RSS

শুক্রবারের করণীয়

07 ডিসে.

শুক্রবারের করণীয়


১. শুক্রবারে গোসল করা এবং তা ফজরের আগে করা

রসূলুল্লাহ্‌ (সঃ) শুক্রবারে গোসল করার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন।

حَدَّثَنَا يَحْيَى‏‎ ‎بْنُ يَحْيَى قَالَ قَرَأْتُ عَلَى مَالِكٍ عَنْ صَفْوَانَ بْنِ‏‎ ‎سُلَيْمٍ عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ‎: ‎أَنَّ ‏رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ‏‎‎الْغُسْلُ يَوْمَ الْجُمُعَةِ وَاجِبٌ عَلَى كُلِّ مُحْتَلِمٍ

আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) বর্ণনা করেছেন যে রসূলুল্লাহ্‌ (সঃ) বলেছেন, “জুমুআর দিন গোসল করা ‎প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক পুরূষের জন্য অবশ্য কর্তব্য।” [বুখারী ও মুসলিম, কিতাবুল জুমুআহ]‎
রসূলুল্লাহর অন্য একটি হাদীসের ভিত্তিতে উলামারা বলেছেন এ গোসল শুক্রবার ফজর নামাজের আগে ‎করা মস্তাহাব্ব। বুখারী ও মুসলিমের এক হাদীসে রসূলুল্লাহ্‌ (সঃ) বলেছেনঃ
حَدَّثَنَا عَبْدُ‏‎ ‎اللَّهِ بْنُ يُوسُفَ قَالَ أَخْبَرَنَا مَالِكٌ عَنْ سُمَيٍّ‏‎ ‎مَوْلَى أَبِي بَكْرِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنْ أَبِي صَالِحٍ‏‎ ‎السَّمَّانِ ‏عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ: أَنَّ‎ ‎رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَنْ‏‎ ‎اغْتَسَلَ يَوْمَ الْجُمُعَةِ غُسْلَ الْجَنَابَةِ ثُمَّ ‏رَاحَ فِي‎ ‎السَّاعَةِ الْأُولَى‎
আবূ হুরায়রা (রাঃ) বর্ণনা করেছেন যে রসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেন, “যে জুমুআর দিন যৌন অপবিত্রতা ‎থেকে পবিত্রতা অর্জনের মত গোসল করল এবং প্রথম ওয়াক্তে মসজিদে গেল……”
যৌন অপবিত্রতার গোসল সাধারণত ফজরের নামজের পূর্বেই করা হয়; আর এখানে প্রথম ওয়াক্তে ‎মসজিদে যাওয়ার কথা বলা হয়েছে।

শুক্রবারের করণীয়

ফজরের ফরজ নামাজ়ে সূরা সাজদা [সিজদা] ও সূরা দাহর/ইনসান তিলাওয়াত করা।
শুক্রবারের ফজরের ফরজ় নামাজে রসূলুল্লাহ্‌ (সঃ) উপরোক্ত সূরা দুটো পড়তেন। ইমাম মুসলিম তাঁর ‎সহীহতে নীচের হাদীসটা উল্লেখ করেছেনঃ
حَدَّثَنِي أَبُو الطَّاهِرِ‏‎ ‎حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ سَعْدٍ عَنْ أَبِيهِ‏‎ ‎عَنْ الْأَعْرَجِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ: أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى‏‎ ‎اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَقْرَأُ فِي الصُّبْحِ يَوْمَ‎‎الْجُمُعَةِ بِ الم تَنْزِيلُ فِي الرَّكْعَةِ الْأُولَى وَفِي‏‎ ‎الثَّانِيَةِ هَلْ أَتَى عَلَى الْإِنْسَانِ ‏حِينٌ مِنْ الدَّهْرِ لَمْ‎ ‎يَكُنْ شَيْئًا مَذْكُورًا‎

আবূ হুরায়রা (রাঃ) বর্ণনা করেছেনঃ নবী করীম (সঃ) জুমুআর দিন ফজরের নামাজে প্রথম রাকাআতে ‎আলিফ-লাম-মীম তানজ়ীল [আস-সাজদাহ] ও দ্বীতিয় রাকাআতে হাল আতা আলা আল-ইনসানি ‎হীনুন মিন আদ-দাহরি লাম ইয়াকুন শায়আন মাজ়কুরা [দাহর/ইনসান]তিলাওয়াত করতেন।

শুক্রবারের করণীয় ৩ ও ৪

উত্তম পোষাক পরিধান করা ও সুগন্ধি লাগানো

আল্লাহ তাআলা বলেছেনঃ

يَا بَنِي آدَمَ خُذُواْ زِينَتَكُمْ عِندَ كُلِّ‎ ‎مَسْجِدٍ‎

হে বনী আদম! প্রত্যেক নামাজের স্থানে ও সময়ে তোমাদের সাজ-সজ্জা পরিধান করো।” [৭:৩১]‎
কিছু কিছু হাদীসে এসেছে যে রসূলুল্লাহ (সঃ) এর একজোড়া ইয়ামানী কাপড় তোলা ছিল যা তিনি বাইরে ‎থেকে কোন প্রতিনিধি দল এলে এবং জুমুআ ও ঈদের দিন পরতেন। ইমাম আহমদ তাঁর মুসনাদে আবূ ‎আইয়ূব আনসারী (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেছেনঃ
«‎مَنِ اغْتَسَلَ يَوْمَ الْجُمُعَةِ‎ ‎وَمَسَّ مِنْ طِيبِ أَهْلِهِ إِنْ كَانَ عِنْدَهُ وَلَبِسَ مِنْ أَحْسَنِ‎ ‎ثِيَابِهِ ثُمَّ خَرَجَ حَتْى يَأْتِيَ الْمَسْجِدَ فَيَرْكَعَ إِنْ ‏بَدَا‎ ‎لَهُ وَلَمْ يُؤْذِ أَحَدًا، ثُمَّ أَنْصَتَ إِذَا خَرَجَ إِمَامُهُ حَتْى‎ ‎يُصَلِّيَ كَانَتْ كَفَّارَةً لِمَا بَيْنَهَا وَبَيْنَ الْجُمُعَةِ‎ ‎الْأُخْرَى‎»
যে ব্যক্তি জুমুআর দিন গোসল করল এবং সুগন্ধি লাগাল যদি তার কাছে থাকে, তার সবচেয়ে উত্তম ‎পোশাক পরিধান করল, তারপর মসজিদে গিয়ে কিছু নফল নামাজ পড়ল যদি সে ইচ্ছে করে; কাউকে ‎কষ্ট দিলনা এবং চুপচাপ নামাজ শুরু হওয়া পর্যন্ত ইমামের কথা শুনল, তবে তা তার জন্য সেই জুমুআ ‎থেকে পরের জুমুআ পর্যন্ত গোনাহের কাফফারা হল।

শুক্রবারের করণীয়

সকাল সকাল মসজিদে যাওয়া

জুমুআর দিন সকাল সকাল মসজিদে যাওয়ার রয়েছে অনেক ফজীলত। কিছু কিছু বর্ণনায় এসেছে যে ‎অনেক সাহাবীরা হাতে মশাল নিয়ে মসজিদে আসতেন। অর্থাৎ তাঁরা ভোর হবার আগেই জুমুআর জন্য ‎মসজিদে উপস্থিত হতেন। আগে ভাগে মসজিদে আসার অনেক ফজীলত বর্ণনা করা হয়েছে হাদীসে।

ইমাম বুখারী (রঃ) ও ইমাম মুসলিম (রঃ) তাঁদের সহীহতে আবূহুরায়রা (রাঃ) থেকে নীচের হাদীসটি ‎বর্ণনা করেছেনঃ

مَنِ‎ ‎اغْتَسَلَ يَوْمَ الْجُمُعَةِ غُسْلَ الْجَنَابَةِ ثُمَّ رَاحَ فِي‎ ‎السَّاعَةِ الْأُولَى فَكَأَنَّمَا قَرَّبَ بَدَنَةً، وَمَنْ رَاحَ فِي‏‎ ‎السَّاعَةِ الثَّانِيَةِ فَكَأَنَّمَا ‏قَرَّبَ بَقَرَةً، وَمَنْ رَاحَ فِي‎‎السَّاعَةِ الثَّالِثَةِ فَكَأَنَّمَا قَرَّبَ كَبْشًا أَقْرَنَ، وَمَنْ‎ ‎رَاحَ فِي السَّاعَةِ الرَّابِعَةِ فَكَأَنَّمَا قَرَّبَ دَجَاجَةً، ‏وَمَنْ‎ ‎رَاحَ فِي السَّاعَةِ الْخَامِسَةِ فَكَأَنَّمَا قَرَّبَ بَيْضَةً،‎ ‎فَإِذَا خَرَجَ الْإِمَامُ حَضَرَتِ الْمَلَائِكَةُ يَسْتَمِعُونَ‎ ‎الذِّكْرَ
যে ব্যক্তি জুমুআর দিন যৌন অপবিত্রতা থেকে পবিত্র হবার গোসলের ন্যায় গোসল করল এবং তারপর ‎প্রথম ওয়াক্তে মসজিদে আসল সে যেন আল্লাহর রাস্তায় একটা উট কুরবানী করল; যে ব্যক্তি দ্বীতিয় ‎ওয়াক্তে মসজিদে আসল সে যেন একটা গরু কুরবানী করল; যে তৃতীয় ওয়াক্তে মসজিদে আসল সে জন্য ‎একটা শিং ওয়ালা ভেড়া/দুম্বা কুরবানী করল; আর যে চতুর্থ ওয়াক্তে মসজিদে আসল সে যেন একটা ‎মুরগী কুরবানী করল; আর যে পঞ্চম ওয়াক্তে মসজিদে আসল সে যেন একটা ডিম কুরবানী করল। আর ‎যখন ইমাম বেরিয়ে আসেন তখন ফেরেশ্তারা তাদের দফতর বন্ধ করে খুতবাহ শোনায় মনযোগ দেন।
এ হাদীস থেকে যা জানা যায় তা হল দিনের প্রথম ভাগে যারা মসজিদে আসে তাদের জন্য বিরাট ‎কুরবানীর সওয়াব রয়েছে। অন্যদিকে ইমাম খুৎবাহ দিতে শুরূ করার পর যারা মসজিদে আসে সেদিন ‎তাদের জন্য মসজিদে আসার সওয়াব লিখা হয়না। এজন্য আমাদের চেষ্টা থাকা উচিৎ যাতে করে ‎জুমুআর দিন আমরা খুব তাড়াতাড়ি মসজিদে যেতে পারি।
আল্লাহ সবাইকে তৌফিক দান করুন! আমীন!‎

শুক্রবারের করণীয়

সূরা কাহফ তিলাওয়াত করা

জুমুআর দিন সূরা কাহফ [সূরা নং ১৮] তিলাওয়াতের অনেক ফজীলত। যারা জুমুআর দিন সূরা আল-‎কাহফ তিলাওয়াত করবে আল্লাহ তাদের জন্য একটা নূর সৃষ্টি করবেন যা ক্বিয়ামতের দিন তাদের জন্য ‎আলোর কারণ হবে।
حَدَّثَنَا أَبُو‏‎ ‎النُّعْمَانِ حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ حَدَّثَنَا أَبُو هَاشِمٍ عَنْ‏‎ ‎أَبِي مِجْلَزٍ عَنْ قَيْسِ بْنِ عُبَادٍ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ‏‎ ‎الْخُدْرِيِّ قَالَ: ‏مَنْ قَرَأَ سُورَةَ الْكَهْفِ لَيْلَةَ‏‎ ‎الْجُمُعَةِ أَضَاءَ لَهُ مِنْ النُّورِ فِيمَا بَيْنَهُ وَبَيْنَ‎ ‎الْبَيْتِ الْعَتِيقِ‎
আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) বর্ণনা করেছেনঃ যে জুমুআর রাতে সূরা আল-কাহফ তিলাওয়াত করবে ‎তার জন্য এমন এক নূর সৃষ্টি করা হবে যা তার ও বায়তুল আতিকের মধ্যকার সবকিছুকে আলোকিত ‎করবে। [সুনান আদ-দারিমী]‎

ইমাম আহমদ তাঁর মুসনাদে অন্য একটি বর্ণনা সংকলন করেছেন যা নিম্নরূপঃ
حَدَّثَنَا حَسَنٌ حَدَّثَنَا ابْنُ لَهِيعَةَ‏‎ ‎حَدَّثَنَا زَبَّانُ عَنْ سَهْلِ بْنِ مُعَاذٍ عَنْ أَبِيهِ: عَنْ‎ ‎رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُ ‏قَالَ مَنْ‏‎ ‎قَرَأَ أَوَّلَ سُورَةِ الْكَهْفِ وَآخِرَهَا كَانَتْ لَهُ نُورًا مِنْ‏‎ ‎قَدَمِهِ إِلَى رَأْسِهِ وَمَنْ قَرَأَهَا كُلَّهَا كَانَتْ لَهُ نُورًا‎ ‎مَا بَيْنَ ‏السَّمَاءِ إِلَى الْأَرْضِ‎
মুআজ ইবন জাবাল (রাঃ) বর্ণনা করেছেনঃ রসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেন, “যে সূরা আল-কাহফের প্রথম ‎অংশ ও শেষ অংশ তিলাওয়াত করবে তার জন্য এমন নূর সৃষ্টি করা হবে যা তার পা থেকে মাথা পর্যন্ত ‎আলোকিত করবে। আর যে এর সম্পূর্ণ অংশ তিলাওয়াত করবে তার জন্য এমন নূর সৃষ্টি করবে যা ‎আসমান থেকে জমীনের মাঝে সব আলোকিত করবে।

জুমুআর দিনের করণীয়

মসজিদে গিয়ে কমপক্ষে দুই রাকাআত সুন্নত আদায় করা।

রসূলুল্লাহ [সল্লা আল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম] মসজিদে প্রবেশ করে নামাজ না পড়ে বসতে নিষেধ ‎করেছেন। বেশ অনেকগুলো হাদীসে এ ব্যাপারে নির্দেশনা এসেছে। এমনকি খুৎবাহ চলাকালীন সময়ে ‎মসজিদে প্রবেশ করলেও দুরাকাত পড়তে নির্দেশ দিয়েছেন রসূলুল্লাহ [সঃ]। আসুন এ ব্যাপারে সহীহ ‎সুন্নাহতে কী নির্দেশনা আছে তা আমরা দেখি।
حدثنا يزيد أخبرنا المسعودي عن أبي عمرو الشامي عن‏‎ ‎عبيد بن الخشخاش عن أبي ذر قال: أتيت رسول الله ‏صلى الله عليه وسلم‎ ‎وهو في المسجد فجلست إليه فقال يا أبا ذر هل صليت قلت لا قال قم فصل قال‎ ‎فقمت فصليت ‏ثم أتيته فجلست إليه‎

আবূ যার [রাদিয়াল্লাহু আনহু] বর্ণনা করেছেন, “আমি রসূলুল্লাহর [সল্লা আল্লাহু আলায়হি ওয়া-সাল্লাম] ‎কাছে আসলাম যখন তিনি মসজিদে অবস্থান করছিলেন এবং বসে পড়লাম। তিনি (সঃ) বললেনঃ হে ‎আবূ যার, তুমি কি নামাজ পড়েছো? আমি বললামঃ না। তিনি [সঃ] বললেনঃ উঠো এবং নামাজ পড়ো। ‎আমি তখন উঠে নামাজ পড়লাম এবং তারপর তাঁর কাছে এসে বসলাম। [মুসনাদ আহমাদ]‎

حَدَّثَنَا وَكِيعٌ عَنْ شُعْبَةَ عَنْ مُحَارِبِ بْنِ‏‎ ‎دِثَارٍ عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ: اشْتَرَى مِنِّي‎ ‎رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ ‏وَسَلَّمَ بَعِيرًا فَوَزَنَ‏‎ ‎لِي ثَمَنَهُ وَأَرْجَحَ لِي قَالَ فَقَالَ لِي هَلْ صَلَّيْتَ صَلِّ‏‎ ‎رَكْعَتَيْنِ‎
জাবির ইবন আব্দুল্লাহ [রাদিয়াল্লাহু আনহুমা] থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রসূলুল্লাহ [সল্লা আল্লাহু ‎আলায়হি ওয়া-সাল্লাম] আমার কাছে থেকে একটা পশু কিনলেন। তিনি ওজন করে ওটার মূল্য দিলেন ‎এবং একটু বেশীই দিলেন।তারপর বললেন, তুমি নামাজ পড়েছ? দুরাকাত পড়ো। [মুসনাদ আহমাদ]‎

حَدَّثَنَا‎ ‎عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ‏‎ ‎عَمْرٍو سَمِعَ جَابِرًا قَالَ:دَخَلَ رَجُلٌ يَوْمَ الْجُمُعَةِ‎ ‎وَالنَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ ‏عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَخْطُبُ فَقَالَ‏‎ ‎أَصَلَّيْتَ قَالَ لَا قَالَ قُمْ فَصَلِّ رَكْعَتَيْنِ‏‎

জাবির বিন আব্দুল্লাহ [রাঃ] থেকে বর্ণিতঃ জুমুআর দিন নবী [সঃ] যখন খুৎবাহ দিচ্ছিলেন তখন এক ‎ব্যক্তি মসজিদে প্রবেশ করল। তিনি [সঃ] তাকে বললেন, “তুমি কি নামাজ পড়েছো?” সে বলল, “না।‎তিনি [সঃ] বললেন, “উঠো, দুরাকাআত নামাজ় পড়ো।” [বুখারী]‎
এই হাদীসটাই ইমাম মুসলিম ও অন্যান্য ইমামরা তাদের সুনানের কিতাবগুলোতে উল্লেখ করেছেন এবং ‎সেখানে মসজিদে আসা ব্যক্তির নামও তারা উল্লেখ করেছেন। কেউ জাবির বিন আব্দুল্লাহর [রাঃ] সূত্রে ‎আবার কেউ আবূ হুরায়রার [রাঃ] সূত্রে উল্লেখ করেছেন। নীচে মুসলিমের বর্ণনার উদ্ধৃতি দেয়া হলঃ

حَدَّثَنَا إِسْحَقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ وَعَلِيُّ بْنُ خَشْرَمٍ‏‎ ‎كِلَاهُمَا عَنْ عِيسَى بْنِ يُونُسَ قَالَ ابْنُ خَشْرَمٍ‏‎ ‎أَخْبَرَنَا عِيسَى عَنْ ‏الْأَعْمَشِ عَنْ أَبِي سُفْيَانَ عَنْ‏‎ ‎جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ: جَاءَ سُلَيْكٌ الْغَطَفَانِيُّ‎ ‎يَوْمَ الْجُمُعَةِ وَرَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ ‏وَسَلَّمَ‎ ‎يَخْطُبُ فَجَلَسَ فَقَالَ لَهُ يَا سُلَيْكُ قُمْ فَارْكَعْ‏‎ ‎رَكْعَتَيْنِ وَتَجَوَّزْ فِيهِمَا ثُمَّ قَالَ إِذَا جَاءَ أَحَدُكُمْ‏‎ ‎يَوْمَ الْجُمُعَةِ وَالْإِمَامُ ‏يَخْطُبُ فَلْيَرْكَعْ رَكْعَتَيْنِ‎ ‎وَلْيَتَجَوَّزْ فِيهِمَا‏‎

জাবির বিন আব্দুল্লাহ [রাঃ] বলেনঃ জুমুআর দিন রসূলুল্লাহ [সঃ] যখন খুৎবাহ দিচ্ছিলেন তখন সুলায়ক ‎আল-গাতাফানী [রাঃ] মসজিদে আসলেন এবং বসে পড়লেন। তিনি [সঃ] বললেন, “হে সুলায়ক, উঠো ‎এবং দুরাকাত আদায় করো তবে তা তাড়াতাড়ি কর।এরপর তিনি [সঃ] বললেন, “তোমাদের কেউ ‎যদি ইমামের খুৎবাহ দেবার সময় মসজিদে আস তবে সে যেন অবশ্যই দুরাকাত আদায় করে। তবে সে ‎যেন তাড়াতাড়ি করে তা আদায় করে।
মসজিদে আমরা অনেক কাজেই যাই। যখনই যাই তখন যেন আমরা এ সুন্নতটি মনে রাখি। ইসলামী ‎আন্দোলনের কর্মীদের বেশীরভাগ বৈঠকাদি মসজিদেই হয়। বৈঠকাদির জন্য যখন মসজিদে প্রবেশ ‎করা হয় তখন দুরাকাত আদায় না করে বসে পড়ার ব্যাপারটা খেয়াল রাখলে ভাল হবে। অনেক সময় ‎অনেককে দেখা যায় মসজিদে ঢুকে গল্পগুজবে মেতে গিয়েছে। অথচ তাদের উচিৎ ছিল আগে ‎দুআরাকাত আদায় করা।

শুক্রবারের করণীয়

‎প্রথম সারিতে ইমামের কাছাকাছি বসা।

মসজিদে এসে প্রথম সারিতে বসা মসজিদের আদাব। আমাদের সমইয়ে আমরা যা দেখি তাহলো কিছু ‎মুসলিম মসজিদে এসে মসজিদের পেছনের দেয়ালে হেলান দিয়ে বসে থাকেন। অথচ তাদের উচিৎ ছিল ‎প্রথম সারিতে এসে বসা এবংইমামের কাছাকাছি এসে বসা। ‎
আবূ হুরায়রা [রাদিয়াল্লাহু আনহু] রসূলুল্লাহ [সল্লা আল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম] থেকে বর্ণনা করেছেনঃ
عن أبي هريرة رضي الله عنه قال قال رسول الله صلى الله‎ ‎عليه وسلم: لو يعلم الناس مافي النداء والصف الأول ثم لم ‏يجدوا إلا أن‎ ‎يستهموا عليه لاستهموا‎

মানুষ যদি জানত আযান ও প্রথম সারিতে কী রয়েছে আর তা লটারী করা ছাড়া পাওয়া সম্ভব নয় ‎তাহলে তারা তার জন্য লটারী করত।” [বুখারী ও মুসলিম]‎
তিনি আরো বলেছেন লোকেরা যেন তাঁর কাছাকাছি এসে বসে। এ সম্পর্কে ইমাম মুসলিম নীচের ‎হাদীসটি সংকলন করেছেন তাঁর সহীহতেঃ

عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ: أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ‏‎ ‎عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَأَى فِي أَصْحَابِهِ تَأَخُّرًا فَقَالَ لَهُمْ‎ ‎تَقَدَّمُوا فَأْتَمُّوا بِي ‏وَلْيَأْتَمَّ بِكُمْ مَنْ بَعْدَكُمْ لَا‎ ‎يَزَالُ قَوْمٌ يَتَأَخَّرُونَ حَتَّى يُؤَخِّرَهُمْ اللَّهُ‎

আবূ সাঈদ আল-খুদরী [রাদিয়াল্লাহু আনহু] বর্ণনা করেছেনঃ রসূলুল্লাহ [সল্লা আল্লাহু আলায়হি ‎ওয়াসাল্লাম] তাঁর কিছু সাহাবীকে পেছনে পড়ে থাকতে দেখলেন। তিনি তাদের উদ্দেশ্যে বললেন, ‎‎সামনে এগিয়ে এসো, আমার কাছে এসে কাতার পুরণ কর। তারপর যারা আছে তারা দাঁড়াবে। পেছনে ‎দাঁড়াতে দাঁড়াতে কোন সম্প্রদায়ের অবস্থা একন হয় যে শেষ পর্যন্ত আল্লাহও তাদের পেছনে ঠেলে ‎দেন।

পেছনে না বসে, এজন্য, সামনে এসে বসাতে রয়েছে কল্যাণ। পেছনে বসার মধ্যে কোন কল্যাণ নেই। ‎নিজের প্রথম সারির আসনও কাউকে ছেড়ে দেয়া উচিৎ নয়। অবশ্য প্রথম সারিতে যাবার জন্য কাউকে ‎আঘাত করে বা কষ্ট দিয়ে, তাদের ঘাড়ে পা রেখে বা ডিঙ্গিয়ে যাবার কোন প্রয়োজন নেই। যদি সামনে ‎স্থান খালি থাকে তবে লোকদের আলতো করে সরিয়ে দিয়ে সামনে চলে যাওয়া হচ্ছে বুদ্ধিমানের কাজ।

Advertisements
 
মন্তব্য দিন

Posted by চালু করুন ডিসেম্বর 7, 2010 in ইসলাম

 

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

 
%d bloggers like this: