RSS

কুরআনঃ নারী উন্নয়ন

28 Feb

বর্তমানে পৃথিবীর সর্বত্র নারীরা যে রূপ নিষ্ঠুরভাবে নির্যাতিত হচ্ছে, সে ক্ষেত্রে নারী উন্নয়নে অবশ্য শতভাগ সমর্থন সবারই থাকা উচিত। তাই বলে মুসলিম প্রধান বাংলাদেশে আল্লাহ সুবহানাল্লাহু তায়ালার আইন উল্টে ফেলে নয়। ১৯৯৫ সালে চীনের বেইজিংয়ে বিশ্ব নারী সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। কোটি কোটি ডলার খরচ হয়। বিশ্বের নারী সংগঠনগুলো কোটি কোটি টাকা পানিতে ফেলে কত কী না দাবি পাস করে আনল, কিন্তু পারল কি নারী নির্যাতন বন্ধ করতে? যতই দিন যাচ্ছে ততই নারীরা হয়ে উঠছে বাজারের পণ্য এবং মারাত্মক নির্যাতনের শিকার। নারীরা নিগৃহীত হচ্ছেই। আল্লাহর দেয়া সুস্পষ্ট বিধান লঙ্ঘন না করে যদি ইসলামের উত্তরাধিকার আইন এবং ভরণ-পোষণ আইন এ ক্ষেত্রে বিবেচনায় আনা যায়, তাহলে দেখা যাবে নারীর সামগ্রিক আর্থিক অবস্থান পুরুষের তুলনায় অনেক ভালো। আল্লাহর ভয়, ভালো-মন্দ কাজের প্রতিফল প্রতিটি নারী-পুরুষকে অবশ্যই পেতে হবে­ যত দিন এ বিশ্বাস মানুষের মনে বদ্ধমূল করা না যাবে, তত দিন কোনো সংস্থা, কোনো সরকার নারীর মর্যাদা ও অধিকার দিতে পারবে না। দিতে পারে না। আল্লাহর ভয় ও আখিরাতে বিশ্বাস সমাজে ইনসাফ ও সুবিচার প্রতিষ্ঠা করতে পারে। তখন নারীরা পাবে অধিকার ও মর্যাদা। নারী অধিকার বঞ্চিত করা হলে আল্লাহর কাছে একদিন জবাবদিহি করতেই হবে, এ শিক্ষা এখন প্রয়োজন।

উল্লেখ্য, গত তত্ত্বাবধায়ক সরকার নারীর সম-অধিকারের নামে নারী উত্তরাধিকার সংশোধন নীতিমালা ২০০৮ প্রণয়ন করে, যদিও তা পরে ইসলামি সংগঠনগুলোর আন্দোলনের মুখে বাতিল করা হয়। বর্তমানেও বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় নারীর সম-অধিকার দাবি নিয়ে এ দেশের আলেমসমাজের সাক্ষাৎকার, বক্তব্য, আল্লাহর আইন পরিবর্তনে এর পরিণতি ইত্যাদি নিয়ে আলোচনা বরাবরের মতো দেখা যাচ্ছে।

সূরা বাকারায় ২৪ নম্বর আয়াতে আল্লাহ পাক বলেছেন, ‘কুরআন প্রত্যাখ্যানকারীরা কাফির, তাদের জন্য রয়েছে দোজখের শাস্তি। তারা হবে দোজখের আগুনের ইন্ধন। পুরো কুরআন বা কুরআনের কিছু অংশ প্রত্যাখ্যান করা একই রকম অপরাধ। এখানে উল্লেখ্য, ইবলিস একজন বড়মাপের আলিম ও আবিদ (জ্ঞানী ও ইবাদতকারী) জিন ফেরেশতার মর্যাদায় ভূষিত ছিল। কিন্তু আদম (আঃ)-কে অভিবাদন না জানিয়ে আল্লাহর নির্দেশটি প্রকাশ্য অমান্য করে আল্লাহর লানতে পরিণত হয় অর্থাৎ শয়তান হয়ে যায়।

সূরা আল বাকারার ৮৫ নম্বর আয়াতে একই রকম ঘোষণা আছে, ‘তবে কি তোমরা কুরআনের কিছু অংশের ওপর ঈমান আনো আর কিছু অংশ প্রত্যাখ্যান করো? সুতরাং তোমাদের মধ্যে যারাই এরূপ করবে, তাদের লাঞ্ছনা ছাড়া আর কিছু নেই। আখিরাতের দিন তারা কঠিন শাস্তিতে নিক্ষিপ্ত হবে।’

বর্তমান সমাজে আমরা অনেকেই এই অপরাধে অপরাধী। নামাজ, রোজা, হজ, জাকাতের মতো আনুষ্ঠানিক ইবাদতগুলো মেনে নিই কিন্তু অর্থনীতিসহ অন্যান্য সামাজিক বিধিবিধান মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানাই। মনে রাখা প্রয়োজন মুসলমান হতে হলে পূর্ণাঙ্গ ঈমান ও পূর্ণাঙ্গ ইসলাম গ্রহণ করতে হবে। ইসলামি জীবনবিধানের কিছু অংশ স্বীকার করা ও কিছু অংশ প্রত্যাখ্যান করা যাবে না। যেমন দেশের কোনো নাগরিক যদি দেশের কোনো আইন মান্য করে এবং বাকি আইন প্রত্যাখ্যান করে, সে হবে দেশদ্রোহী, তেমনি কেউ যদি আল্লাহর কিছু আইন মান্য করে ও কিছু আইন প্রত্যাখ্যান করে, সে ইসলামের গণ্ডি থেকে বেরিয়ে যায়।

ইসলাম একটি সৌহার্দøপূর্ণ শান্তির সমাজ গঠন করতে চায়। অতএব ব্যক্তি, সমাজ ও দেশের শান্তি, মঙ্গল ও কল্যাণের জন্য সামগ্রিকভাবে ইসলামি বিধান গ্রহণ করতে হবে। অন্যথায় আংশিকভাবে আনুগত্য করে কেউ যদি কুরআনের বাকি অংশ প্রত্যাখ্যান করে সে কাফির হয়ে যায়। তবে কেউ যদি কুরআনের সবটুকুর ওপর ঈমান আনে কোনো অংশ প্রত্যাখ্যান না করে, কিন্তু ইসলামি সমাজ ব্যবস্থা না থাকায় কিংবা ঈমানি দুর্বলতার কারণে সবটুকু পালনে সমর্থ না হয়, তাহলে সে কাফির হবে না। সে হবে পাপী ও অপরাধী।

সূরা নিসায় ১১ নম্বর আয়াতে আল্লাহ পাক বলেছেন, ‘তোমাদের সন্তানদের ব্যাপারে আল্লাহ নির্দেশ দিয়েছেন পুরুষের অংশ দুটি মেয়ের সমান।’ এর বিরোধিতা করলে আল্লাহর নির্দেশ সরাসরি লঙ্ঘন করা হবে। উল্লেখ্য, যদিও মেয়েরা পিতার সম্পত্তিতে অর্ধেক পায়, কিন্তু স্বামীর সম্পত্তির অধিকার মোহরানা সব মিলিয়ে সে অনেক বেশি পায়। উপরন্তু স্বামীর ওপর স্ত্রীর ভরণ-পোষণের দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে। অপর দিকে স্বেচ্ছায় দান করা ছাড়া স্ত্রীর উপার্জনে স্বামীর কোনো অধিকার নেই। মোট কথা ইসলামি জীবনব্যবস্থায় আল্লাহ পাক নারীর কোনো ব্যয়ের খাত রাখেননি। অর্থাৎ কারো ভরণ-পোষণের দায়িত্ব বহন করতে বাধ্য নয়। উপরন্তু সূরা আন নিসার ৪ নম্বর আয়াতের নির্দেশ নারীদের তাদের মোহরানা আবশ্যিকভাবে দিয়ে দাও।

ইসলাম একমাত্র জীবনবিধান যেখানে নারী ও পুরুষের অধিকার সর্বোত্তমভাবে সংরক্ষণ করা হয়েছে। মহান আল্লাহ মানুষের জন্য যে জীবনবিধান দিয়েছেন, তা পুরো সামঞ্জস্যপূর্ণ। অতএব আল্লাহর বিধানের সরাসরি প্রত্যাখ্যান করার মতো ধৃষ্টতা না দেখিয়ে, আল্লাহর পক্ষ থেকে সম্পত্তি বণ্টনের কম-বেশি বিষয়টির যৌক্তিক কৌতূহল মেটানোর জন্য সূরা মোহাম্মদের ২৪ নম্বর আয়াতের তাৎপর্য উদঘাটনের আহ্বান জানাচ্ছি। আল্লাহ পাক বলেছেন, ‘ তারা কি কুরআন সম্পর্কে চিন্তা-গবেষণা করেনি? না, তাদের দিলসমূহে তালা পড়ে গেছে?’ এতে আল্লাহর ওপর নিজেকে সম্পূর্ণরূপে সমর্থন করার মানসিকতা সৃষ্টি হবে এবং কুরআন চর্চা গবেষণা না করার দরুন, কুরআনিক জ্ঞানের অজ্ঞতার দরুন আমাদের মধ্যে যারা কুরআনিক আইন উল্টে ফেলে আল্লাহর সরাসরি নির্দেশ লঙ্ঘন করে কাফির হতে চলেছেন, তারাও কাফির হওয়া থেকে বেঁচে যাবেন এবং ধর্মবিশ্বাসী, ধর্মপ্রাণ কোটি কোটি মুসলমানও কুফরি আইন মানতে বাধ্য হওয়া থেকে বেঁচে যাবেন। উল্লেখ্য, কাফির আরবি শব্দ, যা কুফর থেকে এসেছে। কুফর মানে অস্বীকার করা। কাফির মানে অস্বীকারকারী। মোট কথা আমরা মুসলমান হয়েও কুফরি নীতি অবলম্বন করতে মোটেও দ্বিধা করছি না। সমাজে এ দুরবস্থা কেবল মানুষ কুরআন থেকে দূরে সরে যাওয়ার জন্য।

এমনিতে দেশ ও জনগণ ক্ষুধা, সন্ত্রাস, মাদকাসক্ত, খুনখারাবি, ধর্ষণ, নির্যাতনের বিড়ম্বনায় জর্জরিত। যেখানে কুরআনের ধারক-বাহক মুসলমান, আমরা সেখানে কুরআনিক আইন পরিবর্তন করে আল্লাহর আইন লঙ্ঘনের মতো গজব কেন ডেকে আনছি? কুরআনিক আইন নারীদের মহা সম্মান ও মহা মর্যাদা দিয়েছে কন্যা হিসেবে, স্ত্রী হিসেবে, মা হিসেবে। যদি দুনিয়ার মানুষের গড়া বিভিন্ন পথ, মত ও ব্যবস্থাপনা নারীকে সে সম্মান না দেয়, নারীকে অধিকারবঞ্চিত করে, সে জন্য তো কুরআনিক আইন দায়ী নয়। দায়ী আমাদের কুরআনিক জ্ঞানের ব্যাপকতার অভাব। কুরআন চর্চা, গবেষণা ও এর বাস্তবায়নের অভাব।

অতএব আসুন, আমরা আল্লাহ তায়ালার বিধানের বিরোধিতা না করে কুরআন পড়ি, কুরআন বুঝি এবং কুরআনের বক্তব্য থেকে সঠিক শিক্ষা গ্রহণ করে সে অনুসারে জীবন গড়ি, এতেই নারীর অধিকার ও পূর্ণ মর্যাদা অর্জিত হবে। গড়ে উঠবে ক্ষুধামুক্ত, সন্ত্রাসমুক্ত সবধরনের যন্ত্রণামুক্ত, ফুলে-ফলে প্রাচুর্যে ভরা সুন্দর এক বাংলাদেশ।

 
মন্তব্য দিন

Posted by চালু করুন ফেব্রুয়ারি 28, 2011 in ইসলাম

 

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

 
%d bloggers like this: