RSS

স্ত্রীর মোহরানা পরিশোধ করা আল্লাহর নির্দেশ

05 ডিসে.

স্ত্রীর মোহরানা পরিশোধ করা আল্লাহর নির্দেশ


দাম্পত্যজীবনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও চরমভাবে উপেক্ষিত এমন একটি বিষয় নিয়েই এ প্রবন্ধের আলোচনা। ঘর সংসার করার পরও স্ত্রীকে তার ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত রাখা আর বঞ্চিত রাখার প্রয়োজনে কূট-কৌশলের আশ্রয় নেয়া তথা ধর্মীয় নির্দেশ অমান্য করার ব্যাপারটি রীতিমত আশ্চর্যজনকই বটে! তবে ব্যাপারটি এমনই গুরুত্ববহ যে,নিয়মমাফিক উক্ত ন্যায্য পাওনা পরিশোধ না করলে তা আদালত পর্যন্ত গড়ানোর মত বিষয়! আর বলে রাখা ভাল যে, সে আদালত হচ্ছে আদালতে আখেরাত তথা হাশরের ময়দান।

ধর্মগ্রন্থ পবিত্র কুরআনুল করীমে আল্লাহ বলেন, ‘আর স্ত্রীদেরকে তাদের মোহর দিয়ে দাও সন্তুষ্টচিত্তে (সূরা নিসা আয়াত নং-৪)। মো

হরানা কি? এর উত্তরে বলা যায়, বিয়েতে আলস্নাহ কর্তৃক নির্দেশিত অপরিহার্য প্রদেয় হিসেবে স্বামী কর্তৃক স্ত্রী যে অর্থ সম্পদ পেয়ে থাকে, তাকে মোহরানা বলে। অন্যভাবে বলা যায়, মোহরানা বলতে এমন অর্থ সম্পদ বুঝায়, যা বিয়ের বন্ধনে স্ত্রীর ওপর স্বামীত্বের অধিকার লাভের বিনিময়ে স্বামীকে আদায় করতে হয়। মনে রাখতে হবে মোহরানা স্বামীর করুণা নয়, নয় সামাজিক কোন ট্র্যাডিশন। এছাড়া বিয়ের কথার সময় মোহরানা ধরতে হবে আর বাসর রাতে মোহরানা মাফ চাইতে হবে বা মাফ নিতে হবে এমন খেলনা জাতীয় বিষয়ও নয়। স্ত্রীর মোহরানা দেয়ার জন্য আল্লাহ যে নির্দেশ তা নামাজ-রোযার মতই কুরআনের নির্দেশ, ফরজ। মোহরানার অর্থ সামগ্রী স্ত্রীর একান্ত প্রাপ্য। মোহরানা স্ত্রীর অর্থনীতির নিরাপত্তার জন্য আল্লাহর এক বিশেষ দান এবং স্ত্রীর অর্থনৈতিক নিরাপত্তার রক্ষাকবচও বটে!

সামর্থের মধ্যে বিয়ের মোহরানা নির্ধারণ করা মহানবী সালস্নালস্নাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর শিক্ষা। সামাজিক স্ট্যাটাস বা লৌকিকতার খাতিরে মোটা অংকের মোহরানা ধার্য করে তা পরিশোধ না করা, পরিশোধ করার ইচ্ছে নেই, শুধু একটা অংক স্বীকার করা প্রতারণার শামিল। স্ত্রীর সঙ্গে প্রথম নির্জন সাক্ষাতে মোহরানার টাকা মাফ চেয়েছেন,এরকম স্বামীর সংখ্যা কি কম? বিয়ের মজলিসে অনেক মানুষের সম্মুখে মোহরানার অংক কবুল করে বাসর ঘরে একাকী স্ত্রীর নিকট মোহরানা মাফ চাওয়া (মাফ না চেয়ে যে স্বামী সময় চেয়েছেন তাকে অসংখ্য মোবারকবাদ,পৌরুষের অধিকারী হিসেবে তিনি অবশ্যই সাধুবাদ পাওয়ার যোগ্য) বা মাফের সুযোগ খোঁজা কি আদৌ পৌরুত্বের পরিচায়ক? পৌরুর অধিকারী ঈমানদার স্বামী মোহরানা আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত স্ত্রীর একান্ত এক অধিকার। বাসর রাতে তা স্ত্রীকে জানাবেন এটুকুই তো কাম্য এবং করণীয় হওয়া উচিত। মোহরানা স্ত্রীর এমন এক প্রাপ্য যা তিনি স্বামীর সাথে মিলিত হওয়ার আগে প্রাপ্ত হবেন। স্ত্রীর সাথে আলোচনা সাপেক্ষে স্ত্রী স্বামীকে সময় দিলে বাকি রাখা চলে। তবে মোহরানার অর্থ আবশ্যিকভাবে পরিশোধ করতে হবে, হোক তা নগদ, কিছু নগদ বাকি অংশ পরে বা কিস্তিতে। ছলে-বলে কৌশলে বা স্ত্রীর অজ্ঞতার সুযোগে মোহরানা মাফ করিয়ে নিলে তা মাফ না হয়ে হবে জুলুম-প্রতারণা। মোহর আদায় না করলে স্ত্রীর নিকট ঋণী থাকতে হবে, পেতে হবে সাজা। এ ব্যাপারে হাদীসে কঠোর সতর্কবাণী এসেছে। রাসুল সালস্নাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি কোন মেয়েকে মোহরানা দেয়ার ওয়াদায় বিয়ে করেছে, কিন্তু সে মোহরানা আদায় করতে তার ইচ্ছে নেই, সে কিয়ামতের দিন আল্লাহর সামনে অপরাধী হিসাবে দাঁড়াতে বাধ্য হবে (মুসনাদে আহমদ)। এ প্রসঙ্গে আরেকটি হাদীস বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। রাসুল সাল্লালস্নাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘পাঁচ ব্যক্তির উপর আল্লাহর ক্রোধ অবশ্যম্ভাবী। তিনি ইচ্ছে করলে দুনিয়াতেই তাদের পর তা কার্যকর করবেন, নচেৎ আখিরাতে কার্যকর করবেন (এর মধ্যে এক ব্যক্তি হচ্ছেন) যে ব্যক্তি স্বীয় স্ত্রীকে মোহরানার থেকে বঞ্চিত করে ও তার ওপর অত্যাচার চালায়। স্ত্রীর মোহরানার টাকা পরিশোধ করা কত জরুরি তা যেমনি স্বামীদেরকে ভাবতে হবে, তেমনি হবু স্বামীদেরকে সামর্থের মধ্যেই মোহরানা নির্ধারণে সচেষ্ট হতে হবে। মনে রাখতে হবে বিয়ে-শাদী সম্পন্ন হয় ধর্মের আলোকে, কোরআন হাদীস অনুযায়ী। অথচ মোহরানা নির্ধারণে বা পরিশোধে শরয়ী নিয়মকে বৃদ্ধাঙ্গুলী প্রদর্শন করা ঈমানদার ব্যক্তি বা পরিবারের জন্য কাম্য ও শোভনীয় নয়। দাম্পত্য জীবনরূপী পরীক্ষায় উত্তীর্ণের জন্য এবং পরকালীন আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়ানো থেকে বাঁচার জন্য মুসলমান হিসেবে বিবাহ, বিবাহে করণীয় ও বর্জনীয় এবং মোহর সংক্রান্ত নিয়ম-নীতি আমাদেরকে জানতে হবে,জানাতে হবে। এক্ষেত্রে বর-কনেসহ অভিভাবকদের, বিয়ের সাথে সংশিস্নষ্টদের বিশেষ করে মায়েদের সচেতনতা আদর্শ পরিবার গঠনে অগ্রণী ভূমিকা রাখতে পারে নিঃসন্দেহে। নারীদেরকে নিয়ে যারা চিন্তা-ভাবনা করেন, কথাবার্তা বলেন, লেখালেখি করেন, তারা যদি স্ত্রীদেরকে ইসলাম ধর্মের দেয়া মোহরানার ব্যাপারেও সোচ্চার হতেন, লেখালেখি করতেন তাহলে কতই না ভাল হতো। আমরা জানি ঋণ খেলাপীসহ বিভিন্ন খেলাপীদেরকে দুনিয়ার কাঠগড়ায় আসামী হতে হয়। মোহরানা খেলাপীরা দুনিয়ার কাঠগড়ায় আসামী না হলেও আখিরাতের কাঠগড়ায় আসামী হতেই হবে। স্ত্রীর মোহরানার অর্থ আদায় করা স্বামীর উপর যেমন অবশ্য কর্তব্য, তেমনি তা ইবাদতও। তাই বিবাহিতরা স্ত্রীর মোহরানা না দিয়ে থাকলে তা এক্ষুণি দিয়ে দেই আর বিবাহে ইচ্ছুকরা আগে-ভাগেই মোহরানার ব্যাপারে চিন্তা-ভাবনা করি এবং প্রস্তুতি গ্রহণ করি। আলস্নাহ আমাদেরকে কবুল করুন।


Advertisements
 
মন্তব্য দিন

Posted by চালু করুন ডিসেম্বর 5, 2010 in ইসলাম

 

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

 
%d bloggers like this: