RSS

কুরআনে বর্ণিত কয়েকজন মহীয়সী মহিলা

05 Dec

কুরআনে বর্ণিত কয়েকজন মহীয়সী মহিলা

 


প্রত্যক্ষ ও প্রচ্ছন্নভাবে পবিত্র কুরআনে যে কয়েকজন বিশিষ্ট মহীয়সী মহিলা এবং অভিশপ্ত তিন নারীর প্রসঙ্গ বিবৃত হয়েছে তা মোটামুটিভাবে নিম্নরূপঃ

১. আদম আঃ-এর পত্নী,

২. ইমরাতে ইমরান,

৩. ইমরাতে জাকারিয়া,

৪. ঈসা ইবনে মারিয়াম,

৫. ইমরাতে ইবরাহিম,

৬. ইমরাতে আজিজ,

৭. হজরত বিবি আয়েশা,

৮. ইমরাতুন (এক নারী, বিলকিস),

৯. ইমরাতে ফিরআউন, উম্মে মূসা, উখতে মূসা এবং ইমরাতাইনে (দুই নারী, শোয়েব আঃ-এর কন্যাদ্বয়,

১০. ইমরাতে আয়ুব,

১১. নবী সাঃ-এর স্ত্রীদের প্রসঙ্গ। তিন অভিশপ্ত নারী, ১. ইমরাতে নূহ, ২. ইমরাতে লূত এবং ৩. ইমরাতুহু (তার অর্থাৎ আবু লাহাবের স্ত্রী)।

ইমরাতুন আরবি শব্দ। এর অর্থ হচ্ছে স্ত্রী, নারী ও মহিলা। বিভিন্ন সময় বিভিন্ন প্রেক্ষাপটে এ শব্দটি পবিত্র কুরআনে বহুবার ব্যবহৃত হয়েছে। আরো একটি লক্ষণীয় ব্যাপার যে, প্রত্যেক মহিলা বা নারী কোনো না কোনো পুরুষ নামের সাথে সম্পৃক্ত হয়ে তাদের পরিচিতি লাভ করেছেন। অবাধ্য হওয়ার কারণে আজাব ভোগকারী তিন অভিশপ্ত নারী ব্যতীত অন্যসব মহিলাই বিশুদ্ধ ও সচ্চরিত্র গুণে বিভূষিত প্রত্যেকেই নিজ বৈশিষ্ট্যে মহীয়ান। আলোচনায় পবিত্র কুরআনের সূরার অনুক্রম অনুসৃত হয়েছেঃ

১. আদম আঃ-এর পত্নী। মহান আল্লাহ সৃষ্টির প্রথম মানব হজরত আদম আঃ-কে সৃষ্টি করে তদীয় বাম পঞ্জরির থেকে নির্গত করেন সৃষ্টির প্রথম মহামানবী হজরত বিবি হাওয়াকে। হজরত বিবি হাওয়ার সৃষ্টি সম্বন্ধে বর্ণিত হয় যে, হজরত আদম আঃ একদিন ঘুম থেকে জেগে উঠে লক্ষ করেন যে, তাঁর শিয়রে এক অপূর্ব সত্তা বিদ্যমান। তিনি তাঁকে জিজ্ঞেস করেনঃ তুমি কে? তিনি উত্তর দেন আমি একজন নারী। তিনি আবার জিজ্ঞেস করেনঃ তুমি কেন সৃষ্টি হয়েছ? প্রত্যুত্তরে তিনি বলেন, আপনার সঙ্গিনী হিসেবে বসবাস, মনোরঞ্জন ও প্রশান্তির জন্য। ফেরেশতাগণ আদম আঃ-কে জিজ্ঞেস করেনঃ এই নারী সত্তার নাম কি? তিনি বলেন, ‘হাওয়া জীবন্ত বস্তু থেকে নির্গত হয়েছে বলে এর এরূপ নামকরণ হয়েছে। সূত্রঃ ইসলামী বিশ্বকোষ দ্বিতীয় খণ্ড পৃষ্ঠা ৫২৯-৩০, তাফসিরে ইবনে কাছির, প্রথম খণ্ড, ৫৪, বোখারি।

উল্লেখ্য, আদম আঃ-এর সহধর্মিণী হাওয়াএর নাম পবিত্র কুরআনে নির্দেশিত হয়নি এখানে শব্দ জাওযুকাতদীয় স্ত্রী বলে চিহ্নিত হয়েছে। যেমন বলা হয়েছেঃ ‘… এবং আমি আদমকে হুকুম করলাম, তুমি ও তোমার স্ত্রী জান্নাতে বসবাস করতে থাকো এবং ওখানে যা চাও, যেমন খেতে চাও পরিতৃপ্তিসহ খেতে থাকো, কিন্তু এ গাছের নিকটবর্তী হইও না। অন্যথায় তোমরা জালিমদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবে। ২ঃ৩৫ হজরত আদম আঃ-এর নামের সাথে সম্পৃক্ত হয়ে তদীয় স্ত্রী হাওয়া পরিচিতি লাভ করেছেন।

২. ইমরাতে ইমরান-ইমরান স্ত্রী। ইমরানের সহধর্মিণী গর্ভবতী হলে মানত করেন, তিনি তার গর্ভস্থ সন্তানকে আল্লাহর উদ্দেশ্যে নিবেদন করবেন। কিন্তু প্রসব হওয়ার পর তিনি জানতে পারেন, তিনি কন্যাসন্তান প্রসব করেছেন। তিনি আল্লাহর দরবারে ফরিয়াদ জানান, হে আল্লাহ আমি তো কন্যাসন্তান প্রসব করেছি। বলা বাহুল্য, কন্যাসন্তানকে আল্লাহর উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করা তখন নিয়ম ছিল না। ইমরাতে ইমরানের আবেদনের বিষয়টি আল্লাহর অজানা ছিল না। এ প্রসঙ্গে পবিত্র কুরআনের সুস্পষ্ট বর্ণনাঃ ‘…বস্তুতঃ সে কী প্রসব করেছে আল্লাহ তা ভালোই জানেন। সেই কন্যার মতো কোনো পুত্রই যে নেই। আর আমি তার নাম রাখলাম মারিয়াম। আর আমি তাকে ও তার সন্তানদের তোমার আশ্রয়ে সমর্পণ করছি অভিশপ্ত শয়তানের কবল থেকে। অতঃপর তার পালনকর্তা তাকে উত্তমভাবে গ্রহণ করে নিলেন এবং তাকে প্রবৃদ্ধি দান করলেন- অত্যন্ত সুন্দর প্রবৃদ্ধি। আর তাকে জাকারিয়ার তত্ত্বাবধানে সমর্পণ করলেন …’ ‘ইমরাতে আল-ইমরান সরাসরিভাবে পবিত্র কুরআনে উল্লিখিত হয়েছে। ৩ঃ৩৬-৩৭

৩. ইমরাতে জাকারিয়া-জাকারিয়ার স্ত্রী। আল্লাহর মনোনীত শিশুকন্যা হজরত মারিয়ামকে হজরত জাকারিয়ার তত্ত্বাবধানে রাখা হয়। হজরত জাকারিয়া যখনই হজরত মারিয়ামের প্রকোষ্ঠে প্রবেশ করতেন তখনই তিনি সেখানে বহু ফলমূল ও খাদ্য সামগ্রী দেখতে পেতেন। তিনি প্রশ্ন করেন, হে মারিয়াম এসব সামগ্রী কোথা থেকে আসে? তিনি বলেনঃ আল্লাহর তরফ থেকে। এসব অলৌকিক ঘটনা পরিদর্শনে হজরত জাকারিয়া আল্লাহর কাছে প্রার্থনা জানান তাকে যেন এক পুত্রসন্তান দান করা হয়। আল্লাহ তাঁর দেয়া কবুল ও মঞ্জুর করেন এবং ইয়াহিয়া নামক এক পুত্রসন্তানে সুসংবাদ প্রেরণ করা হয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে হজরত জাকারিয়া আল্লাহর কাছে নিবেদন করেন যে, তিনি অতিশয় বৃদ্ধ এবং তার স্ত্রীও বন্ধ্যা তাদের সন্তান হবে কী রূপে? ‘আল্লাহ এমনিভাবে যা ইচ্ছে করে থাকেন৩ঃ৪০, ১৯ঃ ২-৫, পুত্রসন্তানের সুসংবাদ এবং স্ত্রী বন্ধ্যত্ব প্রকাশনার মাধ্যমে ইমরাতে জাকারিয়ার কথা পবিত্র কুরআনে পরিব্যক্ত হয়েছে।

৪. মারিয়াম ইবনে ঈসা- ঈসা আঃ-এর মাতা। পবিত্র কুরআনে অতি সুস্পষ্ট ও প্রাঞ্জল ভাষায় হজরত বিবি মারিয়ামের প্রসঙ্গ ব্যাপক ও বিস্তারিতভাবে বর্ণিত হয়েছে। তিনিই আল্লাহর একমাত্র মনোনীত ও গৌরবান্বিত মহিলা যার নামকরণে পৃথক ও স্বতন্ত্র এক সূরা সূরা নম্বর ১৯ অবতীর্ণ হয়েছে। কোনো পুরুষ স্পর্শ ব্যতীত অলৌকিকভাবে হজরত ঈসা আঃ-এর জন্মদান ক্রিয়াকে কেন্দ্র করেই এই মহীয়সী নারীর প্রসঙ্গ বিবৃত হয়েছে। কুরআনের কিঞ্চিৎ উদ্ধৃতিঃ সে বলল, আমি তো শুধু তোমার পালনকর্তা প্রেরিত, যাতে তোমাকে এক পবিত্র পুত্র দান করে যাবো। তিনি বললেন, কিরূপে আমার পুত্র হবে, যখন কোনো মানব আমাকে স্পর্শ করেনি এবং আমি ব্যভিচারিণীও কখনো ছিলাম না। সে বলল, এমনিতে হবে … এটা তো এক স্থিরীকৃত ব্যাপার। অতঃপর তিনি গর্ভে সন্তান ধারণ করলেন এবং তৎসহ এক দূরবর্তী স্থানে চলে গেলেন। … অতঃপর তিনি সন্তান নিয়ে তার সম্প্রদায়ের কাছে উপস্থিত হলেন।১৯ঃ ১৯-২৭ পুরুষ স্পর্শ ব্যতীত গর্ভধারণ এবং পুত্রসন্তান প্রসবের ঘটনা তিনি শুধু প্রশ্নবিদ্ধ হননি- নানা অপবাদ ও ঘটনারও মুখোমুখি হন। পবিত্র কুরআনে এসব মিথ্যের অপনোদন করে তাকে সতী-সাধ্বী বলে ঘোষণা দেয়া হয় এবং তাঁকে এক গৌরবজনক স্থানে অধিষ্ঠিত করা হয়- হজরত মারিয়ামের মতো অন্য কোনো নারী সম্পর্কে এত বিস্তৃত আলোচনা পবিত্র কুরআনে আর লক্ষ করা যায় না।

৫. হজরত ইবরাহিম আঃ-এর প্রধানত দুই স্ত্রী- হজরত বিবি সারা এবং হজরত বিবি হাজেরা। প্রথম স্ত্রী হজরত সারা ছিলেন নিঃসন্তান। হজরত ইবরাহিম আঃ স্ত্রী সারাসহ একবার মিসরে পৌঁছেন। বিবি সারা ছিলেন অপূর্ব সুন্দরী। মিসর-রাজ ফিরাউন এ সংবাদ অবহিত হয়ে তাদেরকে ডেকে পাঠান এবং বিবি সারাকে তার নিকট সমর্পণ করার নির্দেশ দেন। অসৎ উদ্দেশ্যে ফিরাউন তাঁর দিকে হাত বাড়ালে অলৌকিকভাবে তার হাত অবশ হয়ে যায় এবং বিবি সারার দোয়ায় তিনি সুস্থ হয়ে ওঠেন- এরূপ তিনবার ঘটার পর তিনি হজরত বিবি সারাকে তাঁর অলৌকিকতায় মুগ্ধ হয়ে মুক্ত করে দেন শুধু তা-ই নয়, ‘হাজার নামক এক সেবিকাকে তিনি তাঁকে উপঢৌকন হিসেবে প্রদান করেন। বিবি সারা এই সেবিকাকে হজরত ইবরাহিম আঃ-এর সেবাদানের জন্য নিযুক্ত করেন। পরে হজরত সারার দূতিয়ালি ও পরামর্শে সন্তানহীন স্বামী হজরত ইবরাহিমের সাথে পরিণয় সূত্রে আবদ্ধ করেন এবং এরূপে বিবি হাজার হজরত ইবরাহিম আঃ-এর দ্বিতীয় স্ত্রীর মর্যাদা লাভ করেন। হজরত ইবরাহিম আঃ আল্লাহর কাছে প্রার্থনা জানানঃ হে আমার প্রতিপালক আমাকে এক সুসন্তান দান করুন। আল্লাহ তাঁর দোয়া কবুল করেন। পবিত্র কুরআনের বর্ণনাঃআমি তাকে স্থিরবুদ্ধি পুত্রসন্তানের সুসংবাদ দিলাম। ৩৭ঃ১০০-১০১ হজরত বিবি হাজেরার গর্ভে নবী হজরত ইসমাইল আঃ জন্মগ্রহণ করেন। হজরত ইসমাইলের আঃ মাতা হিসেবে হজরত বিবি হাজেরা আমাদের কাছে আজও অমর হয়ে আছেন, বিশেষ করে শিশুপুত্র হজরত ইসমাইল আঃ-কে নির্জনে রেখে পানির অনুসন্ধানে ছাফা-মারওয়াপাহাড়ের মধ্যবর্তী স্থানে দৌড়াদৌড়ি করা এবং শিশুপুত্রের পদাঘাতে সৃষ্টি হওয়া জম জম কূপের সৃষ্টির মধ্য দিয়ে। হজরত ইবরাহিমের আঃ প্রথম স্ত্রী সারা প্রসঙ্গে পবিত্র কুরআনে উল্লেখঃ তাঁর স্ত্রী কাছেই দাঁড়িয়েছিল, সে হেসে ফেলল। অতঃপর আমি তাকে ইসহাকের জন্মের সুখবর দিলাম এবং ইসহাকের পর ইয়াকুবেরও। সে বলল, কী দুর্ভাগ্য আমার আমি সন্তান প্রসব করব? অথচ আমি বার্ধক্যের শেষ প্রান্তে এসে উপনীত হয়েছি এবং আমার স্বামীও বৃদ্ধ, এতো ভারি আশ্চর্যের কথা ১১ঃ ৭১-৭২ হজরত ইবরাহিম আঃ-এর দুই স্ত্রীর দুই ধারা আজও প্রবহমানঃ ইসমাইলীয় ও ইসহাকীয়।

৬. ইমরাতে আজিজ আজিজের স্ত্রী। সৎ ভাইদের ষড়যন্ত্রের শিকার বালক ইউসুফ আঃ-কে আজিজে মিসর ক্রয় করে নিয়ে আসেন এবং স্ত্রীকে বললেন, একে সম্মানে রেখো। হয়তো সে আমাদের কোনো উপকারে আসবে অথবা আমরা পুত্ররূপেও গ্রহণ করতে পারি। এভাবে ইউসুফ আঃ এই পরিবারে প্রতিপালিত হয়ে কালক্রমে এক সুন্দর, সুঠাম এবং আকর্ষণীয় যুবকে পরিণত হন। হজরত ইউসুফ আঃ ছিলেন অপরূপ সুন্দর। আজিজের পত্নী (জুলেখা) এই সৌম্যকান্তি তরুণের প্রতি মাত্রাতিরিক্তভাবে আসক্ত হয়ে পড়ে এবং যেকোনো কৌশলে স্বীয় বাসনা পূরণে তাঁকে প্ররোচিত করতে থাকে। ইউসুফ আঃ-ও তার প্রতি অনেকটা ঝুঁকে পড়েন যদি না আল্লাহ তাঁর স্বীয় মহিমায় তাঁর কাছ থেকে নির্লজ্জ বিষয় অপসারণ করতেন। ঘটনা এ পর্যন্ত গড়ায় যে, মহিলা দরজা বন্ধ করে তার কুবৃত্তি সাধনের জন্য পুনঃপুনঃ তাঁকে আহ্বান করতে থাকে। এক পর্যায়ে তিনি দৌড়ে বেরিয়ে যান এবং তাঁর জামার পশ্চাৎভাগ ছিন্ন হয়ে যায়। বের হয়েই তিনি মহিলার স্বামী আজিজের মুখোমুখি হন- আজিজ স্ত্রী তখন অভিযোগ জানিয়ে বলেন যে, এই গোলাম তার চরিত্র হরণের অপচেষ্টা চালিয়েছে- তাঁকে কারারুদ্ধ করে রাখা হোক। সত্যাসত্য নিরূপণের জন্য এক বিজ্ঞ লোক পরামর্শ দেন যে, যদি জামার সম্মুখভাগ ছিন্ন থাকে তবে মহিলা সত্য কথা বলেছেন বলে ধরে নেয়া যায়। অন্য দিকে যদি জামার পশ্চাৎভাগ ছিন্ন থাকে তবে মহিলা মিথ্যে বলেছে বলে প্রমাণিত হবে। বাস্তবে জামার পশ্চাৎভাগ ছিন্ন পাওয়া গেলেও অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে ইউসুফ আঃ-কে কারাবরণই করতে হয়- অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে অবশেষে আজিজ স্ত্রী স্বয়ং স্বীকার করেন যে, ইউসুফ আঃ নির্দোষ, তিনি নিজেই অপরাধ করেছেন। ইউসুফ আঃ সৎ ও সত্যবাদী। পবিত্র কুরআনে এ বিষয়ে এক বিস্তৃত আলোচনা এসেছেঃ ১২ঃ ২০-৩০।আজিজ-পত্নী বললঃ এখন এ সত্যবাদিতা স্পষ্টরূপে প্রমাণ হওয়ার পর আজিজ মিসর হজরত ইউসুফ আঃ-কে রাজপদে অধিষ্ঠিত করেন।

 
মন্তব্য দিন

Posted by চালু করুন ডিসেম্বর 5, 2010 in ইসলাম

 

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

 
%d bloggers like this: