RSS

বিয়ের নৈতিক তাৎপর্য

06 ডিসে.

বিয়ের নৈতিক তাৎপর্য

ইসলামের দৃষ্টিতে বিয়ে হচ্ছে একটি পবিত্র সামাজিক বìধন বা পরস্পরের সম্মতিক্রমে সম্পাদিত একটি চুক্তি। এটি সুন্নাত বা প্রথা ও এবাদত।

বিয়ে ওয়াজিব না সুন্নাত না বিভিন্ন অবস্খায় বিভিন্ন রূপ : যে ব্যক্তি সম্পর্কে প্রবল ধারণা এই যে, সে বিবাহ না করলে শরিয়তের সীমার মধ্যে থাকতে পারবে না, গোনাহে লিপ্ত হয়ে পড়বে এবং বিবাহ করার শক্তি-সামর্থ্যও রাখে এরূপ ব্যক্তির জন্য বিবাহ করা ফরজ অথবা ওয়াজিব। সে যত দিন বিবাহ না করবে তত দিন গোনাহগার থাকবে।

এরূপ ব্যক্তির জন্য রাসূলুল্লাহ সা: এরশাদ করেন, সে উপর্যুপরি রোজা রাখবে।

বিবাহের প্রয়োজনীয়তা : কুরআনুল কারিমে সূরা আন-নূরের ৩২ নম্বর আয়াতে এ কথা বলা হয়েছে যে, ‘তোমাদের মধ্যে যারা বিবাহহীন তাদের বিবাহ সম্পাদন করে দাও এবং তোমাদের দাস ও দাসীদের মধ্যে যারা সৎকর্মপরায়ণ তাদেরও। তারা যদি নি:স্ব হয়, তবে আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে তাদের সচ্ছল করে দেবেন। আল্লাহ প্রাচুর্যময়, সর্বজ্ঞ।

আলোচ্য আয়াত থেকে স্পষ্ট অনুধাবন করা যায়, সঠিক সময়ে বিয়ে করা কতটা গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এতে অনেক ধর্মীয় ও পার্থিব উপকারিতা রয়েছে। এর ফলে অশ্লীলতার সব পথ রুদ্ধ হয়ে যায়।

মুসনাদে আহমদে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সা: হজরত ওকাফ রা:-কে জিজ্ঞাসা করলেন : তোমার স্ত্রী আছে কি? তিনি বললেন, ‘না। আবার জিজ্ঞাসা করলেন কোনো শরিয়তসম্মত বাঁদী আছে কি? উত্তর হলো না। প্রশ্ন হলো তুমি কি আর্থিক সচ্ছলশীল? উত্তর হলো হ্যাঁ। উদ্দেশ্য এই যে, তুমি কি বিবাহের প্রয়োজনীয় ব্যয় নির্বাহের সামর্থ্য রাখো? তিনি উত্তরে হ্যাঁ বললে রাসূলুল্লাহ সা: বললেন, তাহলে তো তুমি শয়তানের ভাই।

বিয়েতে বর-কনের কোন গুণগুলোকে প্রাধান্য দেয়া উচিত : ইসলামের নির্দেশ হচ্ছে বিয়ের সময় বর কিংবা কনের দীনদারি, ভদ্রতা এবং আমানতদারীকে প্রাধান্য দেয়া উচিত। যে হারাম উপার্জন করে তার চেয়ে বর হিসেবে সেই উত্তম যে হালাল উপায়ে উপার্জন করে। যদিও আর্থিক দিক দিয়ে সে দুর্বল হয়। আর কনে হিসেবে সেই মেয়েই উত্তম যে দীনদার, নম্র ও স্বামীর অনুগত। এ ক্ষেত্রে উল্লেখ্য, বিয়ের আগে বর কনেকে এবং কনে বরকে দেখে নেয়া সুন্নাত।

বিয়ের ক্ষেত্রে পিতা-মাতার দায়িত্ব ও কর্তব্য : নির্দেশ হচ্ছে সন্তানের বিয়ের বয়স হলে এবং ভালো সম্বìধ পাওয়া গেলে বিয়ে দিয়ে দেয়া, যাতে সন্তান বিপথগামী না হয়। যদি বিয়ে না দেয়ার কারণে সন্তান বিপথে চলে যায় তাহলে সন্তানের পাশাপাশি পিতা-মাতাও গুনাহর অংশীদার হবেন।

হাদিসে বলা হয়েছে, সন্তান যখন বালেগ হয়, তখন যদি পিতা-মাতা তাদের বিয়ের ব্যাপারে পদক্ষেপ না নেয়,এমতাবস্খায় সন্তান কোনো গুনাহে লিপ্ত হলে পিতা-মাতার ওপর তার সম্পূর্ণ দায় বর্তায়। (মিশকাত)

উপরিউক্ত আলোচনা থেকে এ কথা স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান, বিয়ে মানুষের জীবনের একটি মৌলিক সামাজিক কর্মকাণ্ড, যা কুরআন ও হাদিস দ্বারা প্রমাণিত।

Advertisements
 

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

 
%d bloggers like this: