RSS

ইসলামে নারীর মর্যাদা

07 Dec

ইসলামে নারীর মর্যাদা


নারী অধিকার বিশ্বজুড়ে একটি বহুল আলোচিত বিষয়। বিশ্ব সভ্যতায় ইসলাম নারী জাতিকে বিশেষ মর্যাদা দান করেছে। আইয়ামে জাহেলিয়াতের যুগে বা তার আগে নারী জাতিকে পুরুষের দাসী হিসেবে ব্যবহার করা হতো। স্ত্রী জাতির প্রতি ছিল চরম উপেক্ষা আর অবহেলা। কন্যাসন্তান জন্মের পর হত্যা করা ছিল নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা। আজকের নারীসমাজ সভ্য জগতের দিগন্ত উজ্জ্বল সুষমা। এ কথা অনস্বীকার্য যে ইসলামের অভুøদয়ের আগে নারী কখনো কোনো সমাজে তার যোগ্য সামাজিক ও আইনগত মর্যাদা লাভ করেনি। প্রাচীন গ্রিক, চৈনিক, হিন্দু বা খ্রিষ্টান সমাজের চিত্র আমরা অবলোকন করলেই তা বুঝতে পারি। গ্রিক সমাজে নারীদেরকে শয়তানের চেলাচামুণ্ডা মনে করা হতো। চীনাদের প্রবাদতোমরা স্ত্রীদের কথা শোনো, কিন্তু বিশ্বাস করো না।ইহুদি ও খ্রিষ্টানরা এক সময় নারীদেরকে রীতিমতো অভিশাপ বলে ভাবত। ইসলামের আবির্ভাবের আগে আরবদের অবস্থা ছিল আরো সঙ্গিন। কন্যাসন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়াকে তারা ভীষণ অশুভ ঘটনা বিবেচনা করত। কোনো কোনো গোত্র নবজাতক কন্যাসন্তানকে আভিজাত্যের কলঙ্ক ভেবে মাটিতে জ্যান্ত পঁুতে ফেলত। এ ছাড়াও আত্মিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক পরিপ্রেক্ষিতে নারীদের দুর্বল ভেবে তাদেরকে কোনো শিক্ষা দেয়া হতো না।

ইসলাম আসার পর এসব অবস্থার নাটকীয় পরিবর্তন ঘটে। আসে নারীর জীবনে অনেক পরিবর্তন। বিশ্বমানবতার মুক্তির মহাপয়গাম কুরআনুল কারিমে ঘোষণা আসেতোমরা নারীদের সাথে সদ্ভাবে জীবন যাপন করো।’ (সূরা নিসাঃ ১৯)। রাসূলে করিম সাঃ-এর কণ্ঠে ধ্বনিত হলোনারীগণ পুরুষদেরই সহোদরা।’ (আহমদ, আবু দাউদ)। এভাবেই ইসলাম সর্বপ্রথম নারীদেরকে সমাজে স্বাধীন, সুস্থ ও সুন্দরভাবে বেঁচে থাকার পথ প্রদর্শন করে। এমনকি পবিত্র কুরআনে সূরা নিসা নামে একটি পূর্ণাঙ্গ সূরাই নাজিল হয়েছে নারীর যাবতীয় অধিকারের বার্তা নিয়ে। পবিত্র কুরআনে ধর্মীয়, সামাজিক, অর্থনৈতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক ক্ষেত্রসহ জীবনের সব দিক ও বিভাগে নারীদের সমান অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে।

ইসলাম নারীকে উল্লেখযোগ্য অর্থনৈতিক স্বাধীনতা প্রদান করেছে। ব্যক্তিগত অর্জন ও উত্তরাধিকার উভয় পর্যায়েই নারী সম্পদের মালিক হতে পারবেন। এ বিষয়ে কুরআনের সুস্পষ্ট ঘোষণাঃ পুরুষ যা অর্জন করে সেটা তার অংশ এবং নারী যা অর্জন করে সেটা তার অংশ।’(সূরা নিসাঃ ৩২)। পিতামাতা ও আত্মীয়স্বজনের পরিত্যক্ত সম্পত্তিতে পুরুষদের যেমন অংশ আছে, নারীদেরও তেমনি অংশ আছে। অল্প হোক কিংবা বেশি হোক, এ অংশ নির্ধারিত।’ (সূরা নিসাঃ ৭)। ১৪০০ বছর আগে অবতীর্ণ কুরআনের এই নির্দেশনা নারীর মর্যাদাকে অভূতপূর্বভাবে বৃদ্ধি করেছে। এর আগে এবং মাত্র কিছু দিন আগপর্যন্ত পাশ্চাত্যে নারীরা পিতামাতার কাছ থেকে কোনো উত্তরাধিকার পেতেন না। কুরআনে উত্তরাধিকার আইনের বিস্তারিত ব্যাখ্যা রয়েছে সূরা নিসায়। (আয়াত ১১ ও ১২)। বিয়ের সময় একজন মুসলিম পুরুষ তার স্ত্রীকে মোহরানা প্রদান করে থাকেন। এর মাধ্যমে মুসলিম নারীর অর্থনৈতিক অবস্থা আরো শক্তিশালী ও সংরক্ষিত হয়েছে।

ইসলামের আবির্ভাবের আগে নারীদের সামাজিক মর্যাদা বলতে কিছুই ছিল না। মা, স্ত্রী ও কন্যা হিসেবে একজন নারী কিভাবে মর্যাদাপ্রাপ্ত হবেন, ইসলাম তা বলে দিয়েছে। ইসলাম ধর্মে মায়ের মর্যাদা সর্বোচ্চ এবং কাউকেই এত অধিক মর্যাদা দেয়া হয়নি। মায়ের পায়ের নিচে সন্তানের বেহেশতহাদিসের এই ঘোষণার মাধ্যমে নারীকে মর্যাদাবান করেছে ইসলাম। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘আমি মানুষকে তার পিতামাতার সাথে সদ্ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছি।’ (সূরা লোকমানঃ ১৪)। তাফসিরে ইবনে কাসিরে আছে এক ব্যক্তি তার জননীকে পিঠে বহন করে তাওয়াফ করছিল। সে রাসূল সাঃ-এর খেদমতে আরজ করল, ‘এভাবে খেদমত করে আমি আমার মায়ের হক আদায় করতে পেরেছি কি?’ রাসূল সাঃ বলেন, ‘একটি শ্বাসের হকও আদায় করতে পারনি।হজরত মুয়াবিয়া ইবনে জাহিমা সালামি রাঃ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘আমি রাসূল সাঃ-এর কাছে এসে বললাম হে আল্লাহর রাসূল! আমি আপনার সাথে জিহাদে শরিক হতে চাই,যাতে আল্লাহর সন্তুষ্টি ও আখেরাতের মঙ্গল লাভ করতে পারি।উত্তরে রাসূল সাঃ বললেন, ‘আফসোস তোমার জন্য। তোমার মা কি জীবিত আছেন? আমি বললাম, হঁ্যা। তখন তিনি বললেন, ‘ফিরে যাও। গিয়ে তার খেদমত করো। তার পায়ের কাছে পড়ে থাকো, সেখানেই জান্নাত।সন্তানের নিকট সবচেয়ে উত্তম ব্যবহার পাওয়ার হক কার? এই প্রশ্নের জবাবে রাসূল সাঃ বলেন, ‘প্রথমত তোমার মায়ের, দ্বিতীয়ত তোমার মায়ের; তৃতীয়ত তোমার মায়ের। অতঃপর তোমার পিতার।’ (সহি বুখারি)। রাসূল সাঃ-এর তিন-তিনবার জোরালো ঘোষণা থেকে আমরা বুঝতে পারি মা হিসেবে নারীর গুরুত্বের কথা।

স্বামী-স্ত্রীর পারস্পরিক সম্পর্ক মনিব-দাসীর মতো নয়, বরং গভীর ভালোবাসা ও বন্ধুত্বের ওপর প্রতিষ্ঠিত বলে পবিত্র কুরআনে ঘোষণা এসেছে। (সূরা রুমঃ ২১)।

কন্যাসন্তানের ব্যাপারে রাসূল সাঃ বলেন, যে লোক দুটি কন্যাসন্তানকে যথাযথভাবে প্রতিপালন করবে, সে ব্যক্তি শেষ বিচারের দিন আমার সাথে অবস্থান করবে (পাশাপাশি একই হাতের দুটি আঙুলের মতো)।’ (মুসলিম শরিফ)।

ইসলাম প্রকৃতপক্ষেই নারীর ন্যায্য অধিকারের কথা বলে। ইসলামই সর্বপ্রথম নারীদেরকে সমাজে সুন্দরভাবে বেঁচে থাকার অধিকার প্রদান করেছে। অমর্যাদা ও গ্লানির অতলগহ্বর থেকে তুলে ইসলাম নারীদেরকে ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার উঁচু আসনে সমাসীন করেছে। পারিবারিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক সব ক্ষেত্রেই ইসলাম নারীর ন্যায্য অধিকার সুনিশ্চিত করেছে।

ইসলাম নারীদেরকে যে উচ্চ মর্যাদা দিয়েছে, সেই মর্যাদায় তাদেরকে সমাসীন রাখতে হবে। তাদেরকে উপযুক্ত সম্মান দেখানো আমাদের কর্তব্য।

 
মন্তব্য দিন

Posted by চালু করুন ডিসেম্বর 7, 2010 in ইসলাম

 

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

 
%d bloggers like this: