RSS

মাছ ও মাছের তেল

03 Mar

সমুদ্রের ধারে কিংবা নদীর তীরের অধিবাসীদের মাছ খুবই প্রিয় আহার। জাপান এবং ভারতের জনগণের খাদ্য তালিকায় মাছ একটি বিরাট অংশ জুড়ে রয়েছে। মাছের স্বাদ নির্ভর করে তার উৎপত্তিস্থলের উপর। এ কারণে নোনা পানির মাছ ও মিঠা পানির মাছের স্বাদে তারতম্য হয়।
মাছের ক্যালরি নির্ভর করে তার চর্বির মাত্রার উপর। এই মাত্রা আবার ঋতু বিশেষে কমবেশি হয়ে থাকে। মাছের ডিম পাড়ার সময় হলে মাছের তেল বাড়ে, তখন ক্যালরিও বেড়ে যায়। মাছে উচ্চ জৈবমূল্যের প্রোটিন রয়েছে শতকরা ১৬-২০ ভাগ। মাছকে সম্পূর্ণ প্রোটিন বলা হয়। কোন কোন মাছে চর্বি বেশি থাকে। যেমন-ইলিশ মাছ। এর চর্বির পরিমাণ ১৯.৮ শতাংশ। এটা অসম্পৃক্ত চর্বি। যা হূদরোগের জন্য ভাল। ইলিশ মাছের চর্বিতে আছে ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড। যা রক্তের কোলেস্টেরলকে রক্তনালীতে জমাট বাঁধতে বাধা প্রদান করে। বরং এটা পিত্তরসকে লিভারে বহন করে নিয়ে যায়। পিত্তরস একটি গরুত্বপূর্ণ প্রাণ রাসায়নিক উপাদান। যা কিনা চর্বি জাতীয় খাবার হজম ও শোষণে অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। মাছের তেলে ভিটামিন এ ও ডি পর্যাপ্ত পরিমাণে থাকে। মার্ক, কড ও হ্যালিকাট যাদের যকৃতে এই ভিটামিন গুলো পরিমাণে বেশিই থাকে। বি-ভিটামিন ও নিকোটিনকে এসিড কাঁচা মাছে থাকলেও তা নষ্ট হয়ে যায়। সমুদ্রের মাছে থাকে প্রচুর আয়োডিন। মাছে অন্যান্য খনিজ পদার্থ যেমন-ক্যালসিয়াম, ফসফরাস ও কপার পর্যাপ্ত পরিমাণেই রয়েছে। সুতরাং ক্যালসিয়াম ও ফসফরাসের ঘাটতিতে কাঁটাসহ ছোট মাছ চিবিয়ে খেলে এ অভাব অনেকটা মিটাতে পারে। মাছের মাথায় ফসফরাস এবং ঘিলুতে রয়েছে প্রচুর কোলেস্টেরল। অনেকে মনে করেন মাছের মাথা খেলে ব্রেণ ভাল হয় বা চোখের জ্যোতি বাড়ে। এর কোন বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই।
মাছের তেলের উপকারিতা নিয়ে আজ সারা বিশ্ব সোচ্চার। ইউরোপ ও আমেরিকার চিকিৎসা জগতে বিভিন্ন সমীক্ষায় দেখা গেছে যে, মাছের তেল হূদরোগে ভাল ফল দেয়। এছাড়া এতে শরীরে উপকারী প্রতিক্রিয়া ঘটে। যেমন- প্রদাহজনিত অসুবিধা, চর্মরোগ, ব্রহ্নিয়াল অ্যাজমা, রিউম্যাটিক আর্থাইটিস এবং কোন কোন ক্যান্সারে এর ফল চমৎকার। তবে পাঙ্গাস মাছের তেল সম্পৃক্ত বলে এটি নিয়ে বেশ মতভেদ রয়েছে। এদিকে কড মাছের তেল আর্থ্রাইটিস এর ব্যথাকে কমাতে সাহায্য করে।
ড্যানিশ মেডিক্যাল টিমের এক সমীক্ষায় দেখা যায় যে, গ্রীনল্যান্ডের অধিবাসী অর্থাৎ এস্কিমোদের মাছের তেল ভক্ষণে ইসকিমিক হার্ট ডিজিজ, স্ট্রোকের ঝুঁকি। রিউম্যাটিক ও ব্রঙ্কাল অ্যাজমা কমে যায়। দেখা যায় পলি আনস্যাচুরেটেড ফ্যাটি এসিড যা মাছের তেলে পাওয়া যায়। তাই রক্তের ক্ষতিকর চর্বি লো-ডেনসিটি লাইপোপ্রোটিন এর মাত্রা কমায়।

ডাচ বৈজ্ঞানিকেরা দেখান যে, যারা প্রতিদিন অন্তত: পক্ষে ২৫ গ্রাম করেও মাছ খায়, তাদের তুলনায় যারা একেবারেই মাছ খায় না। তারা হূদরোগে বেশি আক্রান্ত হয়। মাছের তেল ধমনির মধ্যে চর্বির স্তর গঠন রোধ করে। হার্ভাড মেডিক্যাল স্কুলের গবেষকরা দেখলেন যে, মাছের তেল ক্যান্সারের বিস্তার রোধ করে। এটি প্রোস্টাগস্নাডিন নামক একটি রাসায়নিক পদার্থ গঠনে বাধা দেয়। যা ক্যান্সার বৃদ্ধির সঙ্গে জড়িত। বিভিন্ন দেশের গবেষণার ফলে এই সিদ্ধান্তে আসা যায় যে, মাছ আমাদের খাদ্য তালিকায় শুধুমাত্র প্রোটিনের অভাব মেটায় না। এটি বিভিন্ন রোগের হাত থেকে আমাদের রক্ষা করে।

 
মন্তব্য দিন

Posted by চালু করুন মার্চ 3, 2011 in সাস্থ্য

 

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

 
%d bloggers like this: