RSS

হিজাব নিরাপত্তা ও সম্মানের প্রতীক

03 Jan

 

হিজাব কথাটি শুনলে অনেকে আঁতকে ওঠেন। পর্দা করতে হবে, বোরকা পরতে হবে, স্কার্ফ মাথায় থাকতে হবে, সারাক্ষণ গৃহে বন্দী হয়ে দিন যাপন করতে হবে, পরপুরুষের সাথে কথা বলা যাবে না­ এ ধরনের নানা প্রশ্ন-ভীতি মাথায় ভর করে। এটার একমাত্র কারণ পর্দা বা হিজাব কী জিনিস আমরা অনেকে তা বুঝি না। এই অজ্ঞতাই আমাদের ভুল পথে পরিচালিত করে। অনেক সময়।

পর্দা করা নারী-পুরুষ উভয়ের জন্য অলঙ্ঘনীয় বিধান। পবিত্র কুরআন ও হাদিসে বহু স্থানে এ পর্দার কথা গুরুত্ব সহকারে আলোচিত হয়েছে। সূরা আহজাবের ৫৩ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, যখন তোমরা পরস্ত্রীর কাছে কিছু চাইবে তখন পর্দার আড়াল থেকে চাইবে। এটা তোমাদের অন্তরের জন্য এবং তাদের অন্তরের জন্য অধিকতর পবিত্রতার কারণ। সূরা আন নূরের ৩০ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, হে নবী, আপনি মুমিন লোকদের বলে দিন যেন তারা নিজেদের চোখকে অবনত রাখে এবং যৌনাঙ্গের হেফাজত করে। এতে তাদের জন্য রয়েছে পবিত্রতা।

হাদিসে বলা হয়েছে, হজরত জারির রাঃ বলেন, আমি রাসূল সাঃকে জিজ্ঞেস করলাম, হঠাৎ যদি কারো নজর পড়ে যায় তা হলে কী করব? উত্তরে রাসূল সাঃ বললেন, দৃষ্টি ফিরিয়ে নাও (আবু দাউদ)। কুরআন ও হাদিস দ্বারা বোঝা গেল হিজাব প্রত্যেক মুসলমান নর-নারীর ওপর ফরজ। পর্দা করা মানে সারাক্ষণ নিজেকে গৃহবন্দী করে রাখা নয়। গৃহ যেমন একজন নারীকে ভিন্ন পুরুষের দৃষ্টি থেকে নিরাপদ বা আড়ালে রাখে তেমনি বোরকাও। হিজাব পরে আপনি প্রয়োজনে অফিস করতে পারেন, বাজার করতে পারেন। প্রয়োজনে পরপুরুষের সাথে কথাও বলতে পারেন। তবে মনে রাখতে হবে, প্রয়োজনের গণ্ডি পেরিয়ে মনোতৃপ্তির জন্য কথা বলা বৈধ নয়। বর্তমানে মোবাইল ফোনে প্রয়োজনাতিরিক্ত কথা বলার সংস্কৃতি দেখা যায়। যেসব ছেলেমেয়ে ফোনের আমানত রক্ষা করতে পারবে না; পারবে না তার সুব্যবহার নিশ্চিত করতে তার ফোন ব্যবহার না করাই উচিত। যে আল্লাহ মানুষকে সৃষ্টি করেছেন তিনিই জানেন কিসে মানুষের কল্যাণ, কিসে অকল্যাণ। একজন সুন্দরী রূপসী নারী যদি বোরকা পরে না চলে তার রূপ-যৌবন যুবকদের কাছে প্রকাশ করে দেয় তা হলে বিপরীত লিঙ্গ থেকে বিপদ তথা ইভটিজিং আসাই স্বাভাবিক। কারণ যৌনতার কোনো ধর্ম নেই। সেক্স হলো লাগামহীন পশুর মতো, সে খাদ্য পেলে কোনো বাছবিচার না করে তার চাহিদা পূরণ করবেই। ইভটিজিংয়ের নামে বর্তমানে যা হচ্ছে তা ইসলাম কখনো সমর্থন করে না। বৈজ্ঞানিক গবেষণায় বলা হচ্ছে, সুন্দরী নারীর সঙ্গ পুরুষের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকারক। স্পেনের ভ্যালেন্সিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীদের গবেষণায় বলা হয়েছে, কোনো দৃষ্টিনন্দন নারীর সাক্ষাতের পাঁচ মিনিটে পুরুষদের মধ্যে করটিন নামের এক ধরনের হরমোনের মাত্রা বেড়ে যায়। যেসব পুরুষ সাক্ষাৎ পাওয়া নারীদের নিজেদের নাগালের বাইরে বলে মনে করেন তাদের এ ক্ষেত্রে এ প্রতিক্রিয়া আরো বেশি হয়। প্রতিক্রিয়ার ফলে যৌন রোগসহ নানা ব্যাধিতে আক্রান্ত হতে পারে। অনেকে বোরকা পরে কিন্তু নেকাব লাগায় না। নেকাব লাগানোই ভালো। কারণ নেকাব না পরলে নারীর যে চেহারার সৌন্দর্য তা দেখা যায়। শত্রু থাকলে সে মুখ দেখে তাকে চিনতে পারবে। এ ক্ষেত্রে নেকাব লাগালে এসব বিপদ থেকে সে নিজেকে রক্ষা করতে পারবে। তবে প্রয়োজনে নেকাব খুলতে কোনো অসুবিধা নেই। হিজাব নারীকে দিতে পারে নিরাপত্তা, সম্মান। বাঁচাতে পারে ইভটিজিং থেকে। হিজাব নারীর অধিকার। বর্তমান বিশ্বে তথা বেলজিয়াম, তুরস্ক, ব্রিটেনে স্কুলগামী ছাত্রীদের হিজাবের ব্যাপারে যে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে তা মানবাধিকার লঙ্ঘন ও ইসলামদ্রোহী ঘৃণিত কাজ। এখন অভিভাবকরা যদি তার স্ত্রী-কন্যার নিরাপত্তা চান, নারীরা যদি সম্মান নিয়ে সম্ভ্রম রক্ষা করে চলতে চান তাহলে পর্দা প্রথার বিকল্প নেই।

 সূত্র: পত্রিকা

 
মন্তব্য দিন

Posted by চালু করুন জানুয়ারি 3, 2011 in ইসলাম

 

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

 
%d bloggers like this: