RSS

ভোগবিলাসিতার কুফল

06 Dec

ভোগবিলাসিতার কুফল


জীব জগতে ভোগের চাহিদায় যুদ্ধ আবহমানকাল থেকেই চলে আসছে। এক জীব আরেক জীবকে ভোগের জন্য ধ্বংস করছে। বিবেক-বুদ্ধিসম্পন্ন মানুষের মধ্যেও ভোগবিলাসের প্রয়োজনে অন্য জীবকে ধ্বংস এবং মানুষে মানুষে যুদ্ধ জারি রয়েছে সৃষ্টির আদি থেকে। এ যুদ্ধ ব্যক্তিতে ব্যক্তিতে, পরিবারে পরিবারে, গোত্রে গোত্রে, দলে দলে, রাজায় রাজায়,রাজায় প্রজায়, অঞ্চলে অঞ্চলে, দেশে দেশে, জাতিতে জাতিতে অল্পবিস্তর চলে আসছে কালে কালে। বর্তমানে ভোগবিলাসের এ যুদ্ধ কখনো আন্তর্জাতিক রূপ লাভ করছে।

আগের দিনের যুদ্ধগুলো ছিল গাছ আর পাথরের নির্মিত অস্ত্রাঘাতের যুদ্ধ। পরে তার স্খান দখল করেছে লৌহ নির্মিত তীর-তরবারির মতো বিভিন্ন অস্ত্র, যা ছিল সরাসরি যুদ্ধলিপ্তদের মধ্যে সীমিত ও সামনাসামনি যুদ্ধ। যা যুদ্ধসীমার বাইরের জনতার ওপর খুব একটা বিস্তার লাভ করত না। কিন্তু আধুনিককালের ব্যাপক ধ্বংসাত্মক অস্ত্রশস্ত্রের যুদ্ধগুলো শুধু যুদ্ধলিপ্তদেরই ধ্বংস করেনি, বরং যুদ্ধবিমুখ শান্তি ও উন্নতিপ্রিয় নিরপরাধ জনগোষ্ঠীকেও ব্যাপক হারে ধ্বংস বা বিকলাঙ্গ করে। ধ্বংস করে আধুনিক উন্নয়নের দালান-কোঠা, কল-কারখানা, ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান,চিকিৎসাপ্রতিষ্ঠান, রাস্তাঘাট, ব্রিজ-কালভার্ট, স্খলযান, জলযান, আকাশযান, শহর, নগর, বন্দর আর সীমা-সংখ্যাহীন জীবন।

যুগে যুগে যুদ্ধের মর্মবিদারী দৃশ্য, ক্ষতিগ্রস্তদের সীমাহীন দু:খ-দুর্দশা শান্তিপ্রিয় চিন্তাশীল মানুষকে তাড়িত করেছে শান্তির অìðষায়। দান করেছে যুদ্ধ ও জুলম-অবিচারবিরোধী চেতনা। এ ধারায় ন্যায়-অন্যায়ের ব্যাখ্যা ও বিধান নিয়ে আবির্ভাব হয়েছেন নবী-রাসূলরা। আবির্ভাব হয়েছেন সক্রেটিস, প্লেটো, অ্যারিস্টটল এবং হবস, লক, রুশো, ভল্টেয়ারের মতো বিশেষ আইনের উদ্গাতা ও রাষ্ট্র দর্শনের প্রতিষ্ঠাতাদের। এভাবে কুফর, শিরক আর যুদ্ধবিগ্রহ সৃষ্ট আইয়ামে জাহিলিয়ার সীমাহীন জুলুম, অত্যাচার, অবিচার, ব্যভিচার, চুরি, ডাকাতি, রাহাজানি, অরাজকতা ইত্যাদি পৃথিবীর বুক থেকে নির্মূল করার জন্য আল্লাহতালা তাঁর রাসূলকে এ সবের কেন্দ্রভূমিতে প্রেরণ করেন। এ লক্ষ্যে রিসালত-পূর্ব বাল্যবয়সেই সেখানে তাঁর নেতৃত্বে মানব বিশ্বের প্রথম শান্তি মিশন হিলফুল ফুজুলগঠিত হলো। কাবাঘর পুনর্নির্মাণকালে তাঁরই সরল বুদ্ধিপ্রসূত সবার গ্রহণযোগ্য সিদ্ধান্তে কালো পাথরখানা সব গোত্রপতি কর্তৃক বাহিত হয়ে তাঁরই হাতে শান্তিপূর্ণভাবে যথাস্খানে স্খাপিত হলো। মক্কার গোত্রগুলোর মধ্যে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ সম্ভাবনা সব গোত্রের সন্তোষজনক উপায়ে তিরোহিত হয়ে গোত্রগুলোর মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হলো। নবুওয়াত-পরবর্তী মাদানি জীবনে তাঁর নেতৃত্বে দল-মত নির্বিশেষে সব সম্প্রদায়ের ঐকমত্যে শান্তিশৃঙ্খলার জন্য বিশ্বের প্রথম লিখিত সংবিধান মাদিনার সনদলিপিবদ্ধ হলো। তাঁরই কর্তৃত্বে মদিনার মুসলিম আর মক্কার অমুসলিমদের মধ্যে শান্তি-শৃঙ্খলার একটি ঐতিহাসিক চুক্তি হুদায়বিয়ার সìিধলিপিবদ্ধ ও স্বাক্ষরিত হলো। সর্বোপরি আল্লাহতায়ালা তাঁর রাসূলের মাদানি জীবনের সূচনা থেকেই জুলুমের উৎখাত ও জালিমের নিপাতসম্পর্কিত কুরআনের বাণী ও বিধানের অবতারণা শুরু করেন। আল্লাহর রাসূল তাঁর মাদানি জীবনে সেসব বিধান অপরিহার্য করণীয় হিসেবে কার্যত বাস্তবায়নকরত শান্তি ও উন্নতির ধারা জারি করেন। কুরআনের অনুসারী পরবর্তী খলিফারা তাঁর অনুগমন করেন।

আমরা মনে করি, সবার কল্যাণে আল্লাহর কিতাবের শিক্ষা বাস্তবায়ন আর আল্লাহর সৃষ্ট জান্নাতের অনুকরণে পৃথিবীর ভূমিতে পানির নিয়মিত অবস্খান এবং পরিমিত সরবরাহ নিশ্চিত করার ব্যবস্খা গ্রহণ সবার শান্তি ও উন্নতির জন্য প্রয়োজন। তবেই যুদ্ধবিগ্রহ জুলম-অত্যাচার, অবিচার-ব্যভিচার, অশান্তি-অরাজকতা, অভাব-অনটনমুক্ত বিশ্ব গড়ে উঠবে;যা মানুষের স্বাধীনতা, শান্তি ও উন্নতি আনয়নের অমোঘ ব্যবস্খা। যার বিকল্প হতে পারে না। আর এ জাতীয় স্খায়ী কল্যাণের বিষয়গুলো সদকায়ে জারিয়ার আমল। যেমন হজরত আনাস রা: বলেন, আল্লাহর রাসূল সা: বলে গেছেনসাতটি কাজের প্রতিফল কর্তাব্যক্তির মৃত্যুর পর তার কবর জীবনেও চলমান থাকে। যেমন ১. যে ব্যক্তি (কুরআন ও হাদিসভিত্তিক) কোনো জ্ঞান দান করে গেল। অথবা ২. কোনো নহর গভীরভাবে খনন করে গেল। অথবা ৩. কোনো জলাধার খনন করে গেল। অথবা ৪. খেজুরের মতো কোনো বৃক্ষ রোপণ করে গেল। অথবা ৫. (কুরআনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান) কোনো মাসজিদ নির্মাণ করে গেল। অথবা ৬. (কুরআন ও হাদিসভিত্তিক) কোনো গ্রন্থের উত্তরাধিকার রেখে গেল। অথবা ৭. এমন সন্তান রেখে গেল যে তার মৃত্যুর পর তার জন্য গুনাহ মাফ চায়। তবে সে ব্যক্তি তার মৃত্যুর পরে কবর জীবনেও এসবের প্রতিফল পেতে থাকে। (বাযযার কর্তৃক সঙ্কলিত)। মানুষের শিক্ষা, শান্তি ও উন্নতি ইত্যাদি সব চাহিদার সর্বোত্তম সমাধানের পথনির্দেশক হিসেবে আল্লাহর রাসূলের এ জাতীয় বহু বাণীই রয়েছে। এসব কারণে বিশ্বখ্যাত ব্রিটিশ নাট্যকার বার্নাড শ জগৎবাসীকে উদাত্ত আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘বিশ্ববাসী তোমরা যদি শান্তি ও সমৃদ্ধি পেতে চাও তবে এ বিশ্বের একনায়কত্ব মুহাম্মদের হাতে ছেড়ে দাও। (তথা একমাত্র তার উপস্খাপিত শিক্ষা ও বিধিবিধানের দ্বারাই বিশ্ব পরিচালনা করো)

 
মন্তব্য দিন

Posted by চালু করুন ডিসেম্বর 6, 2010 in ইসলাম

 

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

 
%d bloggers like this: