RSS

মেদ ভুঁড়ি প্রতিরোধে করণীয়

13 Dec

অতিরিক্ত চর্বি জমে আমাদের শরীরের ওজন স্বাভাবিকের চেয়ে শতকরা দশভাগ বেড়ে গেলে তাকে আমরা মুটিয়ে যাওয়া বলে থাকি। সাধারণত, মাঝ বয়সে পৌঁছানোর পরপরই শরীরে অতিরিক্ত চর্বি জমা শুরু হয়। তবে কিছু কিছু কারণে যে কোনো বয়সেই একজন মানুষ মুটিয়ে যেতে পারে। প্রয়োজনের তুলনায় অধিক পরিমাণে খাদ্য গ্রহণ এবং কম শারীরিক পরিশ্রমই এর প্রধান কারণ। এছাড়া কিছু হরমোন জাতীয় রোগ, পারিবারিক প্রবণতা এবং কোনো কোনো ওষুধও এর জন্য দায়ী। মহিলাদের মধ্যে মুটিয়ে যাওয়ার প্রবণতা পুরুষদের চেয়ে বেশি। উন্নত বিশ্বের বয়স্কদের মধ্যে শতকরা ২০ থেকে ৪০ ভাগ এবং শিশু-কিশোরদের মধ্যে শতকরা ১০ থেকে ২০ ভাগ মুটিয়ে যাওয়া সমস্যায় আক্রান্ত। আমাদের দারিদ্র্যপীড়িত বাংলাদেশের কোটি কোটি ভগ্নস্বাস্থ্য মানুষের পাশাপাশি কারও কারও দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে উঠেছে অতিরিক্ত ওজন কিংবা মেদভুঁড়ি।
মানসিক দুশ্চিন্তা ছাড়াও মোটা মানুষের ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, স্ট্রোক, ক্যান্সার, পিত্তথলির পাথর, অস্টিওআর্থাইটিস, বন্ধ্যত্ব, ঘুমের মধ্যে শ্বাস বন্ধ হওয়া বা স্লিপ এপনিয়া, ভেরিকস ভেইন, হার্নিয়া প্রভৃতি রোগ হওয়ার প্রবণতা বেশি দেখা যায়। এসব মারাত্মক রোগের ঝুঁকি থেকে মুক্ত হতে আপনার অস্বস্তিকর মেদভুঁড়ি কমিয়ে

সুন্দর-সুঠাম শরীরের অধিকারী হওয়ার জন্য নিচের টিপসগুলো মেনে চলা প্রয়োজন :

১. তিনটি বিষয়কে বিবেচনায় আনুন : পরিমিত খাদ্য গ্রহণ, অধিক মাত্রায় শারীরিক পরিশ্রম এবং লাইফ স্টাইল বা জীবন যাত্রা ও আচরণের পরিবর্তন।

২. আপনার ওজন কমানোর ইচ্ছাটাকে দৃঢ়ভাবে মনে-প্রাণে ধারণ করুন।

৩. আপনার প্রয়োজন অনুযায়ী পরিমিত সুষম খাবার গ্রহণ করুন।

৪. অতিরিক্ত লবণ, মিষ্টি ও চর্বি জাতীয় খাবার যথাসম্ভব পরিহার করুন। প্রতিদিন কিছু পরিমাণ শাক-সবজি ও ফলমূল খান।

৫. ফাস্ট-ফুড এবং কোল্ড-ড্রিঙ্কস্ পরিহার করুন। প্রতিদিন পর্যাপ্ত পরিমাণ বিশুদ্ধ পানি পান করুন।

৬. বিভিন্ন আচার অনুষ্ঠানে পরিবেশিত রিচ ফুড যথাসম্ভব পরিহার করুন।
৭. মেদভুঁড়ি কমানোর চমত্কার একটি উপায় হচ্ছে হাঁটা। তাই কম দূরত্বের জায়গাগুলোতে হেঁটে চলাচল করুন।

৮. লিফেটর বদলে সিঁড়ি ব্যবহার করুন।

৯. একটানা অধিক সময় বসে কাজ করবেন না। কাজের ফাঁকে উঠে দাঁড়ান। একটু পায়চারি করুন।

১০. অলসতা দূর করতে সংসারের টুকিটাকি কাজ নিজেই করুন। সুযোগ থাকলে বাগান করুন, খেলাধুলা করুন। সাঁতার কাটুন।

১১. সপ্তাহে তিন/চার দিন কিছু সময় ফ্রি-হ্যান্ড (যন্ত্র ছাড়া) ব্যায়াম করুন। প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ অনুযায়ী আপনার উপযুক্ত ব্যায়াম নির্বাচন করুন। কারণ, সব ব্যায়াম সবার জন্য উপযুক্ত নয়। ব্যায়াম করছেন এ ধারণা মাথায় রেখে অতিরিক্ত খাদ্য গ্রহণ করবেন না।

১২. কোমড়ে চওড়া বেল্ট ব্যবহার করতে পারেন। এতে মেদ দ্রুত বাড়তে পারবে না।
১৩. ওজন কমে স্বাভাবিক হয়ে আসলেও আগে উল্লিখিত অভ্যাসগুলোকে ধরে রাখতে হবে। তা না পারলে পুনরায় ওজন বেড়ে যাবে।

১৪. নিজে নিজে শুধু ওষুধ সেবন করে ওজন কমাতে যাবেন না। ওষুধ ব্যবহার করতে চাইলে তা অবশ্যই করতে হবে বিশেষজ্ঞ চিকিত্সকের পরামর্শমত। ওষুধের পাশাপাশি আগে বর্ণিত টিপসগুলো মেনে চলতে হবে।

১৫. প্রচলিত বিজ্ঞাপনের চমকে আকৃষ্ট হয়ে দ্রুত চিকন হওয়ার ওষুধ বা যন্ত্র ব্যবহার করতে যাবেন না। এতে আপনার অমঙ্গলের আশঙ্কাই বেশি।

১৬. প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞের পরামর্শমত আপনার মুটিয়ে যাওয়ার মাত্রা নির্ণয় করে বয়সানুসারে সুষম খাদ্যের তালিকা তৈরি করুন এবং তার বিজ্ঞানসম্মত নির্দেশনা মেনে চলুন।

 
মন্তব্য দিন

Posted by চালু করুন ডিসেম্বর 13, 2010 in সাস্থ্য

 

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

 
%d bloggers like this: