RSS

সালাত আল্লাহর নৈকট্য লাভের উপায়

06 ডিসে.

সালাত আল্লাহর নৈকট্য লাভের উপায়


মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন মানবজাতিকে একমাত্র তাঁর এবাদতের জন্য সৃষ্টি করেছেন। আর নি:সন্দেহে সালাত বা নামাজ তাঁর নৈকট্য লাভের অন্যতম মাধ্যম। কুরআনে আল্লাহতায়ালা বলেন, সালাত কায়েম করো। (সূরা বনি ইসরাইল : ৭৮)। কথা ও কাজে তার প্রকাশ ঘটাতে হবে। এ জন্য আল্লাহপাক যেসব কাজ ফরজ করে দিয়েছেন তার মধ্যে সালাত অন্যতম। পবিত্র কুরআনে বারবার সালাত কায়েম করার হুকুম দেয়া হয়েছে।

আল কুরআনে আল্লাহ বলেন, ‘হে মুহাম্মদ সা: তোমার ওপর যে পবিত্র কিতাব নাজিল হয়েছে তা পড়ো এবং নামাজ কায়েম করো। নিশ্চয়ই নামাজ অশ্লীলতা ও দুষ্কার্য প্রতিরোধকারী।’ (সূরা আনকাবুত-৪৫)।

সালাত বা নামাজের মর্তবা বা ফজিলত সম্পর্কে মুসলমান ভাইবোনরা যদি অন্তর দিয়ে বোঝার চেষ্টা করতেন তাহলে কখনোই তারা নামাজ থেকে দূরে থাকতেন না। নামাজ হচ্ছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবাদত। কিয়ামতের দিন নামাজের হিসাবই সর্বপ্রথম নেয়া হবে। কুরআনে আল্লাহ বলেন, ‘আমার স্মরণের জন্য নামাজ পড়ো।’ (সূরা তাহা-১৪)। তোমরা ধৈর্য ও নামাজের মাধ্যমে সাহায্য প্রার্থনা করো।’ (সূরা বাকারা-৪৫)।

হজরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর রা: থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সা: এরশাদ করেনইসলামের ভিত্তি পাঁচটি খুঁটির ওপর প্রতিষ্ঠিত। সর্বপ্রথম কালেমায়ে লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ সা:-এর সাক্ষ্য দেয়া অর্থাৎ এই কথা স্বীকার করা যে, আল্লাহ ছাড়া এবাদতের উপযুক্ত (মাবুদ) আর কেউ নেই এবং মুহাম্মদ সা: আল্লাহর বান্দা ও রাসূল। অত:পর নামাজ কায়েম করা, জাকাত প্রদান করা, হজ করা, রমজান মাসের রোজা রাখা।’ (বুখারি ও মুসলিম)।

নিয়মিতভাবে মনোযোগ সহকারে অজুর সাথে পাঁচবার নামাজ সম্পন্ন করা মুসলমানদের ওপর ফরজ। কেননা নামাজের জন্য অজু অপরিহার্য। অজু ছাড়া নামাজ হয় না। হাদিস শরিফে বর্ণিত হয়েছে, ‘শিরক ও কুফরি কবিরা (বৃহত্তম) গুনাহ ছাড়া নামাজ মানুষের দৈনন্দিন অন্যান্য গুনাহের (অপরাধ) ক্ষমাকারী।নামাজ হচ্ছে বেহেশতের চাবি ও সব এবাদতের মূল ভিত্তি। পরকালে বেহেশত বা জান্নাতের সুখ পেতে চাইলে আমাদের বেহেশতের দরজা খোলার জন্য প্রয়োজন হবে চাবির। যদি আমরা নামাজই আদায় না করি তাহলে চাবি পাবো কিভাবে? বেহেশতে সবাই যেতে চায়, সুখও সবাই পেতে চায়; সে জন্য অবশ্যই আমাদেরকে আখেরাতের সম্বল জোগাড় করতে হবে। আর এই সম্বল কেউ কাউকে দেবে না, নিজের সম্বল নিজেকেই জোগাড় বা সঞ্চয় করতে হবে। আল্লাহর প্রতি আমাদের যে ভক্তি-শ্রদ্ধা তা নামাজের মাধ্যমেই প্রকাশ পায়। যে নামাজে মন আল্লাহর ধ্যানে মগ্ন হয়, কেবল সেই নামাজই পরকালে পাথেয় হয়। নামাজের মাধ্যমে আল্লাহতায়ালার সাহায্য লাভ করা সহজসাধ্য হয়। বিপদ-আপদে নামাজ দ্বারা আশাতীত ফল পাওয়া গেছে, এমন দৃষ্টান্তের অভাব নেই। পূর্ববর্তী নবী-রাসূলগণ কোনো বিপদ এলে নামাজে মগ্ন হতেন।

হজরত হুজায়ফা রা: বলেন, ‘হজরত নবী করিম সা: যখন কোনো কঠিন সমস্যার সম্মুখীন হতেন, তৎক্ষণাৎ তিনি নামাজে মনোনিবেশ করতেন।’ (দুররে মানসুর : আবু দাউদ, আহমদ)। মহানবী সা: এরশাদ করেনযে ব্যক্তি আজান শুনে কোনো রকম ওজর ছাড়া জামাতে হাজির হয় না (নিজের জায়গাতেই নামাজ পড়ে নেয়), তার নামাজ কবুল হয় না। সাহাবায়ে কেরাম রা: আরজ করলেন, ওজর বলতে কী বোঝায়? বললেন, অসুস্খতা বা ভয়ভীতি।’ (তারগিব : আবু দাউদ, ইবনে হিব্বান। মিশকাত : আবু দাউদ, দারুল কুতনি)। -ই নয়; সামাজিক ক্ষেত্রেও এর গুরুত্ব অপরিসীম। জামাতে নামাজ আদায় করলে মুসলমানরা দৈনিক পাঁচবার একত্রে মিলিত হওয়ার সুযোগ পান। ফলে তাদের মধ্যে সম্প্রীতি গড়ে ওঠে। এভাবে একতাবদ্ধ হয়ে কাজ করার শিক্ষা নামাজ থেকে পাওয়া যায়।

হাদিসে বর্ণিত আছে, এশা এবং ফজরের নামাজ মুনাফিকদের জন্য অত্যন্ত কষ্টসাধ্য। যদি তাদের জানা থাকত যে এই জামাতের সওয়াব কত বেশি, তাহলে জমিনে হেঁচড়িয়ে হলেও এসে তারা শরিক হতো। (তারগিব) মহানবী সা: এরশাদ করেন, আল্লাহতায়ালা বলেছেন, ‘আমি আপনার উম্মতের ওপর পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ করেছি এবং প্রতিজ্ঞা করছি যে, যে ব্যক্তি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ সময়মতো গুরুত্বসহকারে আদায় করবে, তাকে নিজ দায়িত্বে জান্নাতে প্রবেশ করানো হবে। আর যে ব্যক্তি গুরুত্বসহকারে এই নামাজ আদায় করবে না, তার ব্যাপারে আমার কোনো দায়িত্ব নেই।’ (দুররে মানসুর : আবু দাউদ, ইবনে মাজাহ)।

Advertisements
 

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

 
%d bloggers like this: