RSS

ভিক্ষার উপার্জন হারাম

25 Jan

ভিক্ষা ইসলামে জায়েজ নেই। হাদিসে বলা হয়েছে, ওপরের হাত নিচের হাত থেকে উত্তম

সম্প্রতি শিশুদের বিকলাঙ্গ করে ভিক্ষায় নিয়োজিত করা হয় মর্মে বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে সংবাদ প্রকাশিত হয়। খবরে প্রকাশ, রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে কৌশলে ধরে আনা হতো শিশুদের। পরে তাদের হাত-পা, মাথাসহ শরীরের অংশবিশেষ কেটে কৃত্রিমভাবে বানানো হতো বিকলাঙ্গ। এই কৃত্রিম বিকলাঙ্গ শিশুদের রাজধানীর বিভিন্ন ভিখারির কাছে ভাড়া দিয়ে আদায় করা হতো লাখ লাখ টাকা। খবরটি যেমন লোমহর্ষক, তেমনি জঘন্য। এ ঘটনায় একসঙ্গে বেশ কয়েকটি অপরাধ সংঘটিত হয়েছে। অপহরণ, অঙ্গহানি ও ভিক্ষার কাজে জোরপূর্বক নিয়োজিতকরণ। এসব কাজই ইসলামী শরিয়তে নিষিদ্ধ ও হারাম। এর জন্য রয়েছে কঠিন শাস্তির ঘোষণা। ইসলাম মানবজাতিকে শ্রমের ব্যাপারে ও সৎ উপার্জনের ব্যাপারে উৎসাহিত করেছে। নিষেধ করেছে ভিক্ষা। আবার কোনো রকম উপার্জন না করে শুয়ে-বসে থাকা, অন্যের গলগ্রহ হয়ে থাকা খুবই গর্হিত ও অত্যন্ত ঘৃণ্য কাজ, যা ইসলাম কোনোক্রমেই সহ্য করে না। অথচ আজকে অনেকের মুখে কিংবা লেখনীতে ভিক্ষাকে বৃত্তি অর্থাৎ ভিক্ষাবৃত্তি বলতে ও লিখতে দেখা যায়। আমার প্রশ্ন জাগে, ভিক্ষাবৃত্তি হয় কী করে? কোনো রকম উপার্জন না করে ভিক্ষা করে খাওয়া কিংবা ভিক্ষার মাধ্যমে অর্থ উপার্জন করাকে হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) প্রচণ্ড রকম ঘৃণা করতেন। এ সংক্রান্ত কাঠুরিয়ার বিখ্যাত ঘটনা আমাদের সবারই জানা। ভিক্ষা একটি সামাজিক সমস্যা ও অপরাধ। আইনেও ভিক্ষা নিষিদ্ধ। ভিক্ষা ইসলামে জায়েজ নেই। হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, আল্লাহতায়ালার কাছে হালাল কাজগুলোর মধ্যে সবচেয়ে নিকৃষ্ট বা রাগের উদ্রেক সৃষ্টিকারী কাজ হলো স্ত্রীকে তালাক দেওয়া ও ভিক্ষা করা।

সহায়-সম্বলহীন একজন মানুষ সাহায্যের জন্য অন্যের কাছে হাত পাতবে, এটাই স্বাভাবিক। মানুষ মানুষের জন্যই। কিন্তু সহায়-সম্বলওয়ালাদের ভিড়ে সহায়-সম্বলহীনরা আজ বড় অসহায়। তাই আমরা মনে করি, সরকার উদ্যোগ নিলে এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনী আন্তরিক হলে ভিক্ষা বন্ধ করা সম্ভব। ভিক্ষামুক্ত শ্রমনির্ভর ও স্বনির্ভর জাতি গঠনে হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, ‘তোমাদের কেউ দড়ি নিয়ে পাহাড়ের দিকে চলে যাবে এবং লাকড়ি জমা করে পিঠে বোঝা বয়ে এনে তা বিক্রি করবে আর এমনিভাবে আল্লাহ তার প্রয়োজন মিটিয়ে দেবেন_ তা তার জন্য মানুষের দ্বারে দ্বারে ভিক্ষা, করুণা ও লাঞ্ছনা পাওয়ার চেয়ে অনেক ভালো। _বুখারি

সামাজিক জীবনে আমরা দেখতে পাই, যারা ভিক্ষা করে তারা অসম্মানজনক, অবহেলিত ও তুচ্ছ জীবনযাপন করে। কোনো মুসলমান অপর কারও কাছে হাত প্রসারিত করলে তার চেহারার ঔজ্জ্বল্য বিলীন হয়ে যাবে এবং স্বীয় মনুষ্যত্বের মান-মর্যাদা অকারণে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) এ ব্যাপারে কঠোর বাণী উচ্চারণ করেছেন। তিনি বলেছেন, যে ব্যক্তি বিনা প্রয়োজনে ভিক্ষা চায়, সে নিজ হস্তে অঙ্গার একত্র করার মতো ভয়াবহ কাজ করে। _বায়হাকী

হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) আরও বলেন, ‘যে লোক ধনী হওয়ার উদ্দেশ্যে লোকদের কাছে ভিক্ষা চাইবে, সে নিজের চেহারাকে কিয়ামত পর্যন্ত সময়ের জন্য ক্ষতযুক্ত করে দিল। সে জাহান্নামের গরম পাথর ভক্ষণ করতে বাধ্য হবে। এখানে যার ইচ্ছা নিজের জন্য এসব জিনিস বেশি পরিমাণে সংগ্রহ করুক আর যার ইচ্ছা কম করুক।’ হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) আরও বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি ভিক্ষা করার কাজে নিজেকে অভ্যস্ত বানায়, সে আল্লাহর সঙ্গে সাক্ষাৎ করবে এমন অবস্থায় যে, তার মুখমণ্ডলে এক টুকরা গোশতও থাকবে না।’

_বুখারি ও মুসলিম

উলি্লখিত হাদিস থেকে আমরা জানতে পারলাম ভিক্ষার ভয়াবহ পরিণাম। সুতরাং আত্মনির্ভরশীল না হয়ে পরনির্ভরশীল হওয়া বা পরগাছা হওয়া ইসলাম সমর্থন করে না।

আল্লাহর নবী ও রাসূলরা সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ ও সবচেয়ে সম্মানিত ব্যক্তি হওয়া সত্ত্বেও নিজ হাতে জীবিকা নির্বাহের ব্যবস্থা করতেন, সেখানে কেন আমরা অপরের গলগ্রহ বা অকর্মা, নিষ্কর্মা, পরজীবী হয়ে জীবনযাপন করব? কোনো বিবেকবান মানুষ অকর্মা হয়ে বসে থাকতে পারে না। পরগাছা, পরজীবীরা সমাজে অসম্মানিত, লাঞ্ছিত, ধিক্কৃত, অবহেলিত, অপাঙ্ক্তেয়। সুস্থ, সবল শিক্ষিত ব্যক্তিত্বসম্পন্ন কোনো লোক পরজীবী বা পরগাছা হয়ে জীবনযাপন করতে পারে না।

হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘নিজ হাতে উপার্জনকারী ব্যক্তি আল্লাহর প্রিয় বান্দা। অপর একটি হাদিসে হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ওই ব্যক্তিই উত্তম যে নিজ হাতে উপার্জন করে জীবিকা নির্বাহ করে।’ জনৈক সাহাবি হজরত রাসূলুল্লাহর (সা.) কাছে ভিক্ষা চাইতে এলে হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) তাকে ভিক্ষা না দিয়ে আত্মকর্মসংস্থানের উপায় বাতলে দেন। সাহাবায়ে কেরাম (রা.) ছিলেন আত্মনির্ভরশীল। সবাই নিজ হাতে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেছেন। কেউ কারও গলগ্রহ হয়ে থাকেননি। ভিক্ষার মতো জঘন্য হারাম পেশা গ্রহণে যারা শিশুদের বাধ্য করেছে, অঙ্গহানি করে শিশুদের জীবনের ক্ষতি করেছে তাদের আইনের আওতায় এনে কঠিন শাস্তি দিতে হবে। পাশাপাশি ভিক্ষা বন্ধে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। তাহলে ভবিষ্যতে কেউ আর এ ধরনের জঘন্য কাজ করতে সাহস পাবে না।

 
মন্তব্য দিন

Posted by চালু করুন জানুয়ারি 25, 2011 in ইসলাম

 

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

 
%d bloggers like this: