RSS

পরকালের কথা ভাবেন কি?

07 Dec

পরকালের কথা ভাবেন কি?


মানব জীবনের দুটো স্তর। একটি ইহলৌকিক, অপরটি পারলৌকিক। ইহলৌকিক জীবন ক্ষণস্থায়ী। আর পারলৌকিক অর্থাত্ পরপারে অনন্তকালব্যাপী। মনে রাখতে হবে, পার্থিব দুনিয়ার জীবনে যে যা করছি তার চুলচেরা হিসাব দিতে হবে পরকালে। আমোদে-আহলাদে, ভোগ-বিলাসে, সুখ-শান্তিতে, আরাম-আয়েশে থাকছি-খাচ্ছি এবং মনের মতো করে উপভোগ করছি। অথচ সে তুলনায় মূল যে স্থানে অনন্তকাল ধরে থাকতে হবে তার কথা কে কতটা ভাবছি? শুধু দুনিয়া দুনিয়া করে আখেরাতের কথা ভুলতে শুরু করেছি।
প্রত্যেক মানুষের মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে—এ কথা মনে-প্রাণে, চিন্তা-চেতনায় জাগরুক থাকা একান্তঅপরিহার্য। পরকালীন ধ্যান-ধারণায় লিপ্ত থেকে মহান রাব্বুল আলামিনের প্রতি আস্থা-বিশ্বাস রেখে আল্লাহ ভীরুতায় কম্পমান থাকা প্রত্যেক নেকবান্দা (পুণ্যবানের) কাজ। এজন্য ইহজীবনে আল্লাহ প্রদত্ত ফরজ ইবাদত, হজরত রাসুলে করীম (সা.)-এর আদর্শ, শিক্ষা, আমলে ছালেহ অর্থাত্ সত্ কর্ম, সত্ চিন্তায় পরিচালিত করা একজন ঈমানদারের (বিশ্বাসী) কাজ। কাজেই মানব জীবনের প্রতিটি কর্মক্ষেত্রে সত্ নেক চিন্তা-আমল থাকাই হচ্ছে পারলৌকিক মুক্তি ও বেহেশ্ত পাওয়ার পাথেয়। এ সম্পর্কে আল্লাহর পেয়ারা রাসূল (সা.) বলেছেন, যে বা যারা স্বীয় কামনা, বাসনা এবং নিজ নফসকে বশীভূত করতে সমর্থ হয়েছে—সে পরকালীন (আখেরাতের) জীবনের জন্য মাল-সামানা, পাথেয় সংগ্রহে ব্যাপৃত রয়েছে—এসব লোকই হচ্ছে সত্যিকার ঈমানদার। এ কথা সত্য যে, যে বা যারা বেশিরভাগ সময় পারলৌকিক চিন্তায় থাকে সে কখনও অপকর্মে লিপ্ত হতে পারে না। কুবাক্য, কু-কাজ,পাপ-পঙ্কিলতার মধ্যে জড়াতে পারে না। আর যারা পরকালীন জীবন অবহেলা করে ভোগ-বিলাসে মত্ত থাকবে,আল্লাহ-রাসূল (সা.)-এর হুকুমমত কাজ করবে না, তাদের পরিণতি অত্যন্ত দুঃখময়। এসব লোক সম্পর্কে আল্লাহ বলেছেন, যে বা যারা দুনিয়া (পার্থিব) জীবনকে আপন করে নেয়, অত্যধিক ভালোবাসে, আল্লাহ ও তদীয় রাসূল (সা.)-এর প্রদর্শিত পথ এড়িয়ে চলে, শুধু খামোখা জটিলতা খুঁজে ফেরে—তারাই সে লোক বা দল যারা প্রতিনিয়ত পথভ্রষ্টতার আবর্তে ঘুরপাক খাচ্ছে।
এ সম্পর্কে হজরত রাসূলে পাক (সা.) বলেছেন, তোমরা দুনিয়ার জীবনে অধিক ভোগ-বিলাস-আরাম-আয়েশ থেকে বিরত থাক আর বেশি বেশি করে আখেরাতের (পরকালীন) জীবন সম্পর্কে চিন্তা কর।

হায় আফসোস। আল্লাহ পাক ও তদীয় রাসূল (সা.)-এর পরকাল সম্পর্কিত বারংবার সাবধান বাণী থাকা সত্ত্বেও আমাদের দুনিয়ার জীবনে মোহ-মায়াজালে পড়ে, পরিবার পরিজন, অর্থ, সম্পদ, বাহাদুরী নিয়ে মত্ত থাকি, ইহা আদৌ উচিত নয়, শুধু তাই নয়, আমাদের জীবনের অধিককাল সময় দুনিয়ায় অধিককাল সময় বেঁচে থাকার অদম্য ইচ্ছা-আকাঙ্ক্ষায় নানা ধরনের কসরত করে থাকি। এটা বাতুল চিন্তা বৈ আর কিছুই নয়, মহান আল্লাহ পাকের নির্ধারিত সময় দুনিয়া ছেড়ে বিদায় নিতেই হবে। এতে সামান্যতম হেরফের হবে না।

অতএব আসুন, আর কত ভোগ-বিলাস, সুখ, আনন্দ আহলাদে ফুর্তিতে শুধু সময় ক্ষেপণ, সময় বয়ে যাচ্ছে। বেলা অস্তমিত হওয়ার দিক ধাবিত হচ্ছে—সচেতন হই। এখন থেকে পরকালের পাথেয় সংগ্রহে নিজেকে সমর্পণ করে আল্লাহ পাক ও রাসূল (সা.)-এর সন্তুষ্টি, নৈকট্য অর্জনে সময়কাল অতিবাহিত করি এবং আল্লাহ পাকের নির্দেশ মতে বেশি বেশি কাঁদি। আল্লাহ পাক তার বান্দার হৃদয় দিয়ে কান্নাকাটি প্রশস্ত করেন এবং আমরা সর্বদা এই ফরিয়াদ করি—‘রাব্বানা আতিনা ফিদ্ দুনিয়া হাসানাতাও ওয়াফিল আখিরাতি হাসানাতাও ওয়াকিনা আযাবান-নার’—হে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আমাদের দুনিয়ার মঙ্গল-কল্যাণ দান কর (এবং তোমার ইবাদত-বন্দেগিতে আমাদের মত্ত করে দাও) আখেরাতে পরকালীন জীবনে সুখ-শান্তি, মুক্তি নসীব কর এবং লেলিহান আগুনের আজাব, গজব, মুসিবত, দুঃখ-কষ্ট থেকে বাঁচাও এবং তোমার খাঁটি মকবুল বান্দা হিসেবে গ্রহণ কর।

 
মন্তব্য দিন

Posted by চালু করুন ডিসেম্বর 7, 2010 in ইসলাম

 

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

 
%d bloggers like this: