RSS

শ্বাসকষ্টজনিত হৃদরোগ প্রতিরোধে

07 Dec

শ্বাসকষ্টজনিত হৃদরোগ প্রতিরোধে


বক্ষব্যাধি এবং হৃদরোগ সম্পূর্ণ আলাদা দুটি বিষয়, যদিও এক বুকের পিঞ্জরেই সব অঙ্গ-প্রত্যক্ষ একে অন্যের সঙ্গে জড়িয়ে ধরে আছে। যেমন কথায় বলে, ‘এক বুক জ্বালা নিয়ে জ্বলছি আমি।’ সেই বুকের জ্বালা নিয়ে কিন্তু দু’টি বিষয়েই রয়েছে আলাদা আলাদা বিশেষজ্ঞ। কেউ বা হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ আবার কেউ বা বক্ষব্যাধি বিশেষজ্ঞ। তবুওবক্ষব্যাধি থেকে অনেক সময় হৃদযন্ত্র আক্রান্ত হতে পারে।

ফুসফুসের এমফাইসিমা নামে একটি রোগ রয়েছে, যা দেখা দিলে প্রচণ্ড শ্বাসকষ্ট হয়। রোগী চুপচাপ বসে থাকলেশ্বাসকষ্ট খুব একটা হয় না। কিন্তু একটু চলাফেরা করলেই শ্বাসকষ্ট শুরু হয়ে যায়। এই এমফাইসিমা রোগটি অনেক দিন ধরে আস্তে আস্তে ফুসফুসে তৈরি হতে থাকে এবং শেষ পর্যায়ে ফুসফুসের রক্তনালীগুলোর মধ্যে বাধা বাড়িয়ে দিতে থাকে। এই বাধা বৃদ্ধি শেষ পর্যায়ে হৃদযন্ত্রের ডান দিকের অংশের কাজে ব্যাঘ্যাত ঘটিয়ে রাইট হার্ট ফেইলিওরের সৃষ্টি করে। তাতে করে শ্বাসকষ্ট আরো বেড়ে যায়। লিভারটি ফুলে আরো বড় হয়ে যায় এবং পেটের ডান দিকে চাপ দিলে রোগী ব্যথা অনুভব করে এবং পরে পানি নেমে পা ফুলে যায়। ডান দিকের রগগুলোও ফুলে যায়। এক পর্যায়ে অক্সিজেন দিয়েও খুব একটা লাভ হয় না।

তবুও আমরা হার্ট ফেইলিওরের সনাতনী ওষুধ অর্থাত্ অক্সিজেন, ফ্রুসেমাইড, ডিজিটালিস, এমাইনোফাইলিন প্রয়োগ করে রোগীকে আরাম দেয়ার চেষ্টা করি। এই হৃদরোগটি যেহেতু একটি বক্ষব্যাধির পরিণতিস্বরূপ, তাই বক্ষব্যাধি অর্থাত্ এমফাইসিমা যেন তৈরি সেটাই চিকিত্সার মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত। এখন প্রশ্ন হলো এমফাইসিমা কেন হয়?অতিরিক্ত ধূমপানের কুফলে ক্রনিক ব্রংকাইটিসের সঙ্গে সঙ্গে এমফাইসিমা দেখা দিতে পারে। তাই ধূমপানের অভ্যাস আজই পরিত্যাগ করুন। অনেক দিন ধরে হাঁপানি লেগে থাকলেও এমফাইসিমার সৃষ্টি হতে পারে।

হাঁপানির উপযুক্ত চিকিত্সা দিয়ে হাঁপানিকে নিয়ন্ত্রণে রাখুন। মনে রাখবেন ডায়াবেটিস এবং উচ্চ রক্তচাপের মতো হাঁপানিকেও ক্রমাগত এবং বিরতিহীনভাবে ওষুধ খেয়ে নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। যেহেতু অনেক দিন ধরে হাঁপানি থাকতে থাকতে এমফাইসিমার জন্ম হয়, তাই রোগী বুঝতেই পারে না যে শ্বাসকষ্ট কি শুধু হাঁপানির জন্যই হচ্ছে, না তার ফুসফুসে এমফাইসিমা দেখা দিয়েছে। সে জন্য নিয়মিত বিশেষজ্ঞ চিকিত্সকের কাছে গিয়ে এক্স-রে এবং অন্যান্য পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে একজন হাঁপানি রোগীকে তার হাঁপানি নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। এছাড়া বংশগত কারণেও এমফাইসিমা রোগটি দেখা দিতে পারে। জন্মগত কারণে যদি রক্তে আলফা ওয়ান এন্টিট্রিপসিনের অভাব থাকে, তাহলে এমফাইসিমা দেখা দিতে পারে। তবে আমাদের দেশে ধূমপান এবং পরিবেশ দূষণের ফলেই ক্রনিক ব্রংকাইটিস হয়েঅথবা বহুদিনের অনিয়ন্ত্রিত হাঁপানির ফলে ফুসফুসে এমফাইসিমা দেখা দিয়ে থাকে।

যদি কোনো ক্রনিক ব্রংকাইটিসের অথবা এমফাইসিমার রোগীর পায়ে পানি আসে, বুক ধড়পড় করে, লিভার ফুলে বড় হয়ে পেটের ডানদিকে চাপ দিলে ব্যাথা করে, শ্বাসকষ্ট বেড়ে যায়, তাহলে ধরে নিতে হবে যে, রোগীর হৃদযন্ত্রের ডান দিকের অংশ বিকল হয়ে ফেইলিওর দেখা দিয়েছে। এই ফেইলিওরকেই আমরা করপালমোনেল বলে থাকি। সব কথার বড় কথা, যদি আপনি ধূমপায়ী হয়ে থাকেন, তবে আজই ধূমপান ছেড়ে দিয়ে অধূমপায়ী হয়ে সুস্থ জীবনযাপন করুন। হাঁপানির আজকাল খুবই উন্নত চিকিত্সা দেয়া হচ্ছে । সেই উন্নত চিকিত্সা পদ্ধতি গ্রহণ করে আপনারহাঁপানিকে নিয়ন্ত্রণে রাখুন।

Advertisements
 
মন্তব্য দিন

Posted by চালু করুন ডিসেম্বর 7, 2010 in সাস্থ্য

 

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

 
%d bloggers like this: