RSS

বৈচিত্রেভরা প্রাণিজগৎ

05 Dec

বৈচিত্রেভরা প্রাণিজগৎ

ভল্লুকঃ আমাদের দেশের পার্বত্য চট্টগ্রামের বনাঞ্চলে ভল্লুক বাস করে। এছাড়া হিমালয়ের পাদদেশে এরা রয়েছে। মাথা থেকে লেজের আগা পর্যন্ত প্রায় সাড়ে চার ফুট হতে সাড়ে ছয় ফুট লম্বা হয়ে থাকে। এদের শরীরের ওজন প্রায় ১৫০ কেজি পর্যন্ত হয়। সমস্ত শরীর কালো হয়। ভল্লুক সর্বভুক প্রাণী, বিভিন্ন জাতের ফল-মূল বাঁশের কঁচি গোড়া এবং অন্যান্য সবজি খেয়ে বনে-জঙ্গলে জীবনধারণ করে। মধু এদের খুব প্রিয়। এক সঙ্গে দুটি বাচ্চা প্রসব করে থাকে। ১২ থেকে ১৫ বছর পর্যন্ত এরা বেঁচে থাকে।

হাতিঃ বাংলাদেশের পাহাড়ি অঞ্চলে হাতি বাস করে। এদের উচ্চতা ৯ ফুট পর্যন্ত হয়। বিভিন্ন ধরনের ঘাস, পাতা,বাঁশপাতা ও গাছের ডালপালা খেয়ে হাতি জীবনধারণ করে। এদের জীবনকাল ৮০ বছর।

সিংহঃ পুরুষ সিংহ ৩ ফুট এবং স্ত্রী সিংহ ২ ফুট ১০ ইঞ্চি লম্বা হয়ে থাকে। পুরুষ সিংহের ওজন ৪শ পাউন্ড পর্যন্ত হয়। বর্তমানে আফ্রিকার জঙ্গলে সিংহ রয়েছে। ভারতের গির অরণ্যেও এরা বাস করে। সাধারণত হরিণ, মহিষ ও জেব্রা ইত্যাদি শিকার করতে ভালবাসে। ১০ কি ১২ মাস বয়স হলে এরা শিকার শুরু করে দেয়। সিংহের জীবনকাল প্রায় ১৬ বছর পর্যন্ত।

জেব্রাঃ সাহারা মরুভূমির পূর্ব ও দক্ষিণ দিক হতে শুরু করে ইথিওপিয়া পর্যন্ত এরা বাস করে। জেব্রা ৪ ফুট পর্যন্তôলাফ দিতে পারে। ঘাস ও ভাঙ্গা যব এদের প্রিয় খাদ্য। সবুজ ঘাস, গাজর ইত্যাদিও খায়। জেব্রা সাধারণত ২০ বছর পর্যন্ত বাঁচে।

জিরাফঃ আফ্রিকা মহাদেশের সাহারা মরম্নভূমির দক্ষিণাঞ্চলের দেশ যেমন-সুদান, ইথিওপিয়া, কেনিয়া, উগান্ডা প্রভৃতি দেশে জিরাফ বসবাস করে। ১৮ হতে ২০ ফুট পর্যন্ত এরা লম্বা হয়। প্রকৃতিতে এরা কাঁটা জাতীয় বাবলা ও বিভিন্ন গাছের পাতা খেয়ে জীবনধারণ করে। জিরাফ সাধারণত ২৫ বছর পর্যন্ত বেঁচে থাকে।

শিম্পাঞ্জীঃ আফ্রিকার বিভিন্ন জায়গায় এবং কংগো নদীর অববাহিকায় শিম্পাঞ্জীর বসবাস। এরা দলবদ্ধভাবে চলাচল করে। শিম্পাঞ্জী চঞ্চল প্রকৃতির, দিনের বেলা এরা গাছে গাছে বসে থাকে। এরা বিভিন্ন প্রকারের ফলমূল, গাছের কচি ডালপাতা খেয়ে থাকে। বিভিন্ন ছোট পাখি এবং ডিমও খায়। শিম্পাঞ্জী সাধারণত ৭ থেকে ৮ বছর বয়সে পূর্ণতা লাভ করে। এরা গড়ে ৩০ বছর পর্যন্ত বেঁচে থাকে।

গেছো বাঘঃ গেছো বাঘের গলার স্বর সাধারণত বিড়ালের মতই। এই সুদর্শন জীবটির গায়ে ধূসর বর্ণের ওপর মেঘাকৃতি গুটি দাগ থাকে। লেজে কালো আংটির মত দাগ থাকে। এদের ওজন প্রায় ২০ কেজি পর্যন্ত হয়ে থাকে। পাগুলো বেশ খাটো। এরা এক সঙ্গে ২ থেকে ৩টি বাচ্চা প্রসব করে। গেছো বাঘ প্রায় ২০ বছর পর্যন্ত বেঁচে থাকে।

নীলগাইঃ ভারতের রাজস্থানে ও হরিয়ানা রাজ্যের বনাঞ্চলে এদেরকে বেশি দেখা যায়। একটি পুরুষ নীলগাইয়ের ওজন প্রায় ২৮০ গ্রাম পর্যন্ত হয়। পৃথিবীর বহু দেশে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে নীলগাইয়ের খামার গড়ে উঠেছে। এরা এক সঙ্গে দুটি করে বাচ্চা দেয়।

বাঘঃ সুন্দবনের বাঘকে বলা হয় রয়েল বেঙ্গল টাইগার। এদের মত ভয়ংকর ও সুতীব্র চাহনি পৃথিবীর অন্য কোনো জন্তুর মধ্যে নেই। পূর্ণ বয়স্ক বাঘের ওজন ৫ মণ পর্যন্ত হয়। প্রতি প্রসবে এরা ২ থেকে ৫টি বাচ্চা দিয়ে থাকে। এদের গায়ের রং উজ্জ্বল হলদে বর্ণের যার ওপর রয়েছে কালোডোরা কাটা দাগ। এর বিভিন্ন ধরনের প্রাণী শিকার করে। শুধু তাই নয়, মানুষ পেলেও খায়। বাঘ ১৫ থেকে ১৬ বছর পর্যন্ত বেঁচে থাকে।

 
মন্তব্য দিন

Posted by চালু করুন ডিসেম্বর 5, 2010 in জানা অজানা

 

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

 
%d bloggers like this: