RSS

ইসলামে দাওয়াতের গুরুত্ব

07 Jan

মুসলিম জাতির আগে পৃথিবীর বুকে ইহুদি জাতির আবির্ভাব ঘটে নবী ইব্রাহিম আঃ-এর তৃতীয় পুরুষ (নাতি) হজরত ইয়াকুব আঃ-এর সময় থেকে। তিনি কেনানে বসবাস করতেন, পরে পুত্র ইউসুফ আঃ-এর সান্নিধ্যে মিসরে চলে যান। এ জাতি সম্পর্কে পবিত্র কুরআনে বর্ণিত হয়েছে, মুসা বলল তবে কি আমি তোমাদের জন্য আল্লাহকে ছাড়া অন্য উপাস্য খঁুজব? অথচ তিনি তোমাদের সারা জাহানের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন (৭ঃ১৪০)? আমি তো বনি ইসরাইলকে দান করেছিলাম কিতাব, প্রজ্ঞা ও নবুওয়াত। তাদের দিয়েছিলাম উত্তম বস্তু থেকে জীবনোপকরণ এবং তাদের শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছিলাম বিশ্ববাসীর ওপর (৪৫ঃ১৬)। এ কথার ধারাবাহিকতা ধরে হজরত মুসা আঃ-এর ওপর তওরাত, হজরত দাউদ আঃ-এর ওপর জবুর এবং হজরত ঈসা আঃ-এর ওপর ইঞ্জিল কিতাব অবতীর্ণ হয়েছিল। এসব নবী সবাই ছিলেন ইহুদি বংশজাত। এরা ছাড়াও অসংখ্য নবী-রাসূল এ বংশে প্রেরিত হয়েছেন এবং তাদের ওপর ছহিফা (ছোট কিতাব) নাজিল হয়েছে। তাদের ওপর যে গুরু দায়িত্ব ছিল সে জাতি সেটা সঠিকভাবে পালন করেনি, ফলে তাদের মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্ব দেয়া হয়েছিল সেটা তারা ধরে রাখতে পারেনি। তারা আল্লাহর বাণী অন্যদের কাছে পৌঁছানোর প্রচেষ্টা তো করেইনি, বরং ক্রমধারা স্রোতে পরে যেসব নবী আঃ তাদের মধ্যে এসেছেন, তাদের অনেককেই এরা হত্যা করেছে, কারো প্রতি অপবাদ দিয়েছে, কোনো কোনো নবীকে দেশ ছাড়া করেছে। নবী ঈসা আঃ-কেও ওরা শূলে চড়িয়ে হত্যা করার দাবি করে থাকে।

বনি ইসরাইলিদের ব্যর্থতা ও বিমুখতার কারণে আল্লাহ নবী ইব্রাহিম আঃ-এর অপর পুত্র হজরত ইসমাইল আঃ ইনি নবী ও রাসূল, তার বংশে সর্বশেষ নবী হজরত মুহাম্মদ সাঃ-কে পাঠালেন এবং তাঁর ওপর অবতীর্ণ করলেন পবিত্র কুরআন। কিছু দিন পর ওহির মাধ্যমে নবী সাঃ-কে জানিয়ে দিলেন, আপনি আপনার উম্মতদের বলে দিন, আমি তাদের সম্মানিত করেছি এবং তাদেরকে অন্যদের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব প্রদান করেছি। কথাটা কুরআনে এভাবে এসেছে­ ‘কুনতুম খায়রা উম্মাতুন, উখরিজাতুন নাস; তা-মারুবিল মারুফ, অতানহাওনা আনিল মুনকারঅর্থ হচ্ছেঃ তোমরাই শ্রেষ্ঠ উম্মত, তোমাদের উদ্ভব ঘটানো হয়েছে এ জন্য যে, তোমরা সৎ কাজে আদেশ করবে আর অসৎ কাজে নিষেধ করবে (৩ঃ১১০)। আরবি শব্দ উখরিজাতের অর্থ বের করা বা উদ্ভব ঘটানো। এখানে আগে যেটা ছিল সেটাকে বাতিল করে নতুন একটা কিছু করা হলো এটাই শব্দের মর্মার্থ। এ আয়াত প্রমাণ করে শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট এবার মুসলিমদের মাথায় পড়ানো হলো এবং তাদের দায়িত্ব সুনির্দিষ্ট করে দেয়া হয়েছে। বাস্তব জীবনে ঘটনার সংশ্লিষ্টতায় লক্ষণীয় যে, যিনি যতবড় দায়িত্বপূর্ণ কাজে নিয়োজিত থাকেন তার মর্যাদা সমাজে তত বেশি। কলেজের একজন অধ্যক্ষকে অনেক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করতে হয়। সমাজের চোখে ওই কলেজের অন্যান্য অধ্যাপক, প্রভাষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীর চেয়ে অধ্যক্ষ মহোদয়ের মর্যাদা ও সম্মান সবচেয়ে বেশি। মুসলিম জাতির ওপর আল্লাহ যে দায়িত্ব অর্পণ করেছেন ওই দায়িত্বের কারণেই তারা আল্লাহর কাছে সম্মানিত। তারা যদি সে দায়িত্ব যথাযথ পালন না করে তবে সূরা মুহাম্মদের আটত্রিশ নম্বর আয়াত অনুযায়ী দেয়া মর্যাদা প্রত্যাহার করে নেয়া হবে (যেমনটি ইহুদিদের কাছে থেকে ছিনিয়ে নেয়া হয়েছে) এবং এ জাতি সীমা লঙ্ঘন করতে থাকলে সূরা যুখরুফের পাঁচ নম্বর আয়াতের সতর্কবাণী অনুযায়ী যে পবিত্র গ্রন্থ তাদের দেয়া হয়েছে সেটা তাদের কাছ থেকে তুলে নেয়া হবে।

মানুষ কার প্রতিনিধিঃ পৃথিবীর প্রত্যেক মানুষ তার জীবদ্দশা পর্যন্ত আল্লাহর প্রতিনিধি। রাজা-বাদশার প্রতিনিধি থাকে, প্রধানমন্ত্রীর প্রতিনিধি থাকে, থাকে চেয়ারম্যান-প্রেসিডেন্টেরও প্রতিনিধি। মানুষ যে আল্লাহর প্রতিনিধি সে বিষয়ে তিনি কুরআনে এভাবে বলছেন­ স্মরণ করুন, আপনার পালনকর্তা যখন ফেরেশতাদের ডেকে বললেন,- আমি পৃথিবীতে একজন প্রতিনিধি সৃষ্টি করতে যাচ্ছি। তখন তারা বলল, আপনি সেথায় এমন কাউকে সৃষ্টি করবেন যারা অশান্তি ঘটাবে (২ঃ৩০)? আর তিনিই (আল্লাহ) তোমাদের পৃথিবীতে প্রতিনিধি করেছেন এবং কতককে মর্যাদায় অপরের ওপর উন্নত করেছেন, যাতে তিনি তোমাদের যা দিয়েছেন সে বিষয়ে তোমাদের পরীক্ষা করেন (৬ঃ১৬৫)। অতঃপর আমি তোমাদের প্রতিনিধি করেছি পৃথিবীতে তাদের স্থলে (ইহুদিদের) যেন আমি দেখে নিই তোমরা কিরূপ কাজ করো (১০ঃ১৪)। তিনি তোমাদের জমিনে প্রতিনিধি করেছেন। সুতরাং যে ব্যক্তি কুফরি (অস্বীকার) করবে তার প্রতিফল তার ওপরেই বর্তাবে (৩৫ঃ৩৯)। তিনি তোমাদের পরীক্ষা করতে চান যে, তোমাদের মধ্যে কে সবচেয়ে ভালো কাজ করে (১১ঃ৭), (৭৬ঃ২)? প্রতিনিধি বিষয়টি কী? প্রচলিত অর্থে এর ইংরেজি হলো­ রিপ্রেজেনটেটিভ আর আরবি হলো খলিফা। বাংলায় আরো বলা যায়, স্থলাভিষিক্ত, দূত, উত্তরাধিকারী, আদর্শস্বরূপ, কারো নিদর্শনস্বরূপ ইত্যাদি। কোনো ক্ষমতাধর যখন তার ক্ষমতার বা দায়িত্বের আংশিক বা সম্পূর্ণ অপর কাউকে অর্পণ করেন, অর্পিত ব্যক্তি তখন হয়ে যান ওই ক্ষমতাধরের (অর্পণকারীর) প্রতিনিধি বা স্থলাভিষিক্ত। ক্ষমতাপ্রাপ্ত ব্যক্তি তদানুযায়ী ক্ষমতা চর্চা করে থাকেন। মুসলমানরা কুরআনের এই আয়াতগুলো অনুযায়ী নির্দিষ্ট কিছু কাজের ব্যাপারে আল্লাহর প্রতিনিধি।

প্রতিনিধির দায়িত্বঃ প্রতিনিধি হিসেবে মানুষের ওপর নির্দিষ্ট কিছু দায়িত্ব অর্পিত হয়েছে। সবচেয়ে বুদ্ধিমান প্রাণী ও জ্ঞানার্জন সক্ষম সৃষ্টি বিধায় দায়িত্বপ্রাপ্ত হয়েছে। অন্য কোনো প্রাণিকুলের এ সৌভাগ্য হয়নি। আল্লাহ বলছেন, আর তার কথার চেয়ে অধিক উত্তম কথা কার হবে, যে মানুষকে আল্লাহর পথে (হকের পথে) ডাকে, আর নিজেও সৎ কাজ করে এবং বলে আমি মুসলিম (আত্মসমর্পণকারী) (৪১ঃ৩৩)। আমি রাসূল প্রেরণ করেছিলাম, তার সাথে অবতীর্ণ করেছিলাম কিতাব, কিতাবে ন্যায়নীতির কথা বর্ণনা করেছিলাম, যাতে মানুষ ইনসাফ কায়েম করে (৫৭ঃ২৫)। তোমাদের মধ্যে এমন একদল মুসলিম থাকা আবশ্যক যারা মানুষকে কল্যাণের দিকে আহ্বান করবে এবং আদেশ করবে ভালো কাজের আর নিষেধ করবে তাদের মন্দ কাজের প্রতি; এরাই সফলকাম (৩ঃ১০৪)। মানুষকে আল্লাহর পথে ডাকা, তাদের কল্যাণের পথে ডাকা, মানুষের মধ্যে ইনসাফ কায়েম করা সর্বোত্তম কাজ। অপর সূরায় বলা হয়েছে­ মানুষ ক্ষতির মধ্যে নিমজ্জিত আছে, তবে তারা ছাড়া, যারা চারটি কাজ সম্পাদন করেছে। শ্রদ্ধেয় ইমাম শাফি রহঃ বলেছেন, কোনো বান্দার জান্নাতে প্রবেশের জন্য এ কাজ চারটি ন্যূনতম শর্ত। যেকোনো একটা পালনে ব্যর্থ হলে তার ধ্বংস অনিবার্য, তবে আল্লাহ যদি তাকে মাফ করে দেন সে কথা স্বতন্ত্র। সূরা আসরে কাজগুলোর কথা বলা হয়েছে। সেগুলো হলো­ ১. ঈমান আনতে হবে ২. ভালো কাজ বা সৎ কাজ করতে হবে ৩. হক বা সত্যের প্রচার করতে হবে ৪. মানুষকে বিপদের সময় ধৈর্য ধরার উপদেশ দিতে হবে (১০৩ঃ২-৩)। এসব বাণী স্বয়ংক্রিয়ভাবে ঘোষণা করে যে, প্রতিনিধি হিসেবে সত্যের প্রচার করা প্রত্যেক ঈমানদারের অবশ্য কর্তব্য। প্রসঙ্গক্রমে যে কথা এসেছে সেটা হলো হক বা সত্য কিভাবে সংজ্ঞায়িত হবে? এর সাথে পরিচয় হওয়াই এখন মুখ্য বিষয়। এ সম্পর্কে আল্লাহ বলেছেন, সত্য তোমাদের রবের পক্ষ থেকে এসে গেছে, অতএব, যার ইচ্ছা হয় এর ওপর ঈমান আনুক, যার ইচ্ছা হয় কুফরি করুক (১৮ঃ২০), (৮০ঃ১২)। হে মানুষ! তোমাদের কাছে এসেছে তোমাদের রবের তরফ থেকে সত্য বাণী (১০ঃ১০৮)। বলুন! সত্য এসে গেছে মিথ্যা অপসৃত হয়েছে, সে তো নির্মূল হবেই (৩৪ঃ৩৯), (১৭ঃ৮১)। আমার পালনকর্তা সত্য দ্বীন অবতীর্ণ করেছেন, তিনি আলিমুল গায়েব (৩৪ঃ৪৭)। তিনি তার রাসূলকে পথ নির্দেশনা ও সত্য ধর্মসহ প্রেরণ করেছেন (৯ঃ৩৩), (৬১ঃ৯)। আমি সত্যসহ কুরআন নাজিল করেছি ও সত্যসহ তা নাজিল হয়েছে (১৭ঃ১০৫)। অসংখ্য এরূপ আয়াতের মধ্য থেকে কয়েকটা মাত্র উল্লেখ করা হলো­ আয়াতগুলো পর্যবেক্ষণান্তে নিঃসঙ্কোচে যে বিষয়টি সামনে চলে আসে সেটা হলো আল্লাহ যে বাণী মানুষের জন্য প্রেরণ করেছেন সেগুলোই হলো হক; সেটাই সত্য। হকের সমন্বিত সমষ্টি হলো পবিত্র কুরআন, যা প্রচার করার জন্যই মানুষ পৃথিবীতে আল্লাহর প্রতিনিধি। মৃতুøর সাথে সাথে এ মর্যাদা আর থাকে না।

হাদিসের আলোকেঃ দশম হিজরি সনে বিদায় হজের দিন নবী সাঃ লক্ষাধিক সাহাবি রাঃ-এর সামনে যে ঐতিহাসিক ভাষণ দেন, ইতিহাসবিদরা তা প্রকাশ করেছেন হাদিসবিদরা তা লিপিবদ্ধ করেছেন। সেদিন তিনি বলেছিলেন, হে লোক সকল! আজকের দিন সম্মানিত। আমার আজকের কথাগুলো তোমরা অনুপস্থিত ব্যক্তির কাছে পৌঁছে দেবে। কেননা উপস্থিত ব্যক্তি হয়তো এমন ব্যক্তির কাছে পৌঁছাবে, যে একথাগুলো উপস্থিত ব্যক্তির চেয়ে বেশি স্মরণ রাখতে পারবে (বুখারি)। হজরত জারির ইবনে আব্দুল্লাহ (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করিম সাঃ-এর কাছে আমি নামাজ কায়েম, জাকাত প্রদান ও প্রত্যেক মুসলিমকে নসিহত করার জন্য বাইয়াত (ওয়াদাবদ্ধ) গ্রহণ করেছি (বুখারি)। অনেক সাহাবি রাঃ এ বিষয়ের ওপর বাইয়াত নিয়েছেন। সাহাবিরা পরস্পর দেখা হলে ধর্মের কথাই বেশি আলোচনা করতেন এবং এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট থাকতে পছন্দ করতেন। তখনো ইসলাম নিয়ে সমস্যা ছিল, আজো ইসলামে সমস্যা ও সঙ্কট রয়েছে। অনুসারীরা নিরুদ্বিগ্ন বলেই প্রতীয়মান। অপর হাদিসে বর্ণিত, কুরআনের কোনো আয়াত গোপনকারীকে আল্লাহ অভিসম্পাত করেন (মুসলিম)। আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর রাঃ কর্তৃক বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাঃ বলেছেন­ বাল্লিগু আন্নি ওলাও আয়াহ্‌, অর্থঃ আমার পক্ষ থেকে যদি একটি আয়াতও হয় তা তোমরা লোকদের কাছে পৌঁছে দাও (বুখারি)। নিঃসন্দেহে এসব হাদিস মুসলিমদের উৎসাহিত করে, উদ্বুদ্ধ করে আল্লাহর কথা, কুরআনের কথা, নবী সাঃ-এর কথা সমাজের সর্বস্তরে পৌঁছে দেয়ার কাজে নিয়োজিত হতে।

উপসংহারঃ আল্লাহর নির্দেশে হজরত জিব্রাইল

আঃ পবিত্র কুরআনের যে কয়টা আয়াত (বাণী) সর্বপ্রথম হেরা পাহাড়ের গুহায় নবী সাঃ-এর ওপর অবতীর্ণ করেছিলেন তা হলো সূরা আল-আলাকের প্রথম পাঁচটি আয়াত। এ পাহাড়ে অবস্থানকালে আল্লাহর নূর নাজিল হওয়ায় পাহাড়টি পরে জাবালে নূর নামকরণ হয়েছে। গভীর রাতে অবতীর্ণ এ আয়াতগুলোর মধ্যে পড়ো’ (পাঠ করো) শব্দটি দুবার এবং কলমশব্দটি একবার উল্লেখ করা হয়েছে। মহান রব প্রথম বার্তাতেই তার বান্দাদের পড়তে ও লিখতে অনুপ্রাণিত করেছেন। ঘটনাটাই মুসলিম সমাজের সদস্যদের কাছে লেখাপড়ার গুরুত্ব যে কতখানি তা অনুধাবন করার জন্য যথেষ্ট। নামাজ-রোজা, হজ, জাকাতসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ইবাদতের কথা বাদ রেখে প্রথমেই বলা হচ্ছে­ ‘পড়ো। ওই সব ইবাদতের কথা এসেছে পরে, পর্যায়ক্রমে। ওহি প্রাপ্তির পর নবী সাঃ প্রচার করে দিলেন, প্রতি মুসলিমের জন্য বিদ্যা শিক্ষা করা ফরজ। এবং তিনি কাবা শরিফের অদূরে সাফা পর্বতের পাদদেশে হজরত আরকাস ইবনে আবুল আরকাস রাঃ-এর গৃহে মাদরাসা স্থাপন করে সাহাবিগণকে অনুশীলন শিক্ষা দিতে লাগলেন। ইতিহাস সাক্ষী তার জীবদ্দশায় শত শত সাহাবি রাঃ কুরআনে হাফেজ হয়েছিলেন।

ইসলামকে জানা, মানা ও প্রচার করতে যতটুকু বিদ্যা অর্জন করা প্রয়োজন ন্যূনতম ততটুকু অর্জন করা ফরজ। নিতান্তই যদি কারো পক্ষে অনুরূপ প্রজ্ঞা অর্জন করা সম্ভব না হয় এরূপ ব্যক্তিকে যিনি জানেন তাকে জিজ্ঞেস করে জেনে নিতে হবে (১৬ঃ৪৩), (২১ঃ৭)। এটাই মহান রবের নির্দেশ। ইসলাম প্রচারের জন্য কাজ করা প্রতি মুসলিমের ওপর ফরজ, এ দায়িত্ব থেকে অব্যাহতির অবকাশ নেই।

দ্বিতীয় খলিফা হজরত ওমর রাঃ তার প্রজাদের উদ্দেশে বলেছিলেন, কেবল কুরআন, কেবল কুরআনের প্রভাবেই পারস্য ও রোমের মতো বৃহৎ শক্তি আজ মুসলিমদের পদতলে! তোমাদের জন্য দ্বীনের ক্ষেত্রে আল্লাহ সে পথই নির্ধারণ করেছেন (যে আদেশ অন্য নবীদেরও দিয়েছিলেন) যে, তোমরা দ্বীনকে প্রতিষ্ঠিত করো এবং তাতে অনৈক্য সৃষ্টি কোরো না (৪২ঃ১৩)।

 
মন্তব্য দিন

Posted by চালু করুন জানুয়ারি 7, 2011 in ইসলাম

 

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

 
%d bloggers like this: