RSS

প্রাকৃতিক পরিবেশ ও ইসলাম

05 Dec

প্রাকৃতিক পরিবেশ ও ইসলাম


বর্তমান বিশ্বের সর্বপ্রধান সমস্যা হচ্ছে প্রাকৃতিক পরিবেশের পরিবর্তন। পরিবেশবাদীরা এবং আন্দোলনকারী বহু সংগঠন ও ফোরাম বিশ্বব্যাপী আওয়াজ তুলছে, পরিবেশ পরিবর্তন ঠেকাতে সরকারগুলো যেন বাস্তব পদক্ষেপ গ্রহণ করে। মুসলিম হিসেবে চলমান বিশ্বের কল্যাণ-অকল্যাণে আমরা নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করতে পারি না। রাসূলুল্লাহ সাঃ এরশাদ করেছেন সে আমার উম্মতের অন্তর্ভুক্ত নয়, যে মুসলিমদের সামগ্রিক বিষয়-আশয়কে গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে না। এ সুন্দর পৃথিবীকে সাজিয়ে-গুছিয়ে সৃষ্টি করে তথায় খিলাফতের দায়িত্ব পালনের জন্য আল্লাহতায়ালা আমাদের সৃষ্টি করেছেন। পৃথিবীর সার্বিক তত্ত্বাবধান এ খিলাফতের অন্যতম দায়িত্ব। এ পৃথিবীর সার্বিক পরিবেশ সংরক্ষণও দায়িত্বের আওতায় পড়ে।

এ সুন্দর পৃথিবীর বৈচিত্র্যময় সৃষ্টিকুলের দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করে আল্লাহতায়ালা আমাদের উদ্দেশে বলেন, নিশ্চয়ই আসমান ও জমিনের সৃষ্টিতে, রাত এবং দিনের আবর্তনে সাগরের বুকে চলতে থাকা নৌযানগুলো, যা মানুষের প্রভূত কল্যাণ সাধন করে, আকাশ থেকে আল্লাহ যে বারি বর্ষণ করেন, যা দ্বারা মরে যাওয়া জমিনকে তিনি জীবন্ত করে তোলেন এবং সব প্রাণিকুলকে ছড়িয়ে দেন, বায়ুপ্রবাহ এবং আকাশ ও জমিনের মধ্যখানে অনুগত করে রাখা মেঘমালার মধ্যে রয়েছে জ্ঞানী লোকদের জন্য বহুবিধ নিদর্শন। (বাকারাঃ ১৬৪)

আল্লাহ আমাদের নীতিমালা ঠিক করে দিয়েছেন, আমাদের সাথে স্রষ্টার সম্পর্ক কেমন হবে? প্রতিটি সৃষ্টির সাথে আমাদের সম্পর্ক কেমন থাকবে, সে ব্যাপারেও রয়েছে ইসলামে সুস্পষ্ট নীতিমালা। আল্লাহতায়ালা এরশাদ করেনঃসদাচরণ করো, যেমনটি আল্লাহ তোমার প্রতি সদাচরণ করেছেন। আর ভূপৃষ্ঠে ফাসাদ সৃষ্টি করো না। আল্লাহ ফাসাদ সৃষ্টিকারীদের পছন্দ করেন না।

এ ফাসাদের রয়েছে বহুবিধ অর্থ। তন্মধ্যে অন্যতম হচ্ছে প্রাকৃতিক পরিবেশকে বিনষ্ট করে দেয়া। জলবায়ু,প্রাণিজগৎ, গাছপালা, পাখপাখালি, মৎস্যরাজি এসব কিছুর সার্বিক ক্ষতিসাধন হয়, এমন কর্মে জড়িত হওয়া মানবজাতির জন্য বৈধ নয়। প্রাকৃতিক পরিবেশের প্রতিটি উপাদান আমাদের প্রতি আমানত। এসব আমরা ভোগ করব, এমনকি ভক্ষণ করব ঠিকই, কিন্তু সার্বিক ক্ষতিসাধনের মতো কোনো অন্যায় কর্ম যেন আমরা না করি। কিন্তু এসবের ব্যবহার করতে গিয়ে মানুষ সীমালঙ্ঘন করে আজ প্রাকৃতিক পরিবেশের মধ্যে অনেক বিপর্যয় ডেকে এনেছে। গ্লোবাল ওয়ার্মিং এ পৃথিবীকে বিপন্ন করে তুলেছে। আবহাওয়া ও পরিবেশ পরিবর্তনের অন্যতম কারণ হচ্ছে অতিরিক্ত জ্বালানি ব্যবহার, যা উৎপাদন করছে মাত্রাতিরিক্ত কার্বন ডাই-অক্সাইড। যেসব প্রাকৃতিক সম্পদকে আল্লাহতায়ালা আমাদের কল্যাণের জন্য সৃষ্টি করেছিলেন, সেগুলোর অপচয় ও অপব্যবহার আমাদের পৃথিবীর আগামী প্রজন্মের জীবনকে ভয়ঙ্কর বিপদের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। প্রাকৃতিক সম্পদগুলোর অপচয় ও অপব্যবহারের ফলে দূষিত হচ্ছে জলবায়ু, বেড়ে যাচ্ছে ভূকম্পন, উজাড় হয়ে যাচ্ছে বনাঞ্চল, হারিয়ে যাচ্ছে বহু পশুপাখি ও বৃক্ষরাজি। অপচয় ও অপব্যবহার ইসলামে অত্যন্ত নিন্দনীয়। আল্লাহতায়ালা এরশাদ করেনঃ তোমরা খাও এবং পান করো, তবে অপচয় করো না। (আরাফঃ ৩১) তিনি আরো বলেন, ‘অপব্যয়কারীরা শয়তানের ভাই। (বনি ইসরাইলঃ ২৭)। খাবার-দাবারের ক্ষেত্রে ইসলাম নিয়ন্ত্রিত হতে বলেছে। রাসূলুল্লাহ সাঃ এরশাদ করেনঃ পেটের চেয়ে খারাপ আর কোনো বস্তু বনি আদম পূর্ণ করে না। এতটুকু খাবার গ্রহণই বনি আদমের জন্য যথেষ্ট, যা খেলে তার মেরুদণ্ড দণ্ডায়মান থাকে। যদি খেতেই হয়, তাহলে পেটের এক-তৃতীয়াংশ খাবার আর এক-তৃতীয়াংশ পানীয়, আর বাকি অংশ শ্বাস-প্রশ্বাসের জন্য বরাদ্দ করবে। আফসোসের বিষয় হচ্ছে, অনেক সময় আমরা এত বেশি পাক করি, যা খেয়ে শেষ করতে পারি না। বেশি পরিমাণের ঠিকানা হয় শেষ পর্যন্ত ডাস্টবিন। অতিরিক্ত খাদ্য খেয়ে যত রোগী হাসপাতালে যায়, তার তুলনায় কম খাদ্য গ্রহণের ফলে রোগী হয়ে খুব কম লোকই হাসপাতালে যায়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র উন্নত বিশ্বের অন্যতম বড় সমস্যা হচ্ছে মুটিয়ে যাওয়া, মাত্রাতিরিক্ত খাদ্য গ্রহণই অধিকাংশ সময় মুটিয়ে যাওয়ার প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়ায়। প্রিয় নবী সাঃ এরশাদ করেনঃ আমরা এমন এক জাতি, যারা ক্ষুধা না লাগা পর্যন্ত খাবার গ্রহণ করি না। আর খেতে বসলে পুরো পেট ভর্তি না হওয়া পর্যন্ত খাই। তিনি ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন, তার উম্মতের কিছু লোকের পেট বড় হতে থাকবে কিয়ামতের আগে। প্রাকৃতিক পরিবেশের তোয়াক্কা না করে বেধড়ক শিল্পায়ন,প্রয়োজনের অতিরিক্ত শিল্পদ্রব্য উৎপাদন, বিজ্ঞানের বল্গাহীন গবেষণা, প্রযুক্তির যথেচ্ছ ব্যবহার, জিএস ফুড চর্চা,ক্লোনিং এসব কিছুর সীমালঙ্ঘন পৃথিবীর জলবায়ুকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিয়েছে। প্রাকৃতিক পরিবেশের অন্যতম উপাদান গাছপালা, বৃক্ষরাজি। এ ব্যাপারে আপনারা অনেকেই প্রিয় নবী সাঃ-এর হাদিস জেনেছেন। যদি দেখো যে,কিয়ামত শুরু হয়ে গেছে আর তোমার হাতে রয়েছে একটি গাছের চারা, এটিকে রোপণ করতে বিলম্ব করো না। প্রকৃতির প্রতিটি উপাদানকে আল্লাহ পরিবেশ রক্ষার জন্য একে অপরের সম্পূরক হিসেবে সৃষ্টি করেছেন। তিনি এরশাদ করেনঃ আল্লাহ প্রতিটি জিনিসকে পরিমাণ মতো সৃষ্টি করেছেন। (তাল্লাকঃ ৩) ।চন্দ্র-সূর্যের ব্যাপারে আল্লাহ বলেন, ‘চন্দ্র ও সূর্য বেঁধে হিসাব মেনে চলে। (আর রাহমান)। শুধু মানুষই অপচয়, অপব্যবহার আর সীমালঙ্ঘন করে ডেকে আনে বিপর্যয়। মানবজাতি পরিবেশ বিপর্যয় মোকাবেলা করতে যে পেরেশানি করছে, মুসলিমদের জন্য সুযোগ এসেছে ঐশীবাণীতে যে সুন্দর সমাধান রয়েছে, তা পেশ করে মানবতাকে উদ্ধার করতে। আল্লাহ আমাদের তাওফিক দিন।


Advertisements
 
মন্তব্য দিন

Posted by চালু করুন ডিসেম্বর 5, 2010 in ইসলাম

 

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

 
%d bloggers like this: