RSS

সুদ দারিদ্র্য বিমোচনের অন্তরায়

14 Jan

পবিত্র কুরআনে এরশাদ হয়েছে, ‘আল্লাহ ক্রয়-বিক্রয়কে হালাল ও সুদকে হারাম করেছেন।’ ‘হে ঈমানদারগণ! আল্লাহকে ভয় করো এবং লোকদের কাছে তোমাদের সুদের যে পাওনা তা ছেড়ে দাও। যদি তা না করো তাহলে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের পক্ষ থেকে লড়াইয়ের ঘোষণা জেনে রাখো।’ ‘ঋণী ব্যক্তি যদি অভাবগ্রস্ত হয় তা হলে তাকে সচ্ছলতা ফিরে আসা পর্যন্ত অবকাশ দিতে হবে। আর মাফ করে দেয়াই তোমাদের জন্য উত্তম, যদি তোমরা বুঝতে পারো।

পবিত্র হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, ‘যারা সুদ দেয় বা গ্রহণ করে কিংবা সুদের উকিল বা সাক্ষী হয় অথবা সুদ লিপিবদ্ধ করে এদের সবার প্রতি হুজুর সাঃ লানত ও অভিশাপ দিয়েছেন।, ‘সুদের সত্তরটি স্তর আছে। তন্মধ্যে নিুতর দিরহাম আল্লাহর কাছে ছত্রিশবার ব্যভিচারের চেয়েও নিকৃষ্ট।

হজরত আবদুল কাদের জিলানি রহঃ, হজরত খাজা মঈনউদ্দীন চিশতি রহঃসহ সব আউলিয়া তথা বিশ্বের সব মনীষী সুদ প্রথাকে প্রত্যাহারের আদেশ দিয়েছেন।

হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টধর্মসহ পৃথিবীর সব ধর্মের মতবাদ অনুসারে সুদ ব্যবস্থা নিষিদ্ধ, ঘৃণিত ও ধিকৃত। এ একবিংশ শতাব্দীর সভ্যতার দাবিদার হয়ে শোষণের হাতিয়ার হারাম বস্তু সুদের দায়ে একতরফা আদালতে অসহায় জনগণের নামে মামলা দায়ের করা এবং এতদ্বারা বিষয়-সম্পত্তি নিলাম করার দৃষ্টান্ত ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে এক কালো অধ্যায় হয়ে থাকবে। আর বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে অর্থ মন্ত্রণালয় অথবা ব্যাংকিং সেক্টর পরিচালনায় যারা নিয়োজিত আছেন, তারা যদি সুদ নামক বস্তুটির নির্যাতন থেকে এ দেশের মানুষকে পরিত্রাণ দিতে না পারেন তবে তাদের সেই পদে বহাল থাকার সার্থকতা কোথায়? অপর দিকে হারাম সুদ আদায়ের জন্য আদালতকে ব্যবহার এহেন প্রতিষ্ঠানের ঐতিহ্যবাহী ভাবমর্যাদা বিনষ্ট করা হচ্ছে, যা জাতির জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর ও বেদনাদায়ক। সুদ আদায়ে সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞ বিচারকরাও নিজেদের ধর্মীয় বিশ্বাসে অবশ্যই অপরাধী হচ্ছেন।

বাংলাদেশের অর্থনীতি সর্বাবস্থায় প্রকৃতি বিরূপ। খরা, জরা, অকাল বর্ষা, অতিবৃষ্টি, অনাবৃষ্টি, শিলাবৃষ্টি, অতিবন্যা, নদীভাঙন এবং মনুষ্যসৃষ্ট আপদ ফারাক্কার প্রতিক্রিয়া প্রভৃতি গ্রামবাংলার অর্থনীতি ধ্বংস করে দিচ্ছে। ফসল বুনলেই যে ফসল হবে তার নিশ্চয়তা নেই। ফসল হলে উৎপাদন খরচের সাথে বিক্রয়মূল্যের ভারসাম্য থাকে না। এই গ্রামীণ কৃষি উৎপাদনের ওপরই নির্ভর করে শহরের অর্থনৈতিক উন্নয়ন। কিন্তু আমাদের দেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থায় নিয়ম হলো­ ‘ঋণ দেবো-সুদ নেবো। ফসল উৎপন্ন হলো কি হলো না, শিল্প-পরিবহন চলল কি চলল না, ব্যবসা হলো কি হলো না­ তার কোনো দিকনির্দেশনা নেই। ব্যাংকের সুদ অমাবস্যা-পূর্ণিমা, ছুটির দিন, ঈদ-পার্বণ কোনো কিছুই মানে না। কাবুলিওয়ালার মতো তাদের নীতিমালা আসলি রাহেগা, পয়লে সুদ দোও, সুদ মাংতা

অর্থনীতির নিয়ামক শক্তি হলো উৎপাদন, প্রাকৃতিক সম্পদ আহরণ ও বৈদেশিক বাণিজ্যের সার্বিক উন্নয়ন। প্রযুক্তির উন্মেষ, সৃজনশীল উদ্যোগ কর্মজীবনে উদ্ভাসিত করাই জাতির জন্য পরম পাওয়া। সার্বিকভাবে বুঝতে হবে, ব্যক্তির অর্থনৈতিক স্বাধীনতা একটি জাতিকে বিশ্ববাসীর কাছে মর্যাদাশীল জাতি হিসেবে পরিচিতির আসনে সমাসীন করতে পারে।

সুদের বিরূপ প্রভাবে দেশের সরকারি ও বেসরকারি শিল্প, বাণিজ্য, কৃষি­ সব কিছু ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে উপনীত হয়েছে। সুদের দায়ে ঋণগ্রহীতা আত্মহত্যা করছে, রোগ-শোক নিদারুণভাবে বেড়ে চলেছে। মানুষের জীবনীশক্তি লোপ পাচ্ছে। কোটি কোটি টাকার ঋণ বিতরণ করা হলেও সুদের শোষণে মানুষ বেকার থেকে বেকারতর ও নিঃস্ব হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট মহলকে এগুলো খতিয়ে দেখতে হবে। বুঝতে হবে সুদের দায়ে মামলা-মোকদ্দমার চেয়ে মূল ঋণ সহজভাবে আদায় করে নেয়াই ব্যাংক ও রাষ্ট্রের জন্য অধিকতর কল্যাণকর। যুগ যুগ ধরে মগ, বর্গী, পাঠান, মুঘল, ইংরেজ, কাবুলিওয়ালা ও পাঞ্জাবিদের দ্বারা বাংলার সাধারণ জনগণ শোষিত হয়েছে। আর আজ শোষিত হচ্ছে এক শ্রেণীর এনজিও আর তাদের সহযোগীদের দ্বারা। ঋণের কিস্তি পরিশোধে ব্যর্থ কুড়িগ্রামের চার সন্তানের জননী সবিতা রানী (৪৫) গ্রামীণ ব্যাংকের কর্মকর্তাদের তাগিদ ও চাপ সইতে না পেরে আত্মহত্যা করেছে। এটা গ্রামীণ ব্যাংকের গরিবের প্রতি মমতার ও তাদের দারিদ্র্য বিমোচনের একটি উদাহরণ।

ঋণ প্রদানের সাধারণ উদ্দেশ্য হলো মানুষকে আত্মনির্ভর করে তোলা। কিন্তু সে ঋণ যদি ঋণগ্রহীতার গলার ফাঁস হয় তবে ওই ঋণের প্রয়োজন কী? দেশের ব্যাংকের সিন্দুকে কোটি কোটি টাকা অলসভাবে পড়ে থাকলেও সুদ আর মামলার আতঙ্কে মানুষ উৎপাদনমুখী কাজে ঋণ গ্রহণ করতে নারাজ। ব্যাংকের লেজার-রেজিস্টারের কল্পিত সুদকে জাতীয় প্রবৃদ্ধি আর মুনাফা দেখানো হবে। আর এর দ্বারা একশ্রেণীর মানুষ বোনাস পাবেন। এ কল্পনাবিলাসী মনোভাব অবশ্যই পরিত্যাগ করতে হবে।

বিজ্ঞানভিত্তিক যুক্তি ও তথ্যে বলা যায়, সুদ মৌলিক অধিকার ও মানবতার শত্রু। সুদ মুদ্রাস্ফীতি, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি ও টাকার অবমূল্যায়ন ঘটায়। সুদ ঋণীকে আরো ঋণী করে, গরিবকে নিঃস্ব করে। সুদ বিশ্বে অর্থনৈতিক প্রতিযোগিতা রুদ্ধ করে মুক্তবাজার অর্থনীতিকে হার মানায়। সুদ জাতীয় প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থানের অন্তরায়। সুদ প্রত্যাহার সুষম ও স্থিতিশীল অর্থনীতির নিশ্চয়তা। সুদ নারী নির্যাতনের হাতিয়ার, দারিদ্র্য বিমোচনের অন্তরায়। সুদ কৃষি, শিল্প ও বাণিজ্যকে ধ্বংস করে। সুদ প্রত্যাহার বিশ্ববাণিজ্যকে শক্তিশালী করে। সুদ উৎপাদনকে বিমুখ করে, প্রত্যাহার উৎপাদনমুখী করে। সুদ আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটায়। বেকারের সংখ্যা বৃদ্ধি করে।

 
১ টি মন্তব্য

Posted by চালু করুন জানুয়ারি 14, 2011 in ইসলাম

 

One response to “সুদ দারিদ্র্য বিমোচনের অন্তরায়

  1. nuruzzaman

    জুলাই 21, 2011 at 11:55 পুর্বাহ্ন

    they are not muslim (he who surrender all his wish to Allah) who are take & give sude(interest)

    so it is our duty (farz) to struggle againest them or we lost our muslimity. sura bakara ayat 178,179

     

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

 
%d bloggers like this: