RSS

নবী জীবন : একান্ত আচরণের সৌন্দর্য

21 Feb

সর্বশ্রেষ্ঠ পয়গম্বর হজরত মুহাম্মদকে (সা.) মহান রাব্বুল আলামিন এমন এক সময় পৃথিবীতে প্রেরণ করেছেন, যখন আরবসহ গোটা বিশ্ব অন্ধকারে আচ্ছন্ন ছিল। সে সময় মানবতা, সভ্যতা ও ইনসাফ সমাজে ছিল অনুপস্থিত। এ অবস্থায় আল্লাহতায়ালা মহানবীকে (সা.) উন্নত চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য এবং অতুলনীয় মানবিক গুণাবলী দান করে মানবজাতির হেদায়েতের জন্য প্রেরণ করেন। হজরত আলী (রা.) যিনি মহানবীর (সা.) নবুওয়তের প্রথম থেকে জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত তাঁর খেদমতে ছিলেন, হজরত ইমাম হুসাইন (সা.) একদিন তাঁর কাছে মহানবীর (সা.) চরিত্র ও স্বভাব সম্পর্কে প্রশ্ন করলে জবাবে তিনি বললেন, ‘তিনি হাসিমুখ, নম্র স্বভাব ও দয়ালু প্রকৃতির লোক ছিলেন; কঠোর স্বভাব, সংকীর্ণ হৃদয়ের ছিলেন না। কথায় কথায় কলহ করতেন না, কোনো ধররের মন্দ বাক্য কখনও উচ্চারণ করতেন না। কোনো কথা তাঁর পছন্দ না হলে তা থেকে বিরত থাকতেন। তাঁর কাছে কেউ কোনো কিছুর আবদার করলে তাকে নিরাশ করতেন না। না-মঞ্জুরির কথাও প্রকাশ করতেন না। অর্থাত্ প্রকাশ্যভাবে নিষেধ বা প্রত্যাখ্যান করতেন না। বরং তা পূরণ করা সম্ভব না হলে নীরব থাকতেন। ফলে বিচক্ষণ ব্যক্তিরা সে নীরবতার মধ্যেই উদ্দেশ্য বুঝে নিতে পারত। তিনি নিজের জীবন থেকে তিনটি বিষয়কে সম্পূর্ণ দূর করে দিয়েছিলেন। যেমন—পরস্পরে তর্ক করা, প্রয়োজনাতিরিক্ত কথা বলা এবং লক্ষ্যহীন কোনো কিছুর পেছনে লেগে থাকা। অপর লোকদের ক্ষেত্রেও তিনি তিনটি বিষয়ে সংযমী ছিলেন। কাউকে মন্দ বলতেন না, কাউকে দোষারোপ করতেন না এবং কারও অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে অনুসন্ধানে লিপ্ত থাকতেন না। যে কথা মানুষের কল্যাণকর তাই বলতেন। কথোপকথনের সময় সাহাবিরা এমন নীরব ও নতশিরে তা শুনতেন, যাতে মনে হতো যেন তাঁদের মাথায় পাখি বসে আছে। যখন তাঁর কথা বলা শেষ হতো তখন সাহাবিরা পরস্পরে কথাবার্তা বলতেন।

কেউ কোনো কথা বলা শুরু করলে তার কথা শেষ না হওয়া পর্যন্ত তিনি নীরবে শুনতে থাকতেন। যে কথায় মানুষ হাসত, তিনিও সে কথায় মুচকি হাসতেন। যাতে মানুষ বিস্মিত হতো, তিনিও তাতে বিস্মিত হতেন। বহিরাগত কোনো ব্যক্তি তাঁর সঙ্গে ঔদ্ধত্যের সঙ্গে কথা বললে তা তিনি সহ্য করে নিতেন। লোকমুখে নিজের প্রশংসা শোনা পছন্দ করতেন না। কিন্তু যদি কেউ অনুগ্রহ ও দানের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করত, তা গ্রহণ করতেন। যতক্ষণ পর্যন্ত কোনো ব্যক্তি তার কথা বলা শেষ না করত, ততক্ষণ তার মাঝে ছেদ টানতেন না। তিনি অত্যন্ত উদার, সত্যবাদী ও অতিশয় নম্র স্বভাবের ছিলেন। তাঁর সাহচর্য ছিল মহোত্তম। তাঁর এমন ব্যক্তিত্বপূর্ণ চেহারা ছিল, অকস্মাত্ দেখলে অন্তর কেঁপে উঠত। কিন্তু যতই ঘনিষ্ঠভাবে পরিচিত হতে থাকত, ততই ভালোবাসা দৃঢ়তর হতো। রাসুলুল্লাহের (সা.) কোলে লালিত হিন্দ ইবনে আবিহাল্লা বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) নম্র স্বভাবী ছিলেন, কঠোর প্রকৃতির ছিলেন না। কারও প্রতি তাচ্ছিল্য প্রদর্শন করা ভালো মনে করতেন না। সামান্য বিষয়েও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতেন। যদি কেউ সত্যের বিরোধিতা করত, তাহলে রাগান্বিত হয়ে যেতেন, কিন্তু ব্যক্তিগত কাজে তার পূর্ণ সহযোগিতা করতেন। ব্যক্তিগত ব্যাপারে কখনও তাঁর ক্রোধের উদয় হতে দেখা যায়নি এবং কারও কাছ থেকে প্রতিশোধ গ্রহণ করেননি।

 

 
মন্তব্য দিন

Posted by চালু করুন ফেব্রুয়ারি 21, 2011 in ইসলাম

 

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

 
%d bloggers like this: