RSS

অসীম গুণ মহান আল্লাহতায়ালার

07 Dec

অসীম গুণ মহান আল্লাহতায়ালার


সব প্রশংসা আমার সৃষ্টিকর্তার—যিনি তাঁর করুণা ও অনুগ্রহ দিয়ে এই পৃথিবীতে একদিন পাঠিয়েছিলেন এবং একইভাবে এখান থেকে যথাসময়ে প্রত্যাহার করে নেবেন। তিনিই জীবন ও মরণের প্রভু। তিনি অনাদি, অনন্ত ও সর্বদোষ মুক্ত। তাঁর কোনো শরিক নেই। আমরা তাঁর সৃষ্ট বান্দা। আমরা তাঁর প্রশংসায় সর্বক্ষণ। তাঁর সম্পর্কে বলা, ভাবা, লেখা একদুঃসাহস, অসাধ্য, স্পর্ধা ও অক্ষমতা। এই অজ্ঞতা, অজ্ঞানতা, সীমাবদ্ধা নিশ্চয়ই আল্লাহতায়ালা তাঁর গুণাবলীতে ক্ষমা করে দেবেন—এই প্রার্থনা করি।

মানবজাতির হেদায়েতের লক্ষ্যে প্রেরিত সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ঠ হজরত মোহাম্মদ মোস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম, তাঁর আল ও আওলাদ এবং সাহাবীদের প্রতি দরুদ ও সালাম। মহান আল্লাহতায়ালার প্রশংসার শব্দ অক্ষর বাক্য রচনা করার মতো কোনো কিছুই এ পৃথিবীতে নেই। তাঁর গুণের বর্ণনা করতে মানুষের মুখের ভাষার ভাণ্ডার নিঃশেষ হয়েযাবে। পৃথিবীর সর্বপ্রকার লেখার সামগ্রীর কালিও একদিন শেষ হয়ে যাবে; তারপরও প্রশংসা অফুরন্ত সীমাহীন বিদ্যমান থেকেই যেতে থাকবে। এর মধ্যে রহস্য ভাবব্যঞ্জক! আল্লাহর সৃষ্টি রহস্য অজানা-অজ্ঞাতময়। মানুষের সীমিত জ্ঞান ভাণ্ডারে এর কোনো কূলকিনারা নেই। তারপরও মানুষ রহস্য উন্মোচন করার প্রচেষ্টায় সদা ব্যাপৃত। আল্লাহ পরকালের জন্য জান্নাত ও জাহান্নামের কথা কোরআন শরীফের বহু স্থানে দৃষ্টান্ত দিয়েছেন। যেমন জান্নাতের বর্ণনায় বলেছেন, যারা পরহেজগার আল্লাহর কাছে তাদের জন্য রয়েছে বেহেশত, যার তলদেশে প্রস্রবণ প্রবাহিত—তারা সেখানে থাকবে অনন্তকাল। আর রয়েছে পরিচ্ছন্ন সঙ্গিনী এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি। আর আল্লাহ তাঁর বান্দাদের প্রতি সুদৃষ্টি রাখেন।বেহেশতের এই যে বর্ণনা, আল্লাহতায়ালা যা কিছু প্রস্তুত করে রেখেছেন তা পার্থিব জগতের কোনো কিছুর সঙ্গে তুলনা করে এর ধারণা পাওয়া অসম্ভব। যেমন বেহেশতের তলদেশে প্রস্রবণ প্রবাহের কথা বলা হয়েছে। আমার বাড়ির পাশের নদী করতোয়ার কথা মনে হয়। বেহেশতের তলদেশের প্রস্রবণ কেমন? তারপর ভুলে যাই যখন পদ্মা-যমুনা দেখি। না এর চেয়ে বড় বঙ্গোপসাগর, যার প্রমত্ত ঢেউ দিয়ে কি এর সঙ্গে তুলানা চলে? তুলনা চলে না হংকং থেকে টরেন্টোর আকাশ পথে যার তলদেশে থাকে ১৬ ঘণ্টার একটানা প্রশান্ত ও আটলান্টিক মহাসমুদ্র, এর মাপকাঠি দিয়ে। নায়াগ্রার জলরাশি আর প্রস্রবণীও যেন নগণ্য হয়ে যাবে। এই বিশ্বচিরাচরে আল্লাহর শ্রেষ্ঠত্ব, অমোঘ ক্ষমতা, ক্ষমা করার বিশালতা,দয়ার অফুরন্ত ভাণ্ডার বর্ণনা করার মতো হাতের কাছে, চোখের সামনে বইয়ের রাশি রাশি পাতাও এক সময় নিঃশেষ হয়ে যাবে, তবুও শেষ হবে না আল্লাহর মহত্ত্ব।
যাবতীয় প্রশংসা আল্লাহতায়ালার, যিনি সব সৃষ্টি জগতের পালনকর্তা। যিনি নিতান্ত মেহেরবান ও দয়ালু। যিনি বিচারদিনের মালিক। আমরা একমাত্র তোমারই ইবাদত করি এবং শুধু তোমারই সাহায্য প্রার্থনা করি। আল্লাহর প্রতি ঈমান আনা ধর্মের প্রতি প্রধান শর্ত। নামাজ দণ্ডায়মান সেজদায় নত হওয়ার মধ্যে শুরু হয় আল্লাহর প্রতি গভীর বিশ্বাস আত্মনিবেদন সবই অবনত মস্তকে বিশ্বচরাচর ভূমণ্ডল, নভোমণ্ডল এবং তার মাঝখানে বিদ্যমান সবকিছুর সৃষ্টিকর্তা ও মালিক—আমরা অনবরত অন্তহীন প্রতি মুহূর্তে তাঁর করুণা, অনুগ্রহ ও কৃপা প্রার্থনা করি। আল্লাহ তুমি মহান, তুমি বিচারদিনের মালিক প্রভু। তুমি আমাদের বেয়াদবি, অস্মান, ভুল-ত্রুটি ক্ষমা করে দিও। আমরা অসহায়-দিশেহারা। তুমি আমাদের সরল পথ দেখাও, যে পথে তোমাকে খুেঁজ পাব, কাছে পাব। হে আল্লাহ তুমি ক্ষমাশীল আর সেই আশায় অনন্তপানে তাকিয়ে থাকি।


 
মন্তব্য দিন

Posted by চালু করুন ডিসেম্বর 7, 2010 in ইসলাম

 

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

 
%d bloggers like this: