RSS

অপব্যবহার হচ্ছে মোবাইল ফোনের

05 ডিসে.

অপব্যবহার হচ্ছে মোবাইল ফোনের

সারা দেশই মোবাইল ফোন নেটওয়ার্কের আওতাধীন। অভিভাবকরাই আজ ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ছেলেমেয়েদের হাতে দামি, দেশী-বিদেশী ক্যামেরাসহ মোবাইল ফোন সেট কিনে দেন অথবা অভিভাবকের অজান্তে কোনো একটি প্যাকেজ প্রোগ্রামের মাধ্যমেই বা উপহার হিসেবে দিয়ে যে ক্ষতি তারা করছেন তার ভয়াবহ মাশুলই আজকের এ অবস্থা। এতে অর্থ, মেধা, সময়, স্বাস্থ্য ও পড়াশোনার ক্ষতি হচ্ছে। মোবাইল ফোন কোম্পানির কাস্টমার কেয়ার সেন্টারগুলোতে সিমকার্ডগুলোকে কঠোরভাবে আইনের আওতায় এনে, জবাবদিহি প্রতিষ্ঠা জরুরি। লক্ষ করা যায়, একজন বখাটে ছেলে বা মেয়ে বা স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি ছেলে বা মেয়ের কাছে একটি মোবাইল ফোন আছে কিন্তু সিমকার্ড আছে প্রত্যেক কোম্পানির একটি করে ১০-১২টি। একটি সিমকার্ডের দাম কয়েক শ’ টাকা হবে। বিশেষ মুহূর্তে এক হাজার থেকে এক হাজার ২০০ টাকা দিয়েও অনেকে সিমকার্ড কেনে, মেমোরি কার্ড তো আছেই।

পড়ালেখার সময় প্রয়োজনীয় ব্যক্তিগত কাজকর্ম ধর্ম-কর্ম ছেড়ে এবং ঘুম হারাম করে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিশেষ করে রাত ১২টার পর শুরু হয় বিভিন্ন মোবাইল ফোন কোম্পানি ওই সময় বিশেষ সুবিধা-পারসেন্টেজ প্রদান করায় প্রেম-পরকীয়া, প্রেম বিনিময়, মোবাইলের মাধ্যমেই একজন মেয়েকে ঘরের বাইরে বের করে আনে। ওই মোবাইল ফোন সেটে রিংটোন ও মেমোরিতে আজেবাজে গান, অশ্লীল ছবি (নীলছবি) ঢুকিয়ে রাস্তায় পথেঘাটে,বাজারে, বসতবাড়িতে, অলিগলিতে, দোকানে, বিভিন্ন আড্ডার আসরে অশ্লীল গান বাজিয়ে উঠতি মেয়েদের উত্ত্যক্ত করে।

মোবাইল ফোন আবিষ্কার একটি যুগান্তকারী উদ্ভাবন। মানুষ সহজেই পরস্পরের সাথে যোগাযোগ করে দ্রুত তথ্য বিনিময়ে করতে পারছে। গোটা পৃথিবী হয়ে পড়েছে পড়শি। এই সহজ যোগাযোগ এক দিকে যেমন শারীরিক ভ্রমণের কষ্ট লাঘব করছে, তেমনি সহজেই তথ্য প্রদানের কারণে দ্রুত উন্নয়নকাজ সম্ভব হচ্ছে। এই সহজ যোগাযোগ মাধ্যমটি অনেক অসম্ভবকে সম্ভব করে তুলেছে। মানুষ তাদের আপনজনের ভালোমন্দ জেনে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করতে পারছে এতে অনেক দুশ্চিন্তা থেকে মুক্ত হতে পারছে।

প্রতি জিনিসেরই ভালো ও মন্দ দিক আছে। মন্দের দিকটা পরিহার করে ভালোটাকে যত বেশি গ্রহণ করা যাবে,ততই মঙ্গল হবে। তাই এই মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীরা যদি সতর্ক ও সচেতন না হন, তাহলে অরাজক পরিস্থিতি বয়ে আনবে। বিশেষ করে কম বয়সী ছেলেমেয়েদের কাছে এর অপপ্রয়োগ বেশি হয়ে থাকে। যদি এ অবস্থা চলতে থাকে, তাহলে কত সম্ভাবনাময় সন্তানের জীবন ধ্বংস হয়ে যাবে, তার প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে না। বর্তমান নৈতিক অবক্ষয়ের যুগে এই নেশা সহজেই আক্রান্ত করছে ছেলেমেয়েদের। রাষ্ট্রের উচিত এ অবস্থা থেকে যুব সমাজকে রক্ষা করা। সমাজবিজ্ঞানী ও অভিভাবকের সমন্বয়ে কার্যকরী পদক্ষেপ নেয়া। নিচে কয়েকটি করণীয় উপস্থাপন করা হলো

মোবাইল ফোনের (সিমকার্ড) কোম্পানিগুলোকে নিয়মশৃঙ্খলা ও কঠোর আইন ও জবাবদিহিতার আওতায় আনা এবং মোবাইল ফোন কোম্পানির কাস্টমার কেয়ার সেন্টার, ইন্টারনেট, সাইবার ক্যাফে ও কম্পিউটারের দোকান ও সেন্টার, ট্রেনিং সেন্টারগুলোতে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করা এবং আইনের যথাযথ প্রয়োগ এবং লাইসেন্সের আওতায় নিয়ে আসা। সর্বপ্রকার যানবাহনে চালকের (ড্রাইভার) কাছে যানবাহন চলন্ত অবস্থায় মোবাইল ফোন ব্যবহার নিষিদ্ধ করতে হবে অবশ্যই। স্কুলে মোবাইল ফোন নিষিদ্ধ করতে হবে। ফোন-ফ্যাক্স-ইন্টারনেট, মোবাইল সেট, সিডি, ভিসিডিতে গান লোড ব্যবসায়ী এবং প্রত্যক্ষ মদদকারীদের কঠোর আইনে জবাবদিহিতার আওতায় আনা। বিভিন্ন প্রাইভেট চ্যানেল (দেশী ও বিদেশী) ও স্যাটেলাইট (ডিশ) ব্যবসায়ীদের আইন ও জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে এবং আইন ও নিয়মশৃঙ্খলা ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে।

Advertisements
 

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

 
%d bloggers like this: