেকখানি দায় এসব নাচ-গানকেন্দ্রিক আয়োজনের। অবৈধ ভালোবাসা আর ভোগ জীবনের আহ্বানে সদা সরব এসব গান কাউকে স্বস্তি দিচ্ছে না। বরং তরুণ প্রজন্মের হৃদয়ে পাপের আগুনে ঘি ঢেলে দিচ্ছে।

এমন কোনো স্থান নেই যেখানে গেলে গানের আযাব থেকে সম্পূর্ণ পরিত্রাণ মেলে। ঘরে বলেন বা বাইরে, পথে বলেন কিংবা যানবাহনে— সর্বত্র ওই কানে অগ্নিবর্ষণকারী গানের আওয়াজ। বাসায় ঘুমিয়ে, পড়াশোনা করে এমনকি পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত করতে গিয়েও নিস্তার নেই এই গানের অশ্রাব্য আওয়াজ থেকে। ঘর থেকে বের হলেন তো সেরেছে। কোথায় যাবেন দোকানে? সেখানেও কিন্তু গানের উপকরণের অভাব নেই। হেঁটে পথ পাড়ি দেবেন? সেখানেও দেখবেন মোবাইলে সজোরে গান শুনতে শুনতে কেউ না কেউ পথ চলছে। আর বাস বা যানবাহনের কথা তো বলাইবাহুল্য। বড় পরিতাপের বিষয় হলো একমাত্র নিরাপদ স্থান আল্লাহর ঘর মসজিদেও এই অভিশপ্ত গানের আওয়াজ ইদানীং কানে আসছে। অসচেতন কিছু মুসল্লী তাদের মোবাইলের রিংটোন হিসেবে গান ব্যবহার করায় এমনটি হচ্ছে। একজন মুসল্লী কিভাবে নিজের ছায়াসঙ্গী এই মোবাইল রিংটোন বানান গানকে তা কিছুতেই বোধগম্য নয়!

কেবল সংবাদ শোনা কিংবা নিছক ক্রিকেট খেলা দেখার অজুহাতে যারা অপছন্দকে সঙ্গী করেই কদাচিৎ টিভি দেখেন, তারাও আজ বিপদে। এসবের ফাঁকে বিজ্ঞাপনগুলোতে নাচ-গানের এমন দৃষ্টিকটু অনুপ্রবেশ থাকে যা তাদের মতো ‘স্বল্পপুঁজির’ ঈমানদারদেরও টিভির সামনে ঘেঁষতে দ্বিধান্বিত করে।

আসলে নাচ-গানের ক্ষতিকারিতা এত বেশি যে তা নাজায়েয হওয়ার জন্য আলাদা কোনো প্রমাণের দরকার পড়ে না। তদুপরি মহান আল্লাহ ও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বহু ভাষ্য থেকে তা হারাম হওয়া প্রমাণিত। যেমন :  আল্লাহ তা’আলা ইরশাদ করেন,

وَمِنَ النَّاسِ مَنْ يَشْتَرِي لَهْوَ الْحَدِيثِ لِيُضِلَّ عَنْ سَبِيلِ اللَّهِ بِغَيْرِ عِلْمٍ وَيَتَّخِذَهَا هُزُوًا أُولَئِكَ لَهُمْ عَذَابٌ مُهِينٌ (6)

‘আর মানুষের মধ্য থেকে কেউ কেউ না জেনে আল্লাহর পথ থেকে মানুষকে বিভ্রান্ত করার জন্য বেহুদা কথা খরিদ করে, আর তারা ঐগুলোকে হাসি-ঠাট্টা হিসেবে গ্রহণ করে; তাদের জন্য রয়েছে লাঞ্ছনাকর আযাব।’

গান-গায়িকা এবং এর ব্যবসা ও চর্চাকে হারাম আখ্যায়িত করে তিনি বলেন,

لاَ تَبِيعُوا الْقَيْنَاتِ وَلاَ تَشْتَرُوهُنَّ وَلاَ تُعَلِّمُوهُنَّ وَلاَ خَيْرَ فِى تِجَارَةٍ فِيهِنَّ وَثَمَنُهُنَّ حَرَامٌ

‘তোমরা গায়িকা (দাসী) কেনাবেচা করো না এবং তাদেরকে গান শিক্ষা দিও না। আর এসবের ব্যবসায় কোনো কল্যাণও নেই। জেনে রেখ, এ থেকে প্রাপ্ত মূল্য হারাম।’

অন্যত্র তিনি বলেন,

لَيَشْرَبَنَّ أُنَاسٌ مِنْ أُمَّتِى الْخَمْرَ يُسَمُّونَهَا بِغَيْرِ اسْمِهَا وَتُضْرَبُ عَلَى رُءُوسِهِمُ الْمَعَازِفُ يَخْسِفُ اللَّهُ بِهِمُ الأَرْضَ وَيَجْعَلُ مِنْهُمْ قِرَدَةً وَخَنَازِيرَ ».

‘আমার উম্মতের কিছু লোক মদের নাম পরিবর্তন করে তা পান করবে। আর তাদের মাথার ওপর বাদ্যযন্ত্র ও গায়িকা নারীদের গান বাজতে থাকবে। আল্লাহ তা‘আলা তাদেরকে মাটিতে ধ্বসিয়ে দেবেন। এবং তাদের মধ্যে অনেককে শূকর ও বাঁদর বানিয়ে দেবেন।’

তিনি আরও বলেন,

لَيَكُونَنَّ مِنْ أُمَّتِي أَقْوَامٌ يَسْتَحِلُّونَ الْحِرَ وَالْحَرِيرَ وَالْخَمْرَ وَالْمَعَازِفَ

‘আমার উম্মতের মধ্যে এমন কিছু লোক সৃষ্টি হবে, যারা ব্যভিচার, রেশম, মদ ও বাদ্যযন্ত্রকে হালাল সাব্যস্ত করবে।’

আরেক জায়গায় তিনি বলেন,

بَعَثَنِي اللهُ رَحْمَةً وَهَدًى لِلْعَالَمِينَ وَبَعَثَنِي لِمَحْقِ الْمَعَازِفِ وَالْمَزَامِيرِ، وَأَمْرِ الْجَاهِلِيَّةِ

‘আল্লাহ তা‘আলা আমাকে মুমিনদের জন্য হিদায়াত ও রহমত স্বরূপ প্রেরণ করেছেন এবং বাদ্যযন্ত্র, ক্রুশ ও জাহেলি প্রথা অবলুপ্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন।’

আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন,

الْغِنَاءُ يُنْبِتُ النِّفَاقَ فِى الْقَلْبِ كَمَا يُنْبِتُ الْمَاءُ الزَّرْعَ

‘পানি যেমন (ভূমিতে) তৃণলতা উৎপন্ন করে তেমনি গান মানুষের অন্তরে নিফাক সৃষ্টি করে।’

অথচ সবাই জানেন বর্তমান প্রজন্মের মধ্যে মাদক ও পাপাসক্তির ক্রমবিস্তার প্রায় অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠেছে। হাজার প্রচারণা ও বিজ্ঞাপনেও নেশার ছোবল থেকে এদের রক্ষা করা যাচ্ছে না। এদের হাতেই রোজ খুন-ধর্ষণসহ ইত্যাকার নানা অপরাধ সংগঠিত হচ্ছে। এসব নাচ-গানে ডুবে তারা মানবজীবনের মূল লক্ষ্য হারিয়ে হতাশার রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। তাই দেখা যায় সুখী ও উন্নত দেশগুলোতেই আত্মহত্যার হার সবচে বেশি। আসলে পরকাল ভাবনাই মানুষের কুপ্রবৃত্তিকে নিয়ন্ত্রণ করে। মানুষের ভেতরে সুপ্রবৃত্তি ও সদগুণাবলি জাগিয়ে তোলে। আর নাচ-গানের মূল সাফল্যই এখানে যে তা আখিরাত ভাবনাকে একেবারে ভুলিয়ে দেয়। মানুষের সুকুমার বৃত্তির ওপর পর্দা ফেলে ক্ষণিকের বস্তুতে মজে রাখে।

সাহাবী ও তাবেয়ীদের ভাষ্য অনুযায়ী গান ও বাদ্যযন্ত্র বহু গুনাহর সমষ্টি।

যেমন : ক. নিফাক বা মুনাফেরির উৎস খ. ব্যভিচারে অনুপ্রাণিতকারী গ. মস্তিষ্কের ওপর আবরণ ঘ. কুরআনের প্রতি অনীহা সৃষ্টিকারী ঙ. আখিরাতের চিন্তা নির্মূলকারী চ. গুনাহের প্রতি আকর্ষণ সৃষ্টিকারী ও ছ. জিহাদি চেতনা বিনষ্টকারী।

আজ বড্ড প্রয়োজন তাই এ নাচ-গানের বিরুদ্ধে মানুষকে সচেতন করা। মসজিদ, মাহফিলে, আলোচনার টেবিলে এবং সব ধরনের মিডিয়াতে এ ব্যাপারে সর্বশ্রেণীর দৃষ্টি আকর্ষণ করা। এ জাতির অস্তিত্ব, সমৃদ্ধি ও মঙ্গলের স্বার্থেই তা জরুরী। হ্যা, নাচ-গান তথা অসুস্থ বিনোদনের প্রতি মানুষকে নিরুৎসাহিত করার পাশাপাশি সুস্থ বিনোদনের দিকেও পথনির্দেশ করতে হবে। বিনোদন মাধ্যমের উন্নতির যুগে মানুষের জন্য কুরআন-হাদীসের আলোচনা, হামদ-নাত, ইসলামী সঙ্গীতও সহজলভ্য করতে হবে। এ জন্য দরকার এসব কাজে পৃষ্ঠপোষকতা দেয়া। এসবের সঙ্গে জড়িতদের বুদ্ধি-পরামর্শ ও আর্থিক সাহায্য দিয়ে এগিয়ে যেতে সাহায্য করা। কারণ, মানুষকে উত্তম বিকল্প না দেয়া পর্যন্ত মানুষ কোনোদিন মন্দ থেকে বিরত থাকবে না। আল্লাহ তা’আলা আমাদের সকলকে গান-বাদ্যের ফিতনা থেকে দূরে থাকবার এবং এসব বন্ধে কাজ করার তাওফীক দিন। আমীন।

 
১ টি মন্তব্য

Posted by চালু করুন এপ্রিল 14, 2011 in ইসলাম

 

ওজন কমাতে লেবু-মধু পানীয়

ওজন কমাতে অনেকে অনেক কিছু পান করেন বা খান। যেমন : ওজন কমানোর চা, সোনাপাতা, ওজন কমানোর ওষুধ ইত্যাদি। এগুলোর কোনো কার্যকারিতা আছে কিনা তা সন্দেহ আছে। থাকলেও এগুলোর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থাকতে পারে। কিন্তু প্রাকৃতিক উপাদান মধু ও লেবু আসলেই যে কার্যকরী, তা পরীক্ষিত এবং সারা বিশ্বে সমাদৃত ও স্বীকৃত । ওজন কমাতে দুটি প্রাকৃতিক উপাদান লেবু ও মধুর পানীয় সম্পর্কে অনেকেই জানেন । ওজন কমানো ছাড়াও লেবু ও মধুর অনেক গুণাগুণ আছে। 

কেন ওজন কমায়?
মধুতে যদিও চিনি থাকে, কিন্তু এতে ভিটামিন ও মিনারেল থাকার কারণে এটি সাধারণ চিনির মতো ওজন না বাড়িয়ে কমায়। কারণ সাধারণ চিনি হজম করতে আমাদের শরীর নিজের থেকে ভিটামিন ও মিনারেল খরচ করে, ফলে এসব পুষ্টি উপাদানের ঘাটতি হয়। এসব উপাদান ফ্যাট ও কোলেস্টেরল কমাতে বা ভাঙতে সাহায্য করে। ফলে যখন আমরা বেশি চিনি খাই, তখন অধিক ক্যালরি শরীরে জমা ছাড়াও এসব পুষ্টি উপাদানের চিনি হজম করতে অতিরিক্ত খরচ হওয়ায় পুষ্টি উপাদানের ঘাটতি হয়। তাই ওজন বাড়াতে পারে। কিন্তু মধুতে এসব উপাদান থাকার ফলে এগুলো হজমে সহায়ক এবং ফ্যাট ও কোলেস্টেরল কমায়। তাই এই পানীয় ওজন কমায়। তাছাড়া সকালে উঠেই শরীর যদি পানি জাতীয় কিছু পায়, তবে তা হজম শক্তি বাড়াতে সাহায্য করে। ফলে একই রকম শারীরিক পরিশ্রম করেও আপনার হজম শক্তি বৃদ্ধির কারণে ওজন কমতে পারে।

লেবু-মধু পানীয় বানানোর প্রণালী
এক গ্লাস হালকা বা কুসুম গরম পানি, আধা চা চামচ লেবুর রস, এক চা চামচ মধু। গরম পানিতে লেবু ও মধু মিশিয়ে পান করুন লেবু-মধু পানীয়। আপনি চাইলে এর সঙ্গে সবুজ চা মেশাতে পারেন।

যা লক্ষ্য রাখবেন
—আগে পানি হালকা গরম করে তারপর লেবু ও মধু মেশাবেন। মধু কখনোই গরম করতে যাবেন না।

—যদি ঠাণ্ডা পানিতে এটি পান করেন, তবে বিপরীত ফল হবে, মানে আপনার ওজন বাড়বে।

লেবু-মধু পানীয়ের উপকারিতা
এই পানীয় শরীর থেকে টক্সিন বের করে। শরীরের ভেতরের নালীগুলোর সব ময়লা বের করে দেয়।

—মেটাবলিজম/হজম শক্তি বাড়ায়, ফলে ওজন কমে। ঠাণ্ডা লাগলে এই পানীয় কফ বের করতে সাহায্য করে এবং ঠাণ্ডা লাগলে গলাব্যথা করলেও এটি উপকারী ।
—এটি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।
—শরীরে শক্তি বাড়ায়, অলসতা কমায়।
—কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে।

মধুর উপকারিতা
মধুতে গ্লুকোজ ও ফ্রুকটোজ আলাদাভাবে থাকে, কিন্তু চিনিতে তা একসঙ্গে থাকে। ফ্রুকটোজ তাড়াতাড়ি গ্লুকোজের মতো শরীরে ক্যালরি হিসেবে জমা হয় না। তাই চিনির মতো মধু সহজে ক্যালরি জমা করে না। ফলে অল্প মধু খেলেও ওজন বাড়ার সম্ভাবনা কম।

মধু শরীরকে রিলাক্স করে, মনকে প্রফুল্ল রাখতে সাহায্য করে এবং সহজে ঘুম আনতে সাহায্য করে।
মধু একটি প্রাকৃতিক এন্টি বায়োটিক, যা শরীরের সব ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়াকে মেরে ফেলে ইনফেকশন দূর করে। ফলে শরীরের কাজ করার প্রণালী উন্নত হয় এবং হেলদি থাকে।
মধু হজমে সহায়ক। তাই বেশি খাবার খাওয়ার পরে অল্প মধু খেতে পারেন
—মধু ফ্যাট কমায়, ফলে ওজন কমে।
—মধু প্রাকৃতিকভাবেই মিষ্টি। তাই মধু সহজে হজম হয়।
—চোখের জন্য ভালো।
—গলার স্বর সুন্দর করে।
—শরীরের ক্ষত দ্রুত সারায়।
—আলসার সারাতে সাহায্য করে।
—নালীগুলো পরিষ্কার করে।
—ঠাণ্ডা লাগলে জ্বর, গলাব্যথায় ভালো ওষুধ হিসেবে কাজ করে।
—মধু এন্টি অক্সিডেন্ট, যা ত্বকের রং ও ত্বক সুন্দর করে। ত্বকের ভাঁজ পড়া ও বুড়িয়ে যাওয়া রোধ করে।
—বুদ্ধিবৃত্তি বাড়ায়।
—শরীরের সামগ্রিক শক্তি বাড়ায় ও তারুণ্য বাড়ায়।

লেবুর উপকারিতা
লেবুতে আছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি, যা এন্টিসেপটিক ও ঠাণ্ডা লাগা প্রতিরোধ করে

এছাড়া লেবুতে থাকে ঈধষপরঁস, চড়ঃধংংরঁস, চযড়ংঢ়যড়ত্ঁং, গধমহবংরঁস, যার কারণে হাড় ও দাঁত শক্ত হয়।
—লেবুর এই উপাদানগুলো টনসিল ও ঁত্রহব রহভবপঃরড়হ প্রতিরোধ করে
—এছাড়া লেবুর ভিটামিন সি ক্যান্সারের সেল গঠন প্রতিরোধ করে।
—লেবু বুক জ্বালা প্রতিরোধ করতে ও আলসার সারাতে সাহায্য করে।
—লেবু আর্থাইটিসের রোগীদের জন্য ভালো । কারণ লেবু ফরঁত্বঃরপ ।
—লেবু শরীরের ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়াগুলোকে ধ্বংস করে।
—লেবু এন্টিঅক্সিডেন্ট ও ধহঃর-ধমরহম
তাই ত্বকের সৌন্দর্য বৃদ্ধির পাশাপাশি ত্বক পরিষ্কার রাখে, অপহব দূর করে। ত্বকের বুড়িয়ে যাওয়া রোধ করে। কালোদাগ ও ত্বকের ভাঁজ পড়া কমায়।
—লেবু ওজন কমাতে সাহায্য করে।
—লেবু হজমে সহায়ক ও হজমের সমস্যা দূর করে।
—কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে।
—শরীরের ভেতরের টক্সিন দূর করে, অন্ত্রনালী, লিভার ও পুরো শরীরকে পরিষ্কার রাখে।
—পেট ফোলাজনিত সমস্যা কমায়।
—রক্ত পরিশোধন করে।
—ঠাণ্ডা লাগলে জ্বর, গলাব্যথায় ভালো ওষুধ হিসেবে কাজ করে।
—শ্বাসকষ্ট, হাঁপানি হলে ভালো কাজ করে।
—শ্বাসনালীর ও গলার ইনফেকশন সারাতে সাহায্য করে।

কখন খাবেন?
সাধারণত সকালে উঠেই প্রথম পানীয় হিসেবে খালি পেটে এটি খাওয়া হয়। এর কিছুক্ষণ পরে সকালের নাস্তা খেতে পারেন।

সাবধানতা
যাদের গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা আছে তারা অবশ্যই এটি খালি পেটে খাবেন না। কারণ লেবু এসিডিক। তাই ডাক্তারের সঙ্গে পরামর্শ করে এটি খাবেন।

তাছাড়া লেবুর এসিড দাঁতের এনামেলের জন্য ক্ষতিকর, তাই এই পানীয় খাবার সঙ্গে সঙ্গে কুলি করবেন, অথবা পানি খাবেন।
একটা কথা মনে রাখবেন, ওজন কমানোর জন্য এই পানীয় শুধুই সহায়কমাত্র। সম্পূর্ণ ওজন কমানোর প্রক্রিয়াতে অবশ্যই থাকতে হবে স্বাস্থ্যকর/ব্যালেন্সড ডায়েট, নিয়মিত শরীর চর্চা এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রা।

 
 

কে কত হাসতে পারো!!! “আটত্রিশ”

শিক্ষক ও ছাত্র

শিক্ষক: রবীন্দ্রনাথ কি কখনও ক্রিকেট খেলে ছিলেন?

মন্টু: বোধায় খেলে ছিলেন, কারণ তার একটা গানে আছে- ‘বল দাও মোরে বল দাও।’

শিক্ষক ও ছাত্র

শিক্ষক: মন্টু, তুমি এক থেকে কত পর্যন্ত গুনতে পারো?

মন্টু: স্যার, দশ পর্যন্ত পারি।

শিক্ষক: মাত্র দশ পর্যন্ত! তুমি তাহলে বড় হয়ে কী হবে? কিছুই তো হতে পারবে না।

মন্টু: কেন, স্যার, বক্সিংয়ের রেফারি তো হওয়া যাবে।

দৌড় প্রতিযোগিতা

একটা কাপ নিয়ে হাঁপাতে হাঁপাতে স্বামীকে ঘরে ঢোকা দেখে
স্ত্রী : একি! এত হাঁপাচ্ছ কেন? আর এ কাপটাই বা কোথায় পেলে?
স্বামী :দৌড় প্রতিযোগিতায় দুজনকে হারিয়ে এটা পেলাম।
স্ত্রী :মাত্র তিনজন নিয়ে দৌড় প্রতিযোগিতা?
স্বামী :হ্যাঁ, প্রথমে আমি, তারপর পুলিশ আর সবার পেছনে এ কাপটার মালিক!

প্রতিবেশী

কনে দেখে ফেরার সময় বরের বাবা কনের পাশের বাড়ির ভদ্রলোককে জিজ্ঞাসা করলেন

বরের বাবা : আচ্ছা ভাই সাহেব, আপনার প্রতিবেশী নাদান মিঞা লোকটা কেমন? ওনার মেয়ের সঙ্গে আমার ছেলের বিয়ের কথা হচ্ছে। আপনি তো উনাকে চেনেন।
প্রতিবেশী : চিনি মানে, এই তো সেদিন পাশের বাড়ির এক অনুষ্ঠানে আমাকে দেখা মাত্রই কোলাকুলি করার জন্য ছুটে এলেন। পরে বাসায় এসে দেখি পকেটে মানিব্যাগ নেই।

চশমা

দূরের বস্তু দেখতে সমস্যা হওয়ায় হাবলু বাবার কাছে চশমা বানানোর বায়না ধরেছে। বাবা বললেন, চোখে তোর সমস্যাটা কী? সেটা আগে খুলে বল? হাবলু বলল, আমি দূরের বস্তু একদমই স্পষ্ট দেখতে পারি না, বাবা। একথা শুনে বাবা হাবলুর হাতটা ধরে একদম ঘরের বাইরে বের করে নিয়ে এলেন। এরপর আকাশের দিকে তাকিয়ে বাবা হাবলুকে বললেন, দেখ তো আকাশের একদম শেষ সীমানায় কী দেখা যায়? হাবলু জবাব দিল, ওটা তো সূর্য মামা। বাবা রেগে বললেন, এই ফাজিল, আর কত দূরের জিনিস তুই দেখতে চাস বল?

 
 

কে কত হাসতে পারো!!! “সাতত্রিশ”

সাদা চুল

ছেলে :আচ্ছা মা, তোমার চুল এত সাদা কেন?
মা :ছেলেমেয়ে দুষ্টু হলে বাবা-মায়ের চুল এমনি এমনি সাদা হয়ে যায়।
ছেলে :ও, আচ্ছা, এ জন্যই তো নানির মাথার চুল এত সাদা!

ফি

শিক্ষক :পল্টু, লেখাপড়ায় তোমার মোটেও মনোযোগ নেই। কালই তোমার বাবাকে স্কুলে আসতে বলবে। তার সঙ্গে কথা বলতে হবে।
ছাত্র :কিন্তু তার জন্য যে ফি লাগবে স্যার।
শিক্ষক :মানে?
ছাত্র : বাবা উকিল তো, ফি ছাড়া কারও সঙ্গে কোনো কথাই বলেন না!

বিয়ের তারিখ

এক লোক সব সময় ক্রিকেট নিয়ে মেতে থাকেন। একদিন তার বউ গোমড়া মুখে বললেন_ আচ্ছা, তুমি যেভাবে সারাক্ষণ ক্রিকেট নিয়ে পড়ে থাক, জিজ্ঞেস করলে আমাদের বিয়ের তারিখটা ঠিকমতো বলতে পারবে বলে মনে হয় না!
বউয়ের এমন অপমানজনক কথা শুনে লোকটি লাফিয়ে উঠে বলল_ ছি, ছি, তুমি আমাকে কী মনে কর! আমি কি এত পাগল যে বিয়ের তারিখ ভুলে যাব? ঠিকই মনে আছে। যে বার শ্রীলংকা আর ভারতের খেলায় টেন্ডুলকার এগারো রানের মাথায় মুত্তিয়া মুরালিধরনের বলে আউট হয়ে গেলেন, সেদিনই তো আমাদের বিয়ে হলো!

বানান

শিক্ষক: বানান কর ‘বাঁশ’।

ছাত্র: স্যার, কঞ্চিসহ?

চোর

মাঝরাতে স্ত্রী স্বামীকে ঠেলা দিয়ে বলল, ‘অ্যাই … শোনো! একটা চোর ঢুকেছে বাসায়। আমার মা যে পিঠাগুলো পাঠিয়েছিল, সে সব খাচ্ছে ফ্রিজ থেকে বের করে।
স্বামী : বলো কী! এখন তো পুলিশ বাদ দিয়ে অ্যাম্বুলেন্স ডাকতে হবে!