RSS

এইডস থেকে বাঁচুন

05 ডিসে.

এইডস থেকে বাঁচুন

  

কেবলমাত্র জীবনসঙ্গীর সঙ্গে বিশ্বস্ত থাকুন। এইচআইভি/ এইডস সম্বন্ধে জানুন ও অন্যকেও জানান। কোন অপরিশোধিত সূচ ও সিরিঞ্জ দিয়ে ইনজেকশন নেবেন না। অপরীক্ষিক্ত রক্ত নেবেন না। নিডল শেয়ার করবেন না।

 

এইচআইভি/এইডস নিয়ে কিছু আলোচনার আগে এদের সম্বন্ধে একটু অবতরণিকা করলে কেমন হয়? প্রতিবছর ১লা ডিসেম্বর মাসে বিশ্ব এইডস দিবস পালিত হচ্ছে তাই এগুলো সম্বন্ধে জনগণ যত অবহিত হবেন ততই ভালো।

 

এইচআইভির মানে হলো হিউম্যান ইমুনোডেফিসিয়েন্সি ভাইরাস। এই ভাইরাসটি হলো এইডস রোগের মূলে। এইচআইভি অন্যান্য ভাইরাস থেকে একটু আলাদা কারণ এই ভাইরাস আক্রমণ করে দেহের ইম্যুন ব্যবস্থাকে। ইম্যুন সিসটেম শরীরকে দেয় সংক্রমণকে লড়াই করার ক্ষমতা। এইচআইভি খুঁজে ফেরে এবং ধ্বংস করে এক ধরনের শ্বেতকণিকা যার নাম টিকোষ বা সিডি ৪ কোষ। (সিডিফোর) ইম্যুন ব্যবস্থার অন্তর্গত এই টিকোষ রোগ জীবাণুকে লড়াই করে পর্যুদস্ত করার কাজে থাকে নিয়োজিত।

 

এইডস শব্দের মানে হলো একোয়ার্ড ইম্যুনোডেফিসিয়েন্সি সিনড্রোম। এইচআইভি সংক্রমণের অন্তিম পর্যায় হলো এইডস। এইচআইভি সংক্রমিত ব্যক্তির বছরের পর বছর লেগে যায়, এক সময় আক্রান্ত হয় এইডস রোগে। এইডস হবার মানে হলো, ভাইরাসটি ইম্যুন ব্যবস্থাকে এমন দুর্বল করে ফেলেছে যে শরীরের সংক্রমণকে লড়াই করার ড়্গমতা নিঃশেষিত। কারো যখন এক বা একাধিক নির্দিষ্ট সংক্রমণ থাকে, অথবা যাকে নির্দিষ্ট কোনও ক্যান্সার, অথবা যাকে খুব কম সংখ্যায় টিকোষ, তখন এইডস রোগের লড়্গণ বলে মনে হয় ডাক্তারদের।

 

কি করে পৃথবীতে এলো এইচআইভিঃ এ নিয়ে নানা গল্প প্রচলিত রয়েছে। বিজ্ঞানীরা পশ্চিম আফ্রিকার এক ধরনের শিম্পাঞ্জির মধ্যে খুঁজে পেয়েছেন এই ভাইরাসের উৎস এবং সেখান থেকে মানবদেহে। মানুষ যখন এই সব শিম্পাঞ্জিকে আহার সংগ্রহের জন্য শিকার করেছিলো, এর গোস্তô যে খেয়েছিলো এবং সংক্রমিত রক্তের সংস্পর্শে এসেছিলো তখনই সম্ভবতঃ এই ভাইরাস লাফ দিয়ে এসেছিলো মানবদেহে। গল্পটি সেরকমই। এরপর বেশ কয়েক বছর ধরে ভাইরাসটি ধীরে ধীরে ছড়িয়ে গেলো আফ্রিকায় ক্রমে ক্রমে পৃথিবীর অন্যত্র।

 

অনেকে এই গল্পকে বলেন গাঁজাখুরি গপ্পো। বলেন অন্যকথা। শিল্পোন্নত কোনও দেশের একটি অজানা ল্যাবরেটরীতে জীবাণুযুদ্ধের। প্রস্তুতির সময় জীন প্রযুক্তির ফাঁক-ফোকর দিয়ে সৃষ্টি হয়েছিলো এই ভাইরাসের, আর এই ভাইরাসের কার্যকারিতা পরীড়্গা করা হয়েছিলো কারাবন্দী কিছু লোকের মধ্যে, এদের অনেকেই ছিলেন প্রমোদ বালক——এরপরের ঘটনা সবার জানা। ছড়িয়ে পড়লো। এখনও এর প্রথম সম্প্রচারের ঘটনা একটি রহস্য।

 

আমেরিকায় যখন কয়েকজন প্রমোদবালকের মধ্যে এক ধরনের বিরল ক্যান্সার দেখা গেলো, এরা এতে অসুস্থ হলো ১৯৮১ সালে, তখন খুঁজে খুঁজে মিললো এইচআইভি। এরপর বিজ্ঞানীদের লেগে গেলো কয়েক বছর। এই ভাইরাসের জন্য টেস্ট আবিষ্কৃত হলো, কিভাবে এইচআইভির মানবদেহে সম্প্রচার ঘটে, এ থেকে রড়্গা পেতে কি করতে হবে এটি বুঝতেও লেগে গেলো কয়েক বছর। ২০০৮ সালে সিডিসি নতুন প্রযুক্তির সাহায্যে নতুন এইচআইভি সংক্রমণের অনুমানকে আরো সংহত করলো। এর আগে সিডিসির অনুমান ছিলো আমেরিকায় প্রতি বছর নতুন এইচআইভি সংক্রমণের সংখ্যা চলিস্নশ হাজার। নতুন ফলাফলে দেখা গেলো মধ্য ১৯৮০ তে ১৩০,০০০ থেকে ১৯৯০ সালের শেষদিকে নাটকীয়ভাবে নেমে এলো ৫০,০০০-এ। ২০০০ সালে তা হলো প্রতি বছরে ৫৫,০০০। ২০০৬ সালে আনুমানিক ৫৬,৩০০ জন লোক সংক্রমিত হলো এইচআইভিতে।

 

১৯৯৬ সালে নতুন ওষুধ যখন বাজারে এলো এইডস রোগ বেশ নেমে এলো। আমেরিকাতে এখন ১০ লাখ লোক এইচআইভি আক্রান্ত। এর এক-চতুর্থাংশ জানেন না যে তাদের এ সমস্যা রয়েছে।

 

০ এইচআইভির কিভাবে সংক্রমন ঘটে নাঃ

এইচআইভি একটি নাজুক ভাইরাস বটে। শরীরের বাইরে এরা বেশি সময় বেঁচে থাকতে পারে না। ফলে ভাইরাসটি দৈনন্দিন কাজকর্ম, জীবনযাপন যেমন করমর্দন, কোলাকুলি বা হালকা চুমুর মাধ্যমে ছড়াতে পারে না। টয়লেট সিট থেকে, ঝর্নার জল পান করে, দরজার হাতল ঘোরালে, ডিশ থেকে, খাবার জলের গস্নাসে পানি পান করে, খাবার একসঙ্গে খেয়ে, পোষা প্রাণী ধরলে এইডস ছড়ায় না। মশার কামড় থেকেও এইডস হয় না।

০ এইচআইভি প্রথমতঃ থাকতে পারে সংক্রমিত লোকের রক্তে, বীর্যে বা যোনির কবলে।

০ এইচআইভি ছড়ায় প্রধানতঃ তিনভাবে

০ এইচআইভি সংক্রমিত লোকের সঙ্গে যৌন সংস্পর্শে।

০ এইচআইভি সংক্রমিত লোকের সঙ্গে সিরিঞ্জ, সূঁচ শেয়ার করলে।

০ গর্ভের শিশু বা শিশুর জন্মের আগে বা পরে এইচআইভির সম্মুখীন হলে।

এইচআইভি সংক্রমিত রক্ত ভরণ বা অঙ্গ সংস্থাপনের মাধ্যমেও সংক্রমণ ছড়াতে পারে।

তাই রক্তভরনের পূর্বে রক্তের এইচআইভি স্ত্র্নিনিং বাধ্যতামূলক।

 

০ এইচআইভি সম্প্রচারের ঝুঁকি

০ সংক্রমণের ঝুঁকি বেশি যখনঃ

০ ইনজেকশনের ওষুধ বা স্টেরোয়েড, যখন যন্ত্রাপাতি যেমন (সূচ, সিরিঞ্জ, তুলা, জল) ও রক্ত সংক্রমিত লোকের সঙ্গে শেয়ার করা হয়।

০ অনিরাপদ যৌন মিলন

০ অনিরাপদ রক্ত ভরন।

 

সংক্রামক প্রতিরোধ করা

এইচআইভি সংক্রমণের ঝুঁকি বা অন্যের মধ্যে সংক্রামক কয়েকটি জিনিসের উপর নির্ভরশীল।

০ কেবলমাত্র জীবনসঙ্গীর সঙ্গে মিলন করম্নন ও বিশ্বস্ত থাকুন।

০ কনডোম ব্যবহার করম্নন। লেটেক্স কনডোম যৌনমিলনের সময় ব্যবহার করম্নন।

০ এইচআইভি/ এইডস সম্বন্ধে জানুন ও অন্যকেও জানান।

০ এইচআইভি টেস্ট করিয়ে নেয়া উচিত।

০ কোন অপরিশোধিত সূচ ও সিরিঞ্জ দিয়ে ইনজেকশন নেবেন না। অপরীক্ষিক্ত রক্ত নেবেন না। নিডল শেয়ার করবেন না।

নিজেকে রড়্গার জন্য মনে রাখুন এ বি সি

A= Abstinence  সংযম

B=Be faithful বিশ্বস্ত থাকা

C=Condoms কনডোম ব্যবহার।

০ এইচআইভি সংক্রমণের উপসর্গঃ

 

সংক্রমণ আছে কিনা জানার একমাত্র উপায় হলো এইচআইভি টেস্ট করানো। কেবলমাত্র লড়্গণ উপসর্গের উপর নির্ভর করা চলে না কারণ এইচআইভি সংক্রমিত অনেকের অনেক বছর পর্যন্ত কোন উপসর্গ নাও থাকতে পারে। অনেককে আপাত সুস্থ মনে হতে পারে, সুস্থবোধও করতে পারেন অনেকে, অথচ এরা সংক্রমিত হয়ে থাকতে পারেন। বস্তুতঃ আমেরিকার মত দেশে এইচআইভি সংক্রমিত লোকদের এক-চতুর্থাংশ জানেনই না যে তাদের সংক্রমণ রয়েছে।

এইচআইভি একবার দেহে প্রবেশ করলে শরীরে তৈরি হতে থাকে এন্টিবডি-সংক্রমণ হলে দেহের ইম্যুন ব্যবস্থা তৈরি করে এন্টিবডি। বেশিরভাগ এইচআইভি টেস্ট ভাইরাসকে চিহ্নিত না করে বরং এন্টিবডিকে চিহ্নিত করে আছে বেপিড টেস্ট ও হোম টেস্ট কিটস।

এইডস নিয়ে উদ্বেগের কারণ হলো কিছু পরিসংখ্যান যা সংশিস্নষ্ট মহলকে একে প্রতিরোধের জন্য প্রচেষ্টা জোরদার করার তাগিদ দেবে। এইডস বিষয়ক এশিয়ার কমিশনের তথ্য অনুযায়ী এশিয়ার দেশগুলোতে ২০০৭ সালে এইডস সংক্রান্ত রোগে মৃত্যুবরণ করেছিলো তিন লাখ মানুষ। গত বছর নতুনভাবে এইচআইভি আক্রান্ত হয় চার লাখ ৪০ হাজার মানুষ। ২০০৭-এর ডিসেম্বর পর্যন্তô এশিয়াতে এইচআইভিতে আক্রান্তô মানুষের সংখ্যা ছিলো এক কোটির মত।

বলা হচ্ছে এইচআইভি/ এইডস এর বর্তমান ধারা অব্যাহত যদি থাকে তাহলে ৭ বছরের মধ্যে এশিয়ায় নতুন করে ৬০ লাখ পরিবার দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে যাবে।

এশিয়ার বিভিন্ন দেশে যেসব কর্মসূচী পরিচালিত হচ্ছে এতে সন্তুষ্টির অবকাশ নেই। এসব কর্মসূচী আরও স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক হওয়ার জন্য পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এইডস প্রতিরোধ কর্মসূচীতে যৌনকর্মী ও তাদের খদ্দেরদের প্রতি বিশেষ মনোযোগ দিতে হবে। ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় ও ইউএনএইডস এক যৌথ অনুষ্ঠানে সম্প্রতি প্রকাশিত হয় এই প্রতিবেদন। ইউএন এইডস এইডস প্রতিরোধে বাংলাদেশের উদ্যোগ সম্বন্ধে আশাবাদী, সঠিক পন্থা অবলম্বনে বাংলাদেশ এইডস এর মহামারী থেকে নিজেকে রক্ষা করতে সক্ষম।

 

জেন্ডার বৈষম্য ও নারীকে অধস্তন বিবেচনার কারণে এইচআইভি/এইডসের ঝুঁকি পুরম্নষের চেয়ে নারীর বেশি। নারী যৌনকর্মী ও তাদের খদ্দেরদের মধ্যে প্রতিরোধ কর্মসূচী আরো জোরদার করার জন্য পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে কমিশনের প্রতিবেদনে।

 

বাংলাদেশ সরকার, বিশেষজ্ঞজন ও বেসরকারী সংস্থা এবং গণমাধ্যম একত্রে কাজ করলে বাংলাদেশ সম্ভাব্য ঝুঁকি ও বিপদ থেকে অনেকটাই রড়্গা পাবে। এ দিবস পালনের থিম নেতৃত্ব বা লিডার শিপ এই প্রতিরোধে রাজনীতিবিদদের অঙ্গীকার পালনের জন্য আবারো জোরালো আহ্বান জানাবে।  

Advertisements
 

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

 
%d bloggers like this: