RSS

নারীর মর্যাদা ও অধিকার

06 Dec

নারীর মর্যাদা ও অধিকার


নর ও নারী মিলেই মানবজাতি। পৃথিবীতে ইসলামই নারীদের যথাযোগ্য মানমর্যাদা ও অধিকার প্রতিষ্ঠিত করেছে। ইসলাম ধর্ম আবির্ভাবের আগে নারী জাতিকে অতি তুচ্ছ মনে করা হতো। এমনকি তাদের মানুষ হিসেবেই গণ্য করা হতো না। তখন তাদের পণ্য হিসেবে কেনাবেচাসহ সমাজে মুখ রক্ষার ভয়ে পাথর চাপা দিয়ে মাটিতে পুঁতে রাখা ছিল নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার। তখনকার সমাজে নারী হয়ে জন্ম নেয়া ছিল পাপ, আর পিতা-মাতার কাছে ছিল চরম অপমানজনক।

ঠিক ওই মুহূর্তে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন হজরত মুহাম্মদ সা:-কে রাসূল হিসেবে পাঠান এবং তার মাধ্যমেই ইসলামের পরিপূর্ণতা সাধন করেন। নারীদের নিয়ে এসব মনুষ্যত্বহীন কার্যকলাপের বিরুদ্ধে ইসলাম সোচ্চার হয়ে ওঠে এবং এসব অবহেলিত, লাঞ্ছিত, বঞ্চিত, নিপীড়িত, অসহায়, নি:স্ব নারীদের একমাত্র ইসলামই মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত করে। মূলত ইসলাম নারী জাতিকে এক করুণ অমানবিক অবস্খা থেকে উদ্ধার করে তাদের মানুষ হিসেবে যথাযোগ্য অধিকার এবং সম্মানজনক মর্যাদা নিশ্চিত করে। পবিত্র কুরআন মাজিদে নারীদের অধিকার ও মর্যাদা সম্পর্কে এরশাদ হয়েছেআর পুরুষদের যেমন স্ত্রীদের ওপর অধিকার রয়েছে, তেমনিভাবে স্ত্রীদেরও নিয়ম অনুযায়ী পুরুষদের ওপর অধিকার রয়েছে। আর নারীদের ওপর পুরুষদের শ্রেষ্ঠত্ব রয়েছে। আর আল্লাহ হচ্ছে পরাক্রমশালী, বিজ্ঞ।’ (সূরা আল বাকারাহ,আয়াত-২২৮)

একমাত্র ইসলামই মা, কন্যা, স্ত্রী প্রভৃতি হিসেবে নারীদের বিশেষ মর্যাদা ও অধিকার প্রদান করেছে। নারীর প্রথম পরিচয় সে পিতা-মাতার কন্যা। কিন্তু কন্যা হিসেবে ইসলামপূর্ব যুগে তার কোনো মর্যাদাই ছিল না। আরবে তো লজ্জা-শরমে, মনের কষ্টে কন্যাশিশুদের জীবন্ত কবর দেয়া হতো। তা ছাড়া পৃথিবীর সর্বত্রই কন্যাসন্তান হলে পরিবারের সবার মুখ কালো হয়ে যেত। এ সম্পর্কে পবিত্র কুরআন মাজিদে এরশাদ হয়েছেযখন তাদের কন্যাসন্তানের সুসংবাদ দেয়া হয়, তখন তাদের মুখ কালো হয়ে যায় এবং অসহ্য মনোস্তাপে ক্লিষ্ট হতে থাকে। তাকে শোনানো সুসংবাদের দু:খে সে লোকদের কাছ থেকে মুখ লুকিয়ে থাকে। সে ভাবে, অপমান সহ্য করে তাকে থাকতে দেবে, না তাকে মাটির নিচে পুঁতে ফেলবে। শুনে রাখো, তাদের ফায়সালা খুবই নিকৃষ্ট। (সূরা আন নাহল, আয়াত-৫৮-৫৯)

এ আয়াত দ্বারা স্পষ্ট বোঝা যায়, কন্যাসন্তান জন্মগ্রহণ করলে খুশি হওয়া উচিত। হাদিস শরিফে বর্ণিত হয়েছে, ‘যখন কন্যাসন্তান ভূমিষ্ঠ হয় তখন আল্লাহপাক ফেরেশতাদের প্রেরণ করেন। তারা এসে বলে পরিবারের সবার ওপর শান্তি বর্ষিত হোক। অত:পর তারা তাদের বাহু দিয়ে কন্যাসন্তানটিকে আবেষ্টন করে এবং তার মাথায় হাত রেখে বলে এক অবলা হতে আর এক অবলা বের হয়েছে। যে ব্যক্তি এর রক্ষণাবেক্ষণে মনোযোগী হবে সে কিয়ামত পর্যন্ত সাহায্য পাবে।

রাসূলে করিম সা: এরশাদ করেনকারো কন্যাসন্তান ভূমিষ্ঠ হলে সে যদি তাকে পুঁতে না ফেলে, তাকে যদি সে অপমানিত না করে এবং তাকে উপেক্ষা করে যদি সে পুত্রসন্তানের পক্ষপাতিত্ব না করে, তাহলে আল্লাহপাক তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন।’ (আবু দাউদ শরিফ)।

স্ত্রী হিসেবেও ইসলাম নারীর অধিকার সংরক্ষণ করেছে। পবিত্র কুরআন মাজিদে এরশাদ হয়েছে, ‘তারা তোমাদের পরিচ্ছদ এবং তোমরাও তাদের পরিচ্ছদ।’ (সূরা বাকারা, আয়াত-১৮৭)

ইসলাম বিবাহের ব্যাপারে সুস্পষ্ট বিধান প্রদান করেছে। বহুবিবাহ প্রথাকে নস্যাৎ করার জন্য চারজন পর্যন্ত স্ত্রী গ্রহণের অনুমতি দেয়া হলেও সে ক্ষেত্রে কিছু শর্তারোপ করা হয়েছে। যার কারণে ইচ্ছা করলেই একাধিক স্ত্রী গ্রহণের প্রবণতা রোধ হয়ে যায়। প্রত্যেক স্ত্রীর ওপর সুবিচার করার ক্ষমতা ও সামর্থ্য না থাকলে একটি বিয়ে করার নির্দেশ জারি রাখা হয়েছে। এ ব্যাপারে পবিত্র কুরআনে এরশাদ হয়েছেবিয়ে করবে তোমাদের পছন্দমতো দুই, তিন কিংবা চার নারীকে। আর যদি এরূপ আশঙ্কা করো যে, তাদের মধ্যে ন্যায়সঙ্গত আচরণ বজায় রাখতে পারবে না, তবে একজনকেই।’ (সূরা আন নিসা, আয়াত-৩)

স্বামী-স্ত্রীর বিবাহ বিচ্ছেদকে ইসলাম নিরুৎসাহিত করেছে। মহানবী সা: এরশাদ করেন, ‘একটি জিনিস শরিয়তে জায়েজ হলেও আল্লাহতায়ালা পছন্দ করেন না। আর তা হচ্ছে তালাক।তা ছাড়া তালাক এড়ানোর পরামর্শ দিয়ে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন এরশাদ করেনযদি তাদের (স্বামী-স্ত্রীর) মধ্যে সম্পর্কচ্ছেদ হওয়ার মতো পরিস্খিতির আশঙ্কা করো,তবে স্বামীর পরিবার থেকে একজন এবং স্ত্রীর পরিবার থেকে একজন বিচারক নিযুক্ত করবে। তারা উভয়েই মীমাংসা চাইলে আল্লাহপাক তাদের মধ্যে অনুকূল অবস্খা সৃষ্টি করবেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বজ্ঞ, সব কিছু অবহিত।’ (সূরা আন নিসা, আয়াত-৩৫)

নারীরা হচ্ছে মায়ের জাতি। মায়ের মর্যাদা সম্পর্কে মহানবী সা: এরশাদ করেনমায়ের পদতলে সন্তানের জান্নাত।একজন সাহাবি নবী করিম সা:-এর কাছে এসে তাকে জিজ্ঞেস করলেন আমার কাছে খেদমত পাওয়ার সবচেয়ে বেশি হকদার কে? রাসূল সা: বললেন তোমার মা। সাহাবি বললেন, তারপর কে? রাসূল সা: বললেন তোমার মা। সাহাবি বললেন, তারপর কে? রাসূল সা: বললেন, তোমার মা। সাহাবি বললেন, তারপর কে? রাসূল সা: বললেন, তোমার পিতা এবং অত:পর পর্যায়ক্রমে তোমার আত্মীয়স্বজন। (বুখারি, মুসলিম, তিরমিজি, আবু দাউদ শরিফ)।

রাসূলে করিম সা:-এর আগমনের আগে ধনসম্পত্তিতে নারীদের কোনো উত্তরাধিকার স্বত্ব স্বীকৃত ছিল না। ইসলামই মৃতের পরিত্যক্ত সম্পত্তির হকদার পুরুষের পাশাপাশি নারীকেও করে নেয়। পবিত্র আল কুরআনে এরশাদ হয়েছেপিতা-মাতা ও আত্মীয়স্বজনের পরিত্যক্ত সম্পত্তিতে পুরুষদেরও অংশ আছে এবং পিতা-মাতা ও আত্মীয়স্বজনদের পরিত্যক্ত সম্পত্তিতে নারীদেরও অংশ আছে। অল্প হোক কিংবা বেশি হোক, এ অংশ নির্ধারিত। (সূরা আন নিসা,আয়াত-৭)

নারী-পুরুষ উভয়ের জন্য ইসলামে জ্ঞানার্জন করা ফরজ। ইসলামে নারী-পুরুষ উভয়কেই পরিশ্রমী ও কর্মনিষ্ঠ হওয়ার তাগিদ প্রদান করা হয়েছে। পবিত্র কালামে পাকে এরশাদ হয়েছে পুরুষ যা অর্জন করে সেটা তার প্রাপ্য অংশ এবং নারী যা অর্জন করে সেটা তার প্রাপ্য অংশ।’ (সূরা আন নিসা, আয়াত-৩২)

ইসলাম নারীদের কখনোই অবরোধবাসিনী হতে বলে না, বরং নারী যাতে পণ্যসামগ্রী না হয়, বিনোদন ও ভোগের বস্তুতে পরিণত না হয়, তার সম্ভ্রম যাতে বজায় থাকে সে জন্য ইসলাম যথাযথ পর্দার নির্দেশ প্রদান করেছে। সামাজিক স্খিতিশীলতায় নারী জাতির মৌলিক ও প্রধান অধিকার মান-সম্ভ্রম রক্ষার্থে ইসলাম পর্দাকে ফরজ করে দিয়েছে। নারী স্বাধীনতা, নারী মুক্তি, নারীর অধিকার মূলত ইসলামই দিয়েছে। তাই ইসলামী জীবনব্যবস্খা অনুসরণের মাধ্যমেই নারীর মর্যাদা ও অধিকার যেমন নিশ্চিত হবে, তেমনি নারী মুক্তি, নারী স্বাধীনতার পথ পাওয়াও সহজ হবে।

 
মন্তব্য দিন

Posted by চালু করুন ডিসেম্বর 6, 2010 in ইসলাম

 

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

 
%d bloggers like this: