RSS

বিসমিল্লাহর ব্যবহার

06 Dec

বিসমিল্লাহর ব্যবহার


বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম এ বাক্যটি সব ভালো কাজের শুরুতে মুসলমানরা কুরআন-হাদিসের শিক্ষানুযায়ীই ব্যবহার করেন। এমনকি ছোটখাটো যেসব কাজ সেগুলোও বিসমিল্লাহ দিয়েই শুরু করা হয়। স্বাভাবিকভাবেই মুসলমান সম্পাদিত কোনো চুক্তিপত্র, দলিল দস্তাবেজ, চিঠিপত্র প্রভৃতির প্রথমে বিসমিল্লাহ দিয়ে শুরু করাই ইসলামী রীতি বা বিধান। ইসলামের যে মূল গাইড বুক অর্থাৎ কুরআন সেটিরও সূচনাই হয়েছে বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিমবাক্য দ্বারা। এ পুস্তকের প্রতিটি অধ্যায়ের শুরুতেও বিসমিল্লাহ রয়েছে। এ হিসেবে তাতে ১১৪ বার বিসমিল্লাহ আছে। আর হজরত সুলায়মান আ: সমকালীন সাবার রানীকে যে গুরুত্বপূর্ণ সরকারি পত্র লিখেছিলেন তা-ও তিনি শুরু করেছেন উপরিউক্ত বাক্য দ্বারা (দ্র. সূরা নামল, আয়াত নম্বর ৩০)।

সরকারি গুরুত্বপূর্ণ যেকোনো দলিলের সূচনায় বিসমিল্লাহ

হজরত মুহাম্মদ সা: সমকালীন রাজরাজড়াদের পত্র মারফত ইসলাম গ্রহণের আহ্বান জানান। তিনি সমকালীন বায়জানটাইন সম্রাট মহামতি হিরাক্লিয়াসের কাছে যে দাওয়াতপত্র পাঠিয়েছিলেন, তার সূচনাও করেছেন বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিমবাক্য দ্বারা। ইসলাম ও মুসলমানদের দ্বিতীয় কিতাব সহিহুল বুখারি’, যা বুখারি শরিফ নামে বিশ্বব্যাপী প্রসিদ্ধ, এর প্রথম অধ্যায়ের ৭ নম্বর হাদিসে ওই পত্রখানা উক্ত আছে। রাসূলুল্লাহ সা: পত্রখানার সূচনা করেছেন এভাবে, ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম। মিন মুহাম্মাদিন আবদিল্লাহি ওয়া রাসূলিহি ইলা হিরাকলা আজিমির রুম”…। এমনকি বুখারি গ্রন্থখানি সূচনা হয়েছে বিসমিল্লাহ বাক্য দ্বারা। মদিনার সনদের সূচনায় বিসমিল্লাহ

হজরত মুহাম্মদ সা: হিজরত করে মদিনায় পৌঁছে এখানে একটি ক্ষুদ্র পরিসর রাষ্ট্রের ভিত্তি স্খাপন করেন। এখানকার স্খায়ী বাসিন্দারা প্রধানত চারটি ধর্মের অনুসারী ছিল মুসলিম, ইহুদি, খ্রিষ্টান ও পৌত্তলিক। এরা ক্ষুদ্র-বৃহৎ প্রায় ২১টি গোত্র-উপগোত্রে বিভক্ত ছিল। হজরত মুহাম্মদ সা: তাদের সবার জন্য অবশ্য পালনীয় একটি সংবিধান প্রণয়ন করেন,যা ইতিহাসে মদিনার সনদনামে প্রসিদ্ধ। এটি হলো পৃথিবীর সর্বপ্রথম লিখিত সংবিধান। হজরত মুহাম্মদ সা: এই সংবিধানের সূচনাও করেছেন বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিমবাক্য দ্বারা। এই সংবিধানের প্রধান কয়েকটি ধারা হলো

1. আল্লাহর নবী মুহাম্মদ সা: হবেন এই রাষ্ট্রের রাষ্ট্রপ্রধান;

2. এই রাষ্ট্র শাসিত হবে আল্লাহর দেয়া বিধান মোতাবেক;

3. এই সংবিধানের অধীন প্রত্যেক ধর্মীয় সম্প্রদায়ের জন্য স্বাধীনভাবে নিজ নিজ ধর্ম পালনের সুযোগ সংরক্ষিত থাকবে;

4. ধর্ম-বর্ণ-নির্বিশেষে সবাই এই রাষ্ট্রকে বহি:শত্রুর আক্রমণ থেকে রক্ষা করবে;

5. সনদভুক্ত কোনো গোত্র বহি:শত্রুর দ্বারা আক্রান্ত হলে সনদভুক্ত অন্য সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে তাদের সাহায্য করবে। (বিস্তারিত দেখুন, ইমাম ইবনে কাছির র:, আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, দ্বিতীয় ভলিউম, তৃতীয় খণ্ড, পৃষ্ঠা ২২৩, দারুল কুতুব আল-ইলমিয়্যা, প্রথম সং, বৈরুত ১৪০৫ হিজরি/১৯৮৫ খ্রি:। বৃহৎ ১৪ খণ্ডে বিভক্ত ইসলামের ইতিহাস সংক্রান্ত এই পুস্তকখানির সূচনাও হয়েছে বিসমিল্লাহ বাক্য দ্বারা।

বিভিন্ন জাতি, গোত্র ও শাসকদের কাছে লিখিত রাসূলুল্লাহ সা:-এর সব দাওয়াতপত্রের সূচনায় রয়েছে বিসমিল্লাহ। তার পরবর্তী চারজন মহান রাষ্ট্রনায়কের সময় সম্পাদিত গুরুত্বপূর্ণ সনদ ও দলিলগুলোর সূচনায় রয়েছে বিসমিল্লাহ। এমনকি ১৭৫৭ সালে সিরাজুদ্দৌলার পরাজয়ের আগ পর্যন্ত আগেকার সব সরকারি গুরুত্বপূর্ণ সনদ ও দলিলগুলোর সূচনাও বিসমিল্লাহ দ্বারা। পৃথিবীর বিভিন্ন জাদুঘরে রক্ষিত প্রাচীন দলিলপত্রের স্তূপ অনুসìধান করলে বিসমিল্লাহির প্রমাণ পাওয়া যাবে।

মুসলিম উম্মাহর ঐতিহ্য

পৃথিবীর সব জাতিরই নিজস্ব একটা ঐতিহ্য আছে। তারা এ ঐতিহ্য রক্ষা ও অনুসরণ করার জন্য সর্বতোভাবে চেষ্টা করে। একইভাবে মুসলমানরাও তাদের নিজস্ব ঐতিহ্য রক্ষা ও অনুসরণের চেষ্টা করে। তাই প্রত্যেক মুসলমান যেকোনো উত্তম কাজ বিসমিল্লাহ দ্বারা সূচনা করেন। পানাহারের সূচনায় বিসমিল্লাহ, কোথাও রওনা হলে বিসমিল্লাহ এবং আরো বহু ক্ষেত্রে তারা বিসমিল্লাহ বলে শুভ সূচনা করেন। হজরত মুহাম্মদ সা: বলেন, ‘যেকোনো কাজের সূচনায় বিসমিল্লাহ (আল্লাহতায়ালার নাম) উচ্চারণ করা না হলে তা কল্যাণশূন্য’ (মুসনাদ আহমাদ)।

বাংলাদেশের সংবিধানে বিসমিল্লাহ

বাংলাদেশের শাসনব্যবস্খা পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত হয় সংবিধানে বিবৃত নিয়মকানুন দ্বারা। সংবিধান যেকোনো জাতির গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামক শক্তিধর সনদ। এই সনদের সূচনা বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিমবাক্য দ্বারা শুরু হওয়া অত্যন্ত জরুরি। হজরত মুহাম্মদ সা:-এর বাণী অনুসারে এটি আমাদের জন্য কল্যাণকর হবে না যদি তার সূচনায় ওই বাক্য না থাকে। অতএব সংবিধান থেকে বিসমিল্লাহ বাক্য বাদ দেয়ার কোনো সুযোগ নেই।

কোনো বই বিসমিল্লাহ দ্বারা সূচনা করা হলো কি না তা আমাদের বিবেচ্য বিষয় নয়। আমাদের বিবেচ্য বিষয় হলো রাসূলুল্লাহ সা: এসব ক্ষেত্রে যে নীতি অবলম্বন করেছেন তার অনুসরণ করা। তিনি গুরুত্বপূর্ণ যেকোনো লিখিত দলিলের সূচনায় বিসমিল্লাহ বাক্য যোগ করেছেন।

Advertisements
 
মন্তব্য দিন

Posted by চালু করুন ডিসেম্বর 6, 2010 in ইসলাম

 

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

 
%d bloggers like this: