RSS

দাওয়াত ও তাবলিগ কী এবং কেন?

05 ডিসে.

দাওয়াত ও তাবলিগ কী এবং কেন?


কোনো দেশ, কোনো অঞ্চল বা কোনো গোষ্ঠীবিশেষের জন্য ইসলাম ধর্ম প্রেরিত হয়নি। ইসলাম সমগ্র বিশ্বের সব যুগের সব মানুষের ধর্ম। তাই দুনিয়াবাসীর জন্য ইসলামই হলো একমাত্র অনুসরণীয় ও অনুকরণীয় আদর্শ। পথভ্রষ্ট মানবজাতিকে পথের দিশা দিতে যুগে যুগে আল্লাহর মনোনীত ১ লাখ মতান্তরে ২ লাখ ২৪ হাজার নবী ও রাসূল দাওয়াত ও তাবলিগের দায়িত্ব পুঙ্খানুপুঙ্খরূপে পালন করে গেছেন। হজরত আদম আঃ থেকে শুরু করে সর্বশেষ নবী ও রাসূল হজরত মুহাম্মদ সাঃ-এর আগমন ও ওফাতের মাধ্যমে এ ধারার সমাপ্তি ঘটে। হুজুর সাঃ-এর পর থেকে এ দায়িত্ব খোলাফায়ে রাশেদিন, সাহাবায়ে কেরাম, তাবেইন, তাবেতাবেইন, সলফে সালেহিন এবং আলেমরা পালন করছেন। ১৯৪১ সালে দিল্লির মেওয়াতে মাওলানা ইলিয়াস রহঃ তাদেরই পদাঙ্কা অনুসরণ করে দাওয়াত ও তাবলিগের কাজ শুরু করেন। যার সম্প্রসারিত রূপ আজকের টঙ্গীর তুরাগ তীরের বিশ্ব ইজতেমা। মানুষের মুক্তি ও কামিয়াবি হাসিলের উদ্দেশ্যে এক আল্লাহর প্রতি ঈমান আনা এবং আমলে সালেহ (সৎ কাজ বা ভালো কাজ) করাই এ দাওয়াতের মুখ্য বিষয়।

আল্লাহতায়ালা এ দাওয়াতি কাজটি ব্যক্তিগতভাবে, সমষ্টিগতভাবে সবার ওপর সমানভাবে দিয়ে দিয়েছেন। তাই প্রত্যেক মানুষের ওপরই তার স্বীয় ক্ষমতা অনুযায়ী সত্যের প্রচার করা ফরজ। বিদায় হজের ভাষণে রাসূল সাঃ বলেছেন, ‘আমার পর আর কোনো নবী আসবে না। অতএব আমার একটি বাণী হলেও অন্যের কাছে পৌঁছে দাও।

পৃথিবীর প্রায় সব ধর্মের নামকরণ হয়েছে কোনো বিশেষ ব্যক্তির নামে। খ্রিষ্টধর্মের নাম হয়েছে এর প্রচারক যিশুখ্রিষ্টের নামে। বৌদ্ধ ধর্মের নাম হয়েছে মহাত্মা বুদ্ধের নামে। তবে ইসলাম এমন একটি ধর্ম যা কোনো ব্যক্তি বা জাতির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। ইসলামের নামকরণ করেছেন মহান আল্লাহপাক। একমাত্র আল্লাহর ওপর দৃঢ়বিশ্বাস রেখে তাঁর দেয়া বিধিবিধান যথাযথভাবে পালন করা ব্যতীত কোনো লোক প্রকৃত মুসলমান হতে পারে না। ইসলাম অর্থ আল্লাহর কাছে আনুগত্য প্রকাশ করা, আত্মসমর্পণ করা, শান্তির পথে চলা। মূলত যিনি ইসলামের বিধান মেনে চলেন তিনিই মুসলমান। ইসলাম আল্লাহতায়ালার মনোনীত একমাত্র দীন। জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত একজন মুসলমানকে আল্লাহর মনোনীত ব্যবস্থার আলোকেই জীবনযাপন করতে হয়। নিশ্চয়ই আল্লাহর কাছে একমাত্র গ্রহণযোগ্য ধর্ম হচ্ছে ইসলাম।’ (সূরা আলে ইমরান, আয়াত-১৯)। তাই আল্লাহর নির্দেশ, ‘হে ঈমানদারগণ! তোমরা পরিপূর্ণভাবে ইসলামে প্রবেশ করো।’ (সূরা বাকারা, আয়াত-২০৮)। পরিপূর্ণভাবে ইসলামে প্রবেশ করতে হলে নিজের ঈমান ও আমল ঠিক করতে হবে এবং মানুষকে ভালোবেসে মানুষের মঙ্গলের জন্য আল্লাহর রাস্তায় সময় ও সম্পদ ব্যয় করতে হবে। মানবজীবনের একমাত্র কামিয়াবি মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের হুকুম পালন করার মধ্যেই নিহিত।

আল্লাহ পবিত্র কুরআনে বলেন, ‘আমি চাই তোমাদের মধ্যে এমন একদল লোক হোক যারা মানুষকে সত্যের পথে আহ্বান করবে, ভালো কাজের আহ্বান করবে, আর মন্দ কাজ থেকে বিরত রাখবে। ওই দলটাই হলো সাফল্য লাভকারী।’ (সূরা আলে ইমরান, আয়াত-১০৪)

পথভোলা মানুষকে পথের সন্ধান দেয়া, বিপথগামী মানুষকে সঠিক পথে আনা, মানুষকে সুপরামর্শ দেয়া, চরিত্রবান ও সৎ সাহসী করা, অভাবগ্রস্ত, বিপদগ্রস্ত, দুস্থ, এতিম, অসহায়ের প্রতি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয়া, মহৎ কর্মের উপমা সৃষ্টি করা, ভালো কাজে উৎসাহী করা, মন্দ থেকে বিরত রাখা, কর্মচঞ্চল করা, কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দেয়া, এক কথায় ইহকাল ও পরকালের শান্তির জন্য মানুষকে সত্য ও সরল পথে চলার আহ্বানই হচ্ছে দাওয়াত বা তাবলিগ।

মানুষের কল্যাণের জন্য কাজ করতে হলে, ভালো দিয়ে মন্দের মোকাবেলা করতে হলে বিনয়ী ও ধৈর্যশীল হতে হবে। মানুষকে ভালোবাসতে হবে। হৃদয়ে মানুষের প্রতি ভালোবাসা পয়দা না হলে দাওয়াত ও তাবলিগের কাজ করা সম্ভব নয়। হজরত আনাস রাঃ থেকে বর্ণিত, রাসূল সাঃ ইরশাদ করেন, ‘তোমরা দীনের দাওয়াত সহজ করো, কঠিন কোরো না। সুসংবাদ দাও, বীতশ্রদ্ধ কোরো না।’ (বুখারি ও মুসলিম)। আল্লাহপাক ঘোষণা করেন, ‘তুমি তোমার প্রতিপালকের দিকে ডাকো কৌশল সহকারে উত্তম নসিহতের মাধ্যমে এবং বিতর্ক করো উত্তম পন্থায়।’ (সূরা নাহল, আয়াত-১২৫)।

দাওয়াত ও তাবলিগে সময়, জান ও মাল উৎসর্গ করে আল্লাহর প্রকৃত প্রেমিক হতে হবে। তবেই মানুষ আহ্বানে সাড়া দেবে। আল্লাহর রাস্তায় একটা সকাল বা একটা বিকাল ব্যয় করা সারা দুনিয়ার মধ্যে যা কিছু আছে তার চেয়ে উত্তম।’ ‘হে মুমিনগণ, তোমাদিগকে কি এমন একটি ব্যবসার সন্ধান দান করব যা তোমাদেরকে কঠোর আজাব থেকে রক্ষা করবে? তা হলো, তোমরা আল্লাহর ওপর ও আল্লাহর রাসূলের ওপর ঈমান আনবে, মেহনত করবে আল্লাহর রাস্তায় মাল ও জান দিয়ে।’ (সূরা আস-সাফ, আয়াত-১০)। আল্লাহর রাস্তায় জান ও মাল দিয়ে মেহনত করার অর্থই হচ্ছে সৃষ্টিকে ভালোবেসে স্রষ্টাতে বিলীন হওয়া। এই পৃথিবীতে আল্লাহর দীন কায়েমের মাধ্যমে মানুষের স্থায়ী (পরকালীন) মুক্তির ব্যবস্থা করে দেয়া এবং দুনিয়াবি কল্যাণ করা। তার কথার চেয়ে উত্তম কথা কার হতে পারে, যে মানুষকে আল্লাহর দিকে ডাকে, নেক আমল করে এবং সে বলে, আমি মুসলমানদের অন্তর্ভুক্ত।’ (সূরা হা-মীম আস-সাজদা, আয়াত-৩৩)।

আসুন, আমরা আমিত্ব ও স্বার্থের বন্ধন ছিন্ন করে ঈমানদার ও ভালো মানুষ হই। নিজে আমলে সালেহ করি এবং কথা, কাজ, বক্তৃতা ও লিখনীর মাধ্যমে আল্লাহর দীনের সুস্পষ্ট চিত্র মানুষের সামনে তুলে ধরি। বাস্তব জীবনে এর উজ্জ্বল নমুনা পেশ করি। দাওয়াত ও তাবলিগের মাধ্যমে মানুষকে প্রেম ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ করে আল্লাহর রজ্জুকে মজবুত করে ধরতে শিখি। আধুনিক যুগে নৈকিতা ও মূল্যবোধের দারুণ সঙ্কট থেকে উত্তরণের জন্য, বিশ্বময় শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য দাওয়াত ও তাবলিগের কোনো বিকল্প নেই।

Advertisements
 
মন্তব্য দিন

Posted by চালু করুন ডিসেম্বর 5, 2010 in ইসলাম, জানা অজানা

 

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

 
%d bloggers like this: